ঢাকা, সোমবার 12 September 2016 ২৮ ভাদ্র ১৪২৩, ৯ জিলহজ্ব ১৪৩৭ হিজরী
Online Edition

খুলনার নিকাহ রেজিস্ট্রারদের অবহেলায় অহরহ ঘটছে বাল্য বিবাহ

খুলনা অফিস : খুলনা জেলা ও মহানগরীতে দায়িত্বপ্রাপ্ত নিকাহ রেজিস্ট্রাররা দায়িত্বে অবহেলা করে কথিত সহকারীর মাধ্যমে বিয়ে স¤পন্ন করছেন। এ কারণে অহরহ বাল্য বিয়ের ঘটনা ঘটছে। তালিকাভুক্ত নিকাহ রেজিস্ট্রারদের রেজিস্ট্রি খাতা নিয়ে জেলা ও মহানগরীর স্ব-স্ব এলাকায় কথিত সহকারী কাজীরা দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। অস্বাভাবিক পরিবেশে অপরাধমূলক বিয়ে পড়ানো থেকে শুরু করে বাল্য বিবাহ সম্পন্ন করছেন তারা। ইতোমধ্যে এ ধরণের অভিযোগে বেশ কয়েকজন নিয়মিত মামলার আসামি ও ভ্রাম্যমাণ আদালতে জেল-জরিমানার আওতায় এসেছেন। তবুও থেমে নেই এরা, টাকা পেলেই বিয়ে সম্পন্ন করতে ব্যস্ত থাকেন। বর-কনের বিয়ের বয়সের ক্ষেত্রে কারচুপিতেও তারা সামিল থাকেন বলে অভিযোগ আছে।
খুলনা জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আইন মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত খুলনা জেলা ও মহানগরীতে মুসলিম, হিন্দু ও খ্রিস্টান  সম্প্রদায়ের জন্য মোট ৯৯ জন বিবাহ রেজিস্ট্রার/ নিবন্ধক রয়েছে। এদের মধ্যে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ডে একজন মুসলিম নিকাহ রেজিস্ট্রার, ৩/৪টি ওয়ার্ড মিলিয়ে একজন হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক রয়েছেন। খুলনা জেলায় খ্রিস্টান বিবাহ নিবন্ধক রয়েছেন মাত্র একজন।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গত ১২ আগস্ট খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গা থানাধীন নবপল্লী কমিউনিটি সেন্টারে বাল্য বিবাহ দেয়ার সময় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. নুর-ই-আলমের নেতৃত্বে অভিযানে তা বন্ধ করা হয়। এ সময় জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফেরদৌস ওয়াহিদ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে কনের বাবা আলমগীরকে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং বর মো. ইমরান ও তার পিতা শের মোহাম্মদকে এক হাজার টাকা করে জরিমানা করেন। গত ১৫ জুলাই নিকাহ রেজিস্ট্রার ছাড়াই কথিত সহকারী কাজীর উপস্থিতিতে খালিশপুর প্লাটিনাম ২নং গেট এলাকার জনৈক জাকির হোসেনের কন্যা প্লাটিনাম স্কুল পড়ুয়া অস্টম শ্রেণীর ছাত্রী লাকী (১৫)’র সাথে মুজগুন্নী উত্তরপাড়ার মো. সেলিমের পুত্র সুমনের বিবাহের আগ মুহূর্তে এলাকাবাসীর সহায়তায় মানবাধিকার সংস্থা ও খালিশপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বাল্যবিবাহ বন্ধ করেন। এছাড়া উভয়পক্ষের কাছ থেকে মুচলেকা গ্রহণের মাধ্যমে সতর্ক করা হয়। গত ২২ জুলাই কেসিসি’র ২৫নং ওয়ার্ডের বসুপাড়া এতিমখানা মোড় এলাকায় পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী কুলসুম আক্তার (১৩)’র বিয়ে সম্পন্নের সময় জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মশিউর রহমান ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। এ সময় বাল্য বিবাহ নিরোধ আইনে কথিত কাজী মো. সোহরাফ হোসেন (৫২), ঘটক আবুল হোসেন (৫০) ও ছেলের (বর) বাবা মো. সেন্টু শেখ (৪০)কে ১৫ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেন।
এছাড়া মেয়ের মা কাকালী বেগম (৩২) কে এক হাজার টাকা জরিমানা  করেন। গত ৮ জানুয়ারি রাত ১২টার দিকে সোনাডাঙ্গা মডেল থানাধীন বয়রা করিম নগর এলাকায় মো. লিটু নামে এক যুবকের অস্বাভাবিক পরিবেশে অপরাধমূলক বিয়ের প্রস্তুতি চলে। এ ঘটনায় ১১ জানুয়ারি ভুক্তভোগী যুবক বাদি হয়ে ওই এলাকার নিকাহ রেজিস্ট্রারের সহকারী কথিত কাজী মো. খোকনসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন (যার নং০৮)। মূলতঃ টাকার বিনিময়ে আইনের তোয়াক্কা না করে তালিকাভুক্ত নিকাহ রেজিস্ট্রারদের কথিত সহকারী কাজীরা এ ধরণের অপরাধমূলক বিবাহ সম্পন্ন করছেন। 
এ ব্যাপারে জেলা রেজিস্ট্রার তসলিমা পারভীন জানান, সহকারী দিয়ে নিকাহ বা বিবাহ নিবন্ধন নিষিদ্ধ। তালিকাভুক্ত কোন নিকাহ ও বিবাহ নিবন্ধকের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ পেলে তা আইন মন্ত্রণালয়ে লিখিতভাবে জানানো হবে।
খুলনা’র জেলা প্রশাসক নাজমুল আহসান বলেন, বাল্য বিবাহ সমাজের জন্য একটি মারাত্মক ক্ষতিকর ব্যাধি। বিভিন্ন সময় জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ বাল্য বিবাহ প্রতিরোধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছেন।
এ অপরাধে অনেককে জেল-জরিমানা করা হচ্ছে। নিকাহ রেজিস্ট্রারদের সহকারী দিয়ে বিয়ে সম্পন্ন করার কোন বিধান নেই। জেলা প্রশাসনের অব্যাহত অভিযানে অপরাধমূলক বিবাহ সম্পন্নকালে সহকারী আটক হলে তার সাথে সংশ্লিষ্ট নিকাহ রেজিস্ট্রারদের শাস্তির আওতায় আনা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ