ঢাকা, সোমবার 12 September 2016 ২৮ ভাদ্র ১৪২৩, ৯ জিলহজ্ব ১৪৩৭ হিজরী
Online Edition

নানা অনিয়মের মধ্যে চলছে সরকারি হরগঙ্গা কলেজের আবাসিক হল

মুন্সীগঞ্জ সংবাদদাতা: মুন্সীগঞ্জ জেলার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্র্রতিষ্ঠান সরকারী হরগঙ্গা কলেজ। যার সূচনা হয় ১৯৩৮ সালে আশুতোষ গাঙ্গুলির হাত ধরে। হারাধন গাঙ্গুলি ও তার স্ত্রীর গঙ্গামনির নামের সাথে মিল রেখে শিক্ষানুরাগী আশুতোষ গাঙ্গুলি ১৯৩৮ সালে সরকারি হরগঙ্গা কলেজ প্র্রতিষ্ঠা করেন। এই প্র্রতিষ্ঠানে রয়েছে প্র্রায় ৯ হাজার ছাত্রছাত্রীর শিক্ষা ব্যবস্থা। কলেজটিতে ভর্তির সময় এলে সরকার দলীয় নেতা কর্মীরা শিক্ষকদের জিম্মি করে নিজস্বভাবে ভর্তি কার্যক্রম চালায়। ফলে ছাত্রছাত্রীদের গুনতে হয় অতিরিক্ত টাকা। কলেজের কয়েকজন শিক্ষকের যোগসাজশেই ভর্তি বাণিজ্য করা হয় বলে ছাত্র-ছাত্রীরা অভিযোগ করেছে। ইতিমধ্যে শিওরক্যাশের রমরমা বাণিজ্যের সাথেও জড়িয়ে পড়ছেন কলেজটির কর্তাব্যক্তি নামধারী শিক্ষকগণ। ভর্তি বাণিজ্যের আশংকা করছে অভিভাবক মহল ও শিক্ষার্থীরা।  
২০০৮ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত শহীদ জিয়াউর রহমান ছাত্রাবাসটি ভাল চললেও এখন এর করুণ অবস্থা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে ছাত্রদের থাকার জন্য ছাত্রাবাসের অবস্থাও এখন শোচনীয়। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, গুমোট হলরুম, নোংরা ওয়াশরুম ও বহিরাগতদের নিত্য আনা-গোনা, এবং তীব্র পানি সংকটের মধ্যেই চলছে বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ঐতিহ্যবাহী এ কলেজের ছাত্রদের ছাত্রাবাস জীবন। সরকার থেকে ছাত্রাবাসের জন্য বাজেট এলেও কাজ হচ্ছে ধীর গতিতে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কলেজ প্র্রাঙ্গণের তিন তলাবিশিষ্ট ছাত্রাবাস ২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের ১৩ তারিখে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলে ১৯৯৫ সালে প্র্রতিষ্ঠিত হওয়া শহীদ জিয়াউর রহমান ছাত্রাবাসে ছাত্ররা উঠে। এই ছাত্রাবাসের অবস্থাও এখন শোচনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। ১০০ আসনের এ ছাত্রাবাসের স্যাঁতস্যাঁতে দেয়াল, নোংরা বেসিন, তীব্র পানি সংকট, ভাঙা দরজা, নোংরা টয়লেট ও বহিরাগতদের নিত্য আনা-গোনা সব মিলিয়ে একটা নিরাপত্তাহীন ছাত্রাবাস দুর্ভোগের মধ্যে দিয়ে কাটছে শিক্ষার্থীদের জীবন। এর মধ্যে সংস্কার করার জন্য সরকার থেকে অনুদান এলেও এখন তার কাজ ধীর গতিতে হচ্ছে এবং শহীদ জিয়াউর রহমান ছাত্রাবাসে মাদকের প্র্রভাব বিস্তার পাচ্ছে। এদিকে ছাত্রাবাসে নিরাপত্তা ও পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় ময়মনসিংহ, চাঁদপুর, শরীয়তপ্রুর, মাদারীপুর, ফরিদপুর, নারায়ণগঞ্জ, গোপালগঞ্জ, কুমিল্লা, নোয়াখালী, বরিশালসহ অন্যান্য জেলা থেকে এই কলেজে পড়তে আসা ছাত্রদের বাধ্য হয়ে থাকতে হচ্ছে মেসে। এতে তাদের গুনতে হচ্ছে বাড়তি খরচ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ