ঢাকা, সোমবার 12 September 2016 ২৮ ভাদ্র ১৪২৩, ৯ জিলহজ্ব ১৪৩৭ হিজরী
Online Edition

দাগনভূঞায় পল্লী বিদ্যুতের ভূতুড়ে বিল!

ফেনী সংবাদদাতা: পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি দাগনভূঞা আঞ্চলিক কার্যালয়ের ০২-৪৩২-২৭০০ হিসাবধারী মনির আহম্মদ। উপজেলার দক্ষিণ চন্ডিপুর গ্রামের খোনার বাড়ী নিবাসী তোফায়েল আহম্মদ’র পুত্র। এ গ্রাহকের জুলাই ২০১৬ বিদ্যুৎ বিল প্রস্তুত হয় ২৯ জুলাই ২০১৬ তারিখে। বিলে চলতি (জুলাই) মাসের মিটার রিডিং যাচাই’র উল্লেখিত তারিখ ২৭ জুলাই। এ গ্রাহককে সরবরাহকৃত বিলে বর্তমান রিডিং ১৫২৫ উল্লেখ থাকলেও বিদ্যুৎ বিল হাতে পাওয়ার পর (০৪ আগস্ট) পর্যন্ত এ গ্রাহকের মিটারে সর্বমোট রিডিং ছিল ১৪৪০ ইউনিট। পূর্ববর্তী ইউনিট (২৭/০৬/২০১৬) তারিখে ১৩৪০। ব্যবহৃত ইউনিট ১৮৫। প্রকৃতপক্ষে এ গ্রাহকের ব্যবহৃত ইউনিট ১০০ অথবা তারও কম হওয়ার কথা থাকলেও লিখা হয়েছে ১৮৫ ইউনিট। এতে করে এ গ্রাহককে গুণতে হচ্ছে কমপক্ষে আরো ৮৫ ইউনিট বেশি বিদ্যুতের বিল। প্রকৃত ব্যবহৃত ইউনিট হিসেবে এ গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিল ৫০০ টাকার কম হওয়ার কথা থাকলেও তাকে পরিশোধ করতে হচ্ছে ৯২৯ টাকা। এমন অসঙ্গতি লাঘবে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আঞ্চলিক কার্যালয়ে যোগাযোগ করলে পরবর্তী মাসে সমন্বয়ের কথা বলে ফিরিয়ে দেয়া ছাড়া আর কোন সুফল পাননি গ্রাহক মনির।
সরেজমিনে ঘুরে অভিযোগ পাওয়া যায়, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি’র মিটার রিডারদের স্বেচ্ছাচারিতা ও দায়িত্বহীনতার। যে কারণে অর্থনৈতিক ও মানসিক হয়রানির শিকার হচ্ছেন সাধারণ বিদ্যুৎ গ্রাহকরা। হাতে নাতে এমন তথ্য মিললেও বেশিরভাগ সময় অভিযোগ উড়িয়ে দেন সংশ্লিষ্টরা। বাধ্য হয়ে কোনো গ্রাহকের অভিযোগ নিলেও নয়-ছয় করে বুঝিয়ে দেন অথবা নামে মাত্র গ্রাহকের বাড়ীতে তদন্তের জন্য টিম পাঠিয়েই দায়িত্ব এড়িয়ে যান। এমন স্বেচ্ছাচারিতা এখানকার নিত্য ঘটনা।
এছাড়াও সমিতির অভিযোগ কেন্দ্রগুলোর যোগাযোগের জন্য দেয়া মুঠোফোনগুলো নিয়মিত বন্ধ পাওয়া যায়। মাঝে-মধ্যে কল গেলেও কেউ রিসিভ করেননা মর্মে অভিযোগ অনেকের। এমনি আরেকটি অভিযোগ নিয়ে ইয়াকুবপুর গ্রামের এক হিসাবধারী’র প্রতিনিধি অভিযোগ করলে তার অভিযোগ তদন্তে পাঠানো হয় মিটার রিডার। তদন্ত  শেষে মিটার রিডার এ গ্রাহককে পরামর্শ দেন মিটার পরিবর্তনের। সঙ্গে এক গাদা টাকা আর নানা বিধির সতর্কতা।
অভিযোগ রয়েছে মিটার স্থানান্তর, নতুন মিটার প্রাপ্তিসহ নানা কার্যক্রমে ধীরগতি ও হয়রানির।
অন্যদিকে বিদ্যুৎ বিলের বিপরীত পৃষ্ঠায় সমিতি’র ১০টি সাধারণ বিধিতে কোথাও মিটার ভাড়া সংক্রান্ত কোন বিধির উল্লেখ না থাকলেও প্রতি মাসেই গ্রাহক প্রতি ১০ টাকা হারে মিটার ভাড়ার নামে কেটে নেয়া হচ্ছে। অথচ সমিতির সকল নিয়ম-কানুন মেনে নির্দিষ্ট হারে সংযোগের টাকা পরিশোধ করে গ্রাহক মিটারের স্থায়ী অনুমোদন পান। অবশ্য এ ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের দাবী মিটারের মালিকানা বিআরইবি’র।
এদিকে অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বেচ্ছাচারিতায় মিটার প্রত্যাশীদের ভোগান্তির শেষ নেই। একটি বাণিজ্যিক ও আবাসিক মিটার’র অনুমোদনের জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হচ্ছে গ্রাহকদের। মাত্র ৮৫০ টাকা কিংবা ৯৫০ টাকার বিনিময়ে যে মিটার পাওয়ার কথা তা পেতে মিটার প্রত্যাশীকে দিতে হচ্ছে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা। তবুও দেখা নেই মিটারের।
অভিযোগটি জানালেন একাধিক মিটার প্রত্যাশী। অন্যদিকে কোনো গ্রাহকের নড়বড়ে ঘরের মিটারটি অন্যত্র স্থানান্তরেও রয়েছে জটিল বিধি-বিধানের বিড়ম্বনা, বিআরইবি’র খবরদারিতে গ্রাহকরা হতাশ। কর্মকর্তা কর্মচারীরা গ্রাহকদের  দেখিয়ে বেড়ান মামলা মোকদ্দমার ভয়।
দাগনভূঞা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে দালালদের দৌরাত্ম্য সেখানকার পরিবেশ বদলে দিয়েছে। কোন গ্রাহকই তাদের চোখ এড়িয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের টেবিলে যাওয়ার সুযোগ পাননা। শুধু তাই নয় এ অফিসের অধিনস্থ অস্থায়ী লেবাররাও জড়িত মিটার প্রসেসসহ অফিসের নানা রকম অনৈতিক কর্মকান্ডে। টাকা ছাড়া এক সুতোও নড়েনা এখানকার মিটার আবেদন ও অন্যান্য ফাইল। কোন ভাবে একজন গ্রাহক দালালদের চোখ এড়িয়ে এক টেবিলে গেলেই অন্য  টেবিল দেখিয়ে তাদের গতিপথ বদলে দেয় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এতে করে সংশ্লিষ্ট বিভাগ পরিণত হয়েছে দুর্নীতির আখড়ায়।
দাগনভূঞা আঞ্চলিক কার্যালয়ের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) সরোয়ার জাহান বলেন, মানুষ মাত্রই ভুল, অভিযোগ পেলে পরবর্তী মাসের বিদ্যুৎ বিলে সমন্বয় করার সুযোগ রয়েছে; আর দুর্নীতি রোধে আইনগত ব্যবস্থাতো রয়েছেই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ