ঢাকা, সোমবার 12 September 2016 ২৮ ভাদ্র ১৪২৩, ৯ জিলহজ্ব ১৪৩৭ হিজরী
Online Edition

কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় দেশের কৃষির উন্নয়ন ও কৃষি বিপ্লবের এক আলোকবর্তিকা
এক সময় যেখানে ছিল কৃষির উর্ভর জমি। আজ সেখানে কৃষি ও কৃষিভিত্তিক শিল্পের জ্ঞান-বিজ্ঞানের পাদপীঠ। দীর্ঘ ৪২ বছর ধরে সেখানে কৃষির উন্নয়ন ও কৃষিক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনার সর্বক্ষণ জ্ঞান চর্চা হচ্ছে। সেখানে প্রতিনিয়ত কৃষি ও কৃষি বিজ্ঞানের উচ্চতর শিক্ষা ও গবেষণার কাজ চলছে। দেশ-বিদেশের মাটিতে সেই পাদপীঠ থেকে অর্জিত জ্ঞানের ফসল ফলিয়েই জীবন ও জীবিকার অন্বেষণ হচ্ছে। এমন অবদানের একমাত্র দাবিদার বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। আর এটি গড়ে উঠেছে কৃষি প্রধান এলাকারই উর্বর ভূমি মোমেনশাহীতে।
গোড়ার কথা : ১৯৫৯ সালে কৃষি ও কৃষি বিজ্ঞানের সকল ক্ষেত্রে উচ্চতর শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে জাতীয় শিক্ষা কমিশন এবং খাদ্য ও কৃষি কমিশনের রিপোর্টের সুপারিশের ভিত্তিতেই বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার গোড়া পত্তন হয়। ১৯৬১ সালের ৮ জুন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা চূড়ান্ত হলে ১৮ আগস্ট অধ্যাদেশ জারি করা হয়। প্রথম পর্যায়ে ভেটেরিনারী ও কৃষি এই দু’টি অনুষদ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। প্রতিষ্ঠাতা ভাইস চ্যান্সেলর হন প্রফেসর ড. ওসমান গনি। ২৩টি শিক্ষা বিভাগ ও ৩০ জন শিক্ষক এবং ৪৪৪ জন ছাত্র-ছাত্রী নিয়ে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তীতে পশুপালন অনুষদ, কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ সমাজ বিজ্ঞান অনুষদ, কৃষি প্রকৌশল অনুষদ ও কারিগরি অনুষদ এবং মৎস্য বিজ্ঞান অনুষদ চালু করা হয়। বর্তমানে ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে গুরু দায়িত্ব পালন করছেন প্রফেসর ড. আমিরুল ইলাম।
অবস্থান : শহর থেকে তিন কিলোমিটার দূরে দক্ষিণ দিকে ব্রহ্মপুত্র নদের পশ্চিম তীরে সবুজ শ্যামল গ্রামীণ প্রান্তে ১২ শত একর জমির উপর মনোরম পরিবেশে গড়ে উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপুল ও ক্রমবর্ধমান কর্মকা- পরিকল্পিতভাবে পরিচালনার জন্য রয়েছে দু’টি প্রশাসন ভবন, ৬টি অনুষদীয় ভবন, জিটিআই ভবন, ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র কমপ্লেক্স, ছাত্রদের লাইব্রেরি ভবন, কেন্দ্রীয় গবেষণাগার, সম্প্রসারণ ভবন, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন মিলনায়তন, স্টেডিয়াম, একটি জিমনেসিয়াম, অত্যাধুনিক হাসপাতাল, প্রকল্প ভবন, বিশাল মনোরম মসজিদ, ৯টি ছাত্র-ছাত্রী হল, নির্মাণাধীন কৃষি মিউজিয়াম, ক্লাব ভবন, শিক্ষক/কর্মকর্তাদের ৬১১টি আবাসিক ইউনিট এবং উল্লেখযোগ্যসংখ্যক অফিসও প্রয়োজনীয় ভবন। ক্যাম্পাসে মনোরম পরিবেশে দুষ্প্রাপ্য বৃক্ষরাজির বিপুল সমারোহ সমৃদ্ধ একটি বোটানিকলে গার্ডেন। যা সকলের আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। জাতীয় ফলের বৃক্ষরাজি সংরক্ষণের জন্য রয়েছে বিশাল বাগান।
শিক্ষা কার্যক্রম : বর্তমানে ছয়টি অনুষদের মাধ্যমে স্নাতক পর্যায়ে এবং উচ্চ শিক্ষা কমিটির মাধ্যমে এমএস ও পিএইচডি পর্যায়ে কোর্স প্রদান করা হয়ে থাকে। স্নাতক পর্যায়ের ছয়টি অনুষদের মোট ৪৩টি বিভাগ রয়েছে। এখানে উল্লেখ্য, দেশের মধ্যে একমাত্র বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়েই কৃষি প্রকৌশল ও কারিগরি অনুষদ এবং কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ সমাজ বিজ্ঞান অনুষদ রয়েছে। শিক্ষার কার্যক্রম আরো ব্যাপকভাবে বিস্তারের লক্ষ্যে কৃষি প্রকৌশল ও কারিগরি অনুষদ বিএসসি এগ্রি ইঞ্জিনিয়ারিং ও বিএসসি ফুট ইঞ্জিনিয়ারিং-এ দুটো সার্টিফিকেট কোর্সে বিভক্ত করা হয়। তাছাড়া ২০০১-০২ শিক্ষাবর্ষ হতে সেমিস্টার সিস্টেম চালু করায় শিক্ষার গতিকে আরো আধুনিক মানসম্মত ও ত্বরাম্বিত করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় তার শিক্ষা কার্যক্রমকে আরো সম্প্রসারণ করার লক্ষ্যে ২০০০ সালে জামালপুর জেলার মেলান্দহে স্থাপন করেছে শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ফিশারিজ কলেজ।
গ্রন্থাগার : শিক্ষা কার্যক্রম বিস্তার এবং ছাত্র-ছাত্রীদের সহায়তার লক্ষ্যে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি অত্যাধুনিক গ্রন্থাগার রয়েছে। আধুনিক সুযোগ-সুবিদা সম্বলিত গ্রন্থাগারটিতে সংগ্রহকৃত ভল্যুম সংখ্যা ১,৭৯,১৮২টি। পাঠ্য পুস্তক ছাড়াও অন্যান্য পাঠ্য উপকরণ, ডাটাবেস, সিডিরম মাইক্রোফিস ও মাইক্রোফিল্ম রয়েছে। এ গ্রন্থাগারটিতে ১৯৯০ সাল থেকে ম্পিউটারের মাধ্যমে সাম্প্রতিক তথ্য সরবরাহ করা হয়ে থাকে। ২০০৩ সালের জানুয়ারি হতে ইউএসডিপির আর্থিক সহায়তা এসডিএনপি প্রকল্পের অধীনে গ্রন্থাগারে ইন্টারনেট সার্ভিস চালু করা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ