ঢাকা, সোমবার 12 September 2016 ২৮ ভাদ্র ১৪২৩, ৯ জিলহজ্ব ১৪৩৭ হিজরী
Online Edition

মুক্তাগাছার মহাদুর্যোগের নির্মাণ শৈলী খুঁটিতে দাঁড়ানো ঘর

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার ধ্বংসপ্রায় জমিদার বাড়ির শান-শওকত আজও পর্যটকদের দৃষ্টি কাড়ে। পোড়াবাড়ীর দেয়ালে জৌলুস না থাকলেও প্রবেশ পথের সুউচ্চ ফটক শক্তি পূজারী জমিদার বংশের শৌর্য বীর্যের ইতিহাস ধরে রেখেছে।
ইংরেজি ১৭ শতকের মাঝামাঝি সময়ে নির্মিত এই বিশাল বাড়িটি বাংলা ১২২৬ সালে প্রথমবার এবং ১৩০৪ সালে দ্বিতীয়বারে ভূমিকম্পে সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়। বর্তমানে পুনঃনির্মিত বাড়িটিতে ভূমিকম্প সহিষ্ণু বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য রয়েছে। বিশেষ করে ভেতরের বাড়িতে রাতে ঘুমাবার ঘরটি ইট পাথরে গড়া নয়। বিশাল আকৃতির কংক্রিটের ফাউন্ডেশনের উপর একাধিক লোহার রেলবারের খুঁটিতে দাঁড়ানো ঘরটির পাটাতন এবং টিনের তিন তলা ঘরটির সিঁড়ি কাঠের। তারের জাল মধ্যে রেখে সিমেন্টের প্রলেপ দিয়ে মাত্র দুই ইঞ্চি পুরু বেড়া ঘেরা চারদিকে সেঁটে আছে।
শোনা যায়, জাপান থেকে কারিগর এনে ঘরটি এমনভাবে নির্মাণ করা হয় যাতে প্রবল ভূমিকম্পেও এটি ভেঙে না পড়ে। চারদিক প্রসাদোপম দালান-কোঠায় ঘেরা। বিশাল সামন্ত স্থাপনার মাঝখানে এই ঘরটি বেমানান মনে হয় না। স্থানীয়রা বলেন, বাংলা ১৩০৪ সালের কোন এক বিকালে প্রবল ভূমিকম্পে বাড়িটি গুঁড়িয়ে যায়। সারারাত ভর মৃদু কম্পন অনুভূত হয়। জমিদার পরিবারের সবাই ভীত হয়ে প্রজাদের খড়ের ঘরে আশ্রয় নিয়ে রাত কাটান। এরপর বাড়িটির পুনঃনির্মাণে ভূমিকম্প থেকে নিরাপদ রাখার ব্যবস্থা করা হয়।
ময়মনসিংহের একজন ইতিহাসবিদ জানান, অধুনা বিশেষজ্ঞ মহলের ভূমিকম্প সতর্কীকরণ তথ্যেরভিত্তিতে বাংলাদেশকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে হালের নির্মিয়মাণ বাড়িগুলো তৈরিতে ভূমিকম্প সহিষ্ণু প্রযুক্তির যোগ হচ্ছে। ঐতিহ্যবাহী মুক্তাগাছার এই ভূমিকম্প নিরাপদ বাড়িটি সংরক্ষণ করা উচিত। কারণ মহাদুর্যোগে এর নির্মাণ শৈলী নিরাপদ দিক-নির্দেশনা দিতে পারে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ