ঢাকা, সোমবার 12 September 2016 ২৮ ভাদ্র ১৪২৩, ৯ জিলহজ্ব ১৪৩৭ হিজরী
Online Edition

বানে ভেসে গেছে ভবদহ পাড়ের কয়েক লাখ পরিবারের ঈদ আনন্দ

আব্দুর রাজ্জাক রানা, ভবদহ দুর্গত এলাকা থেকে ফিরে : একদিন বাদেই ঈদ। অনেক আশা ছিল বাড়ি ফিরে এলাকার প্রতিবেশী, নিকটজন ও আত্মীয় স্বজনদের সাথে ছেলে-মেয়েদের নিয়ে সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করে ঈদের নামায আদায় করবো। কিন্তু আমাদের সেই আশা আর পূরণ হলো না। শেষ পর্যন্ত আমাদের ভাগ্যে কি আছে, তাও জানা নেই। ভবদহ পাড়ের বন্যাকবলিত বাড়ি-ঘর ফেলে বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে ও রাস্তার পাশে টোং বেঁধে দীর্ঘ এক মাস আশ্রয় নেয়া হাজার হাজার বানভাসী মানুষ কান্না জড়িত কন্ঠে এসব কথা বলছেন। এছাড়া তাদের সাথে আশ্রয় নেয়া মানুষদের মধ্যে বন্যার পানিতে ডুবে, সাপের কামড়ে এবং দেয়াল চাপা পড়ে ১৮ জনের মৃত্যুতে তাদের পরিবারে রয়েছে স্বজন হারানো শোকের মাতম।
অভিযোগ রয়েছে, পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট দুর্নীতিবাজদের শত শত কোটি টাকা, লোপাটের কারণে সঠিকভাবে সরকারের টিআরএম প্রকল্প বাস্তবায়ন না হওয়ায় প্রতি বছর ভবদহের জলাবদ্ধতার কবলে পড়তে হয় মণিরামপুর, কেশবপুর ও অভয়নগর এবং খুলনার ডুমুরিয়া ও ফুলতলার মানুষদের। এরই ধারাবাহিকতায় গত এক মাস আগে মনিরামপুর উপজেলার শ্যামকুড়, হরিদাসকাটি, কুলটিয়া, ঢাকুরিয়া, নেহালপুর, মনোহরপুর, দুর্বাডাঙ্গা, খানপুর, চালুয়াহাটি, মশ্মিমনগর ও ঝাঁপা ইউনিয়নের প্রায় দেড় লক্ষ মানুষ বন্যার কবলে পড়ে। এর মধ্যে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন শ্যামকুড়, কুলটিয়া ও হরিদাসকাটি ইউনিয়নের প্রায় সব গ্রামের মানুষ।
এসব বানভাসীদের দাবি, সরকারিভাবে তেমন কোন সহযোগিতা বা ত্রাণ সামগ্রী এখানো পর্যন্ত পায়নি। ব্যক্তি প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন বে-সরকারি সংস্থাসহ রাজনৈতিক দলের ব্যানারে পর্যায়ক্রমে বানভাসী হাজার হাজার মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছে। তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল। ফলে তারা অমানবিক জীবন যাপন করছে। ঘর-বাড়ি ছেড়ে আসা মানুষের ভরসা ছিল কয়েকদিন পার হলে সরকারিভাবে এবং অন্যান্য উদ্যোগে তারা বাড়িতে ফিরতে পারবে, তাই যে যা দিয়েছে বাঁচার তাগিদে তা গ্রহণ করেছে। কিন্তু এখন তাদের আহাজারী কোন ত্রাণের দরকার নেই, বাড়ি-ঘরের মধ্য থেকে পানি সরিয়ে তাদেরকে রক্ষা করতে হবে। বানভাসীদের কষ্ট আর গণদাবি রক্ষায় স্থানীয় এমপিসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে মণিরামপুরকে সরকারি ভাবে বন্যা দুর্গত এলাকা ঘোষণার দাবিতে মানববন্ধন-সমাবেশসহ নানা কর্মসূচি পালন করা হয়। কিন্তু এখনো কোন ঘোষণা আসেনি সরকার থেকে। তবে কয়েকদিন আগে পানি সরানোর জন্য উপজেলা ভবদহ অঞ্চলে একটি স্কেভেটর মেশিন আনা হয়।
এ বিষয়ে বানভাসী মানুষসহ এলাকার অনেকের অভিযোগ শুধুমাত্র লোক দেখানো ওই স্কেভেটর মেশিন এনে উদ্বোধন করা হলেও এক ইঞ্চি পানি সরেনি কোন বাড়িঘর থেকে। শুধু মনিরামপুর নয় পাশ্ববর্তী কেশবপুর, অভয়নগর এবং খুলনার ডুমুরিয়া ও ফুলতলা উপজেলার আংশিক এলাকার মানুষ একইভাবে বন্যার কবলে পড়েছেন। এ অঞ্চলের ২৭ বিল এবং কপোতাক্ষসহ বিভিন্ন নদ-নদীতে সঠিকভাবে খননের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশন না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে ভবদহের নাম হয়েছে লক্ষ লক্ষ মানুষের মরণফাঁদ ও বিষফোঁড়া।
জনগণের অভিযোগ সরকারের শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ করার লক্ষে সংশ্লিষ্ট দুর্নীতিবাজরা সঠিকভাবে টিআরএম প্রকল্পের নকশাসহ কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। ফলে প্রায় প্রতি বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে মণিরামপুরসহ পাঁচ উপজেলার লক্ষ লক্ষ মানুষ বন্যার কবলে পড়ে। জনগণের দাবি যদি সেনাবাহিনীর অধীনে উক্ত প্রকল্প তৈরি কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় তা হলেই বার বার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া লক্ষ লক্ষ মানুষ মুক্তির রাস্তা খুঁজে পেতেন।
মণিরামপুর উপজেলার মানবেতর জীবন-যাপনকারী বানভাসী মানুষের মতে, মাত্র এক দিন বাদেই ঈদ-উল আযহা। কিন্তু নিজ এলাকায় ফিরে ছেলে-মেয়েদের নিয়ে ঈদের আনন্দ গ্রহণ করা তাদের পক্ষে আর সম্ভব নয়। এক প্রকারে তাদের সব কিছু শেষ হয়ে গেছে। মাঠের হাজার হাজার হেক্টর জমির ফসল, ঘর-বাড়ি, মাছের ঘের ও পুকুর শেষ হওয়ার পাশাপাশি এ পর্যন্ত ১৮ জন স্বজন হারিয়েছে বানভাসী মানুষেরা। ফলে তাদের মানবেতর জীবন-যাপনের পাশাপাশি আশ্রয় কেন্দ্রে ও রাস্তার পাশে টোং বেঁধে থাকা মানুষের মধ্যে চলছে স্বজন হারানো শোকের মাতম।
ভৈরব থেকে হরিনদী, মাঝে দীর্ঘ কিলোমিটার খাল-বিল-বাওড়-জনপদ, যেন এক বিরানভূমি! বিশাল বিস্তৃত জলরাশি পাঁচ লাখ লোকের আহার, বিহার কেড়ে নিয়েছে। সংহার করছে প্রাণ, বধ করছে কৃষি আর কৃষকের সুখ শান্তি সমৃদ্ধি। পরিবেশ ভবদহ এলাকার মানুষের মনে ক্ষোভ দানা বেঁধে উঠছে, প্রতিবাদের আগুনে জ্বলছে।
ঘরে ফেরাই হবে কেশবপুরের পানিবন্দী লক্ষাধিক মানুষের ঈদ আনন্দ : টানা এক মাস অতিবাহিত হলেও ভবদহ অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির তেমন কোন উন্নতি হয়নি। ফলে কেশবপুরের পানিবন্দী লক্ষাধিক মানুষের কবে ঘরে ফেরা হবে এ নিয়ে তারা রয়েছে অজানা শঙ্কার মধ্যে। কবে ঈদ হবে এ নিয়ে তাদের বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই! ঘরে ফেরাই হবে তাদের ঈদ আনন্দ। এমনই অভিমত বানভাসীদের।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভদ্রা নদীর উপচে পড়া পানি অতিবৃষ্টি ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় প্রায় এক মাস আগে কেশবপুর এলাকায় বন্যার সৃষ্টি হয়। এতে উপজেলার আলতাপোল, মঙ্গলকোট, বাউশলা, পচ্চাকারা, বাজিতপুর, মজিদপুর, বালিয়াডাঙ্গা, বড়ডাঙ্গা, খতিয়াখালি, কোমরপুর, বায়শা, ছিরামপুর, চিংড়া, সাগরদাঁড়ি, হাসানপুর, পাঁজিয়া, ত্রিমোহিনী, সাতবাড়ীয়া, রামচন্দ্রপুর, মাদারডাঙ্গা, মধ্যকুল, আবাশপোল, মুলগ্রাম, রাজনগর, বাকাবর্শী, সাবদিয়া, কেশবপুর সদরসহ প্রায় একশ’ গ্রামের ১৫ হাজার পরিবারের ঘরবাড়ি ফসলী জমি মাছের ঘেরসহ রাস্তাঘাট তলিয়ে যায়। পানিবন্দী হয়ে পড়ে লক্ষাধিক মানুষ। যার কোন উন্নতি হয়নি আজও। এখনও ঘরের মেঝ ও আঙ্গিনায় দেড় থেকে দুই ফুট পানি রয়েছে। বন্যার্ত মানুষেরা বাড়িঘর ছেড়ে বিভিন্ন সড়কে ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিয়েছে। কবে হবে নিজ আবাসস্থলে ফেরা তার কোন নিশ্চয়তা নেই বন্যা দুর্গত এসব আশ্রয়হীন মানুষের। অতিকষ্টে তাদের অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটছে। মাত্র একদিন পর ঈদ-উল আযহা। কিন্তু ঈদের কথা তাদের স্মরণেও নেই, আছে নিজ বাড়িতে ফিরে যাওয়ার আকাঙ্খা। এটিই হবে তাদের ঈদ আনন্দ।
সরেজমিন ঘুরে ও এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, বাড়িঘর ছেড়ে আসা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ও সড়কের উপর আশ্রয় নেয়া মানুষের মাঝে সরকারিভাবে মাত্র পাঁচ কেজি করে চাল দেয়া হয়েছে। খতিয়াখালি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বড়ডাঙ্গা ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসা ও আলতাপোলে সড়কের উপর আশ্রয় নেয়া বৃদ্ধা আকলিমা, খোদেজা বিবি, বৃদ্ধ নূর ইসলাম, আব্দুস সাত্তার, ইসহাক শেখ, মজিদ বিশ্বাসসহ অনেকেই জানান এখনও বাড়িঘরে পানি রয়েছে, কবে হবে বাড়ি ফেরা তার কোন নিশ্চয়তা নেই। ঈদ কেমন কাটবে জানিনা। তাছাড়া সরকারি তেমন কোন সাহায্য পাওয়া যায়নি।
কেশবপুর সদর ইউপি চেয়ারম্যান আলাউদ্দীন আলা জানান, দীর্ঘদিনের বন্যায় ধনী গরীব সবারই সমান অবস্থা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার শরিফ রায়হান কবির বলেছেন, বন্যার্তদের মাঝে সরকারিভাবে একশ’ মেট্রিকটন চাল ও পাঁচ লক্ষ টাকার শুকনো খাবার দেয়া হয়েছে।
এদিকে জল সরছেনা, পানিও নড়ছেনা। একথা সত্য নয়। তবে যেমনটি দ্রুত সরার কথা তেমনটি সরছেনা-নড়ছেনা। কারণটি কি? এর সদুত্তর স্বয়ং পানি বিশেষজ্ঞরাও দিতে পারলে পানির রাগ এতদিন পানি হয়ে যেত। তাই সরেজমিনে ভবদহের পানি নিষ্কাশনের বিকল্প রুট দেখতে যশোর-খুলনা মহাসড়কের আমডাঙ্গা-মহাকাল খাল ও ভৈরব নদের উৎস মুখে গেলাম। হ্যা, ভাটার টানে মহাকাল দত্তপাড়ার মধ্যদিয়ে বয়ে চলা খাল দিয়ে হুঁ হুঁ করে পানি সরে যাচ্ছে। কিন্তু প্রশস্ততার অভাবে মাত্রা কম। পর্যবেক্ষণ করলাম বাঁধাটা কোথায়? ২০০৬ সালে সাবেক এমপি এম.এম আমিন উদ্দিনের প্রচেষ্টায় এবং ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির চাপে সরকার যশোর-খুলনা মহাসড়কের উপর মহাকাল ব্রিজ ভেঙ্গে বড় করে। সেখানে স্লুইস গেটও লাগানো হয়। প্রয়োজনে বিলগুলির পানি নিষ্কাশন ও সেচ সুবিধা  দেয়া সম্ভব হয়। এ ব্রিজ থেকে ভৈরবের দূরত্ব মাত্র ৬০০ ফুট। ব্রিজ সংলগ্ন উৎসমুখ ৬০ ফুট, তারপর ভৈরব মুখী খালের কোথাও ৫০ ফুট, কোথাও ৩০ ফুট। আবার সড়কের ব্রিজ থেকে রেল লাইনের ব্রিজ পর্যন্ত প্রশস্ততা ৫০ ফুট হলেও যত পশ্চিমে বিলমুখী হলে দেখা গেল প্রশস্ততা  যথাক্রমে, ৩০ ফুট, ২০ ফুট, ১৫ ফুট, ১০ ফুট। মজুমদারের মিলের ব্রিজটি ছোট, ১০ ফুট প্রশস্ততার মধ্য দিয়ে পানি অপসারিত হয়। এরই অনতিদূরে আমডাঙ্গামুখী ব্রিজ,  মাত্র ১০ ফুট চওড়া। মাত্র ১০ ফুট ব্রিজের তলদেশ দিয়ে পানি দ্রুত সরানো অসম্ভব। এরপর আছে আমডাঙ্গা ও বালিয়াডাঙ্গা গ্রামে বাশের পাটা দিয়ে পানি প্রবাহ আটকানোর ব্যবস্থা।
 নওয়াপাড়া পৌরসভার প্যানেল মেয়র রবিন অধিকারী ব্যাচা ইতোমধ্যে জনসাধারণের দাবির মুখে মজুমদারের অপ্রশস্ত খালের পাশে রাস্তা কেটে পানি সরানোর ব্যবস্থা করেছেন। কিন্তু ব্রিজের ওয়ালে পানি বাঁধা পাওয়ায় পানির বেগ বৃদ্ধি পাচ্ছেনা। এ ব্রিজ ভেঙ্গে কমপক্ষে ৩০ ফুট প্রশস্ত ব্রিজ বানালে এবং খালের সকল অংশ ৫০ ফুট প্রশস্ত করতে পারলে পানি প্রবাহ বৃদ্ধি পাবে। এরজন্য কিছু জমি অধিগ্রহণ প্রয়োজন হতে পারে। আবার ভৈরবমুখে কয়েকটি কাঠ, বাঁশ, তক্তা দিয়ে অস্থায়ী ব্রিজ করা হয়েছে এ খালটির উপর।  মোট চারটি কাঠের বাঁশের ব্রিজের মধ্যে এখন দু’টি ব্রিজ আছে। এ দু’টি ব্রিজের নীচে কমপক্ষে ৩০০ বাাঁশের খুটা, পিলার রয়েছে, যার জন্য পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এগুলি যত দ্রুত সরিয়ে বাঁধাহীন ব্রিজ করা সম্ভব হবে, তত দ্রুত পানি সরবে।
অপরদিকে পানির চাপ বুদ্ধি পাওয়ায় শতাধিক পরিবারের খাল সংলগ্ন জমি বাড়ির অংশ বিশেষ নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। তাদের বাড়িতে যাওয়ার রাস্তা ও বাঁশের সাকো পানি অপসারণের আরো একটি বাাঁধা।  বলেডাঙ্গার একটি কালভার্ট, একাধিক মালিকের দীর্ঘ পাটা, বাঁশের সাঁকো অপসারণ পূর্বক ব্রিজের প্রশস্ততা বাড়াতে পারলে ভবদহের বিকল্প পানি সরানোর চ্যানেল সচল হবে। আর রাজাপুরের নিকটে দেড় কিলোমিটার খাল জমি অধিগ্রহণের মাধ্যমে পুন: খনন করলে  শতভাগ পানি সরানো সম্ভব। মোট ২৭টি বিলের মধ্যে ১৫টি বিলের পানি মহাকাল আমডাঙ্গা খাল দিয়ে ভৈরব নদে পড়বে। বিকল্প এ ভাবনাটি যত দ্রুত বাস্তবায়ন সম্ভব,ততই দ্রুত বিলের পানি বেরিয়ে যাবে নদে। এর ফলে পানি বন্দি  পাঁচ লাখ  মানুষের মুক্তি সম্ভবপর হবে। শুধু ভবদহের হরিনদীর পলি অপসারণের উপর ভরসা করে ২৭ বিলের পানি সরানো অসম্ভব ব্যপার। অথচ সবাই উন্মুখ হয়ে বসে আছে,ভবদহ দিয়ে পানি সরানোর আক্ষেপ করছে। বিকল্প রুট প্রশস্ত করার ভাবনাকে পরিকল্পনায় আনছেন না।
বানভাসীদের মাঝে বিএনপি’র ত্রাণ বিতরণ : কেশবপুরের বানভাসী সহস্রাধিক পরিবারের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেছে খুলনা  জেলা বিএনপি। শনিবার দুপুরে  আলতাপোল মাধ্যমিক বিদ্যালয়, যশোর সাতক্ষীরা সড়কের টং ঘর, কেশবপুর পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় ও আলতাপোল ব্রীজের উপর বসবাসকারি বানভাসীদের মধ্যে ত্রাণ সহায়তা হিসেবে চাল, ডাল, আলু, সেমাই ও চিনি বিতরণ করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট এস. এম শফিকুল আলম মনা, বিএনপি নেতা আমীর এজাজ খান, মনিরুজ্জামান মিন্টু, সাবেক এমপি ড. কাজী আব্দুল হক, বিএনপি’র কেন্দ্রীয়  নেতা কেশবপুর থানা সভাপতি আবুল হোসেন আজাদ, জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি ও মজিদপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবু বকর আবু, আব্দুর রশিদ, ডুমুরিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান খান আলী  মুনসুর, আবু হোসেন বাবু, কেশবপুর পৌর শাখার সভাপতি সাবেক মেয়র আব্দুস সামাদ বিশ্বাস, কেশবপুর পৌর কাউন্সিলর মশিয়ার রহমান, পৌর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক কেশবপুর সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন আলা, সাবেক কাউন্সিলর কুতুব উদ্দিন বিশ্বাস, মোকারম হোসেন, থানা যুবদল নেতা আলমগীর সিদ্দিকী, শেখ শহিদুল ইসলাম, আবু নাইম, সামসুল আলম বুলবুল, আব্দুল হালিম অটল, আব্দুল গফুর, থানা ছাত্রদলের সভাপতি তরিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান শিপন, ছাত্রদল নেতা বাবুল রানা, জাহাঙ্গির হোসেন, ফারুক হোসেন খান, ফরিদ উদ্দিন প্রমুখ।
খুলনা জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট এস এম শফিকুল ইসলাম মনা বানভাসীদের উদ্দেশ্যে বলেন, বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলামের আহ্বানে খুলনা জেলা বিএনপি’র উদ্যোগে দুর্গত মানুষের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হলো। অপরদিকে কেশবপুর থানা ও পৌর বিএনপি’র উদ্যোগে বন্যার্তদের মাঝে তৃতীয় দফা ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ