ঢাকা, সোমবার 12 September 2016 ২৮ ভাদ্র ১৪২৩, ৯ জিলহজ্ব ১৪৩৭ হিজরী
Online Edition

চিরচেনা দৃশ্য হারিয়ে রাজধানী এখন একরকম খাঁ খাঁ করছে

যানজটের রাজধানী ঢাকা মহানগরী এখন ফাঁকা। গতকাল রোববার সকাল ১১-৩০ মিনিটে ব্যস্ততম ফার্মগেট এলাকার দৃশ্য -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : রাত পোহাইলে পবিত্র ঈদুল আযহা। স্মরণকালের সবচেয়ে বড় ভোগান্তি সঙ্গী করে ঘরমুখো মানুষ নাড়ির টানে এখন বাড়ির পথে। বাড়ি যেতে ছুটছেন রাজধানীর বাস, রেল স্টেশন ও লঞ্চ টার্মিনালে। তাদের পদচারণায় জনস্রোত হয়ে মিশেছে প্রতিটি স্টেশন ও টার্মিনালে। ফলে কর্মব্যস্ত রাজধানী ঢাকা অনেকটা ফাঁকা হয়ে একরকম খাঁ খাঁ করছে।  পবিত্র ঈদুল আযহার কাউন্ট-ডাউন শুরু হয়েছে আরো আগেই। প্রিয়জনের সান্নিধ্যে ঈদ করতে কর্মব্যস্ত রাজধানীকে পিছনে ফেলে পথের অনিবার্য ঝক্কি-বিড়ম্বনা মাথায় নিয়ে প্রতি মুহূর্তে ঢাকা ছাড়ছে অসংখ্য মানুষ। গতকাল রোববার ঈদ ছুটি শুরুর তৃতীয় দিনেও সড়ক, নৌ, রেল ও আকাশ পথে স্বজনদের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছেড়েছেন প্রশাসনিক কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা অনেকে, একা কিংবা সপরিবারে। নাগরিকরা যতই বাড়িমুখী হচ্ছে, যানজট-জনজটের নগরী ঢাকা ততই ফাঁকা হচ্ছে। চিরচেনা দৃশ্য হারিয়ে দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল শহর হয়ে উঠছে সীমিত মানুষের জনপদে, রাজপথে কমে আসছে যানবাহনও। শহরত্যাগী ছাড়া পথচারীদের ভিড়ও তেমন দেখা যায়নি কোথাও।
পরিবহন সংশ্লিষ্ট ও আইনশৃঙ্খলাবাহিনী সূত্র জানায়, এই ঈদে প্রায় পৌনে এককোটি নাগরিক ঢাকা ছেড়ে গ্রামে যাবে। প্রতিদিনই বিপুল সংখ্যক নারী-পুরুষ ও শিশু রাজধানী ছাড়ছে। ঈদ শেষেই তারা আবার ঢাকায় ফিরবে চাকরি, ব্যবসা, লেখাপড়া ইত্যাদি সূত্রে। কাল মঙ্গলবার পবিত্র ঈদুল আযহা। সময় হিসেব করলে আজকের দিনটা বাকি মাত্র। ফলে ঢাকা থেকে মফস্বলমুখী যানবাহনগুলোতে যাত্রীর চাপ আরো বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। গতকাল ঢাকার প্রধান সড়কগুলোয় ছিল না গণপরিবহনের চাপ। তবে রেল স্টেশন, বাস ও লঞ্চ টার্মিনাল ঘিরে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। মতিঝিল, গুলিস্তান ও ফার্মগেটের মতো রাজধানীর ব্যস্ত এলাকাগুলো ইতোমধ্যে অনেকটাই স্বকীয়তা হারিয়েছে। বিপরীত চিত্র দেখা যায় রাজধানীর বিভিন্ন টার্মিনালগুলোতে। সেখানে খুব দ্রুতই লোক জড়ো হচ্ছে, আর ছেড়ে যাচ্ছে।
তবে যতটা দ্রুতগতিতে ছেড়ে যাওয়ার আশা করে ঘরমুখো মানুষ টার্মিনালে আসছেন, মহাসড়কে যানজটের কারণে তা আর হয়ে উঠছে না। তাই আনন্দের যাত্রার শুরুতেই যাত্রীদের একটা বড় অংশকে টার্মিনালে অপেক্ষা করতে হচ্ছে কয়েকদিন ধরে। যাত্রীদের চোখে-মুখে সড়কপথে দীর্ঘ ভ্রমণের শঙ্কা। ঈদুল আযহা উপলক্ষে ঘরমুখী মানুষের যাত্রার মূল স্রোত শুরু হয়েছে গত বৃহস্পতিবার শেষ কর্মদিবসের পরপরই। নির্বাহী আদেশে আজ রোববারও ছুটি ঘোষণা হওয়ায় টানা ছয়দিন ঈদ ছুটি পেল সরকারি চাকুরেরা।
এদিকে ফাঁকা ঢাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ফুট প্যাট্রল, মোটরসাইকেল প্যাট্রল ছাড়াও বাড়ানো হচ্ছে র‌্যাব-পুলিশের টহল। ব্যাংক ও বীমা অফিস, গরুর হাট, ঈদগাহ ময়দান, বিনোদন কেন্দ্র ও আবাসিক এলাকা ঘিরে বিশেষ গোয়েন্দা নজরদারি গড়ে তোলা হয়েছে। সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য স্থাপন করা হয়েছে অস্থায়ী পুলিশ কন্ট্রোল রুম। সরকারি চাকরিজীবীদের পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও ঈদের ছুটি শুরু হয়ে গেছে। কোনো কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কয়েক দিন আগেই ছুটি দিয়েছে। সেই হিসেবে শিক্ষার্থীরাই সবার আগে ঢাকা ছাড়তে শুরু করে। এবার তুলনামূলক আগে আগেই ছুটি হয়েছে গার্মেন্টস কর্মীদেরও। তাই ঘরে ফেরার স্রোতে দ্রুত ফাঁকা হচ্ছে ঢাকা।
ঢাকা ছেড়ে যাওয়া নগরবাসীদের অনেকেই বলেন, প্রতি বছরের মতো এবারও পরিবারের সবাই একসঙ্গে বাড়িতে যাচ্ছেন। নিজেদের বাসা-বাড়ির নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় থাকেন তারা। ফাঁকা নগরীর বিভিন্ন স্থানে ছিনতাইসহ অন্য অপরাধীদের দৌরাত্ম্য বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাছাড়া কুরবানির পশুও চুরির ঘটনা ঘটতে পারে। পুলিশের বিশেষ শাখা র‌্যাপিড একশন ব্যাটালিয়ন-র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান বলেন, ফাঁকা ঢাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রস্তুত রয়েছে র‌্যাব। বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান, পশুর হাট ও ঈদগাহ ময়দানসহ সব জায়গাতেই নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।
র‌্যাব-পুলিশ সূত্র জানায়, ঢাকা জুড়ে পুলিশের প্রায় আড়াই থেকে ৩শ’ ফুট প্যাট্রল টিম দায়িত্ব পালন করবে। পাশাপাশি প্রায় সমপরিমাণ মোবাইল টিমও নগরবাসীর নিরাপত্তায় মাঠে থাকবে। ফাঁকা বাসা-বাড়ির নিরাপত্তায় প্রয়োজন অনুযায়ী প্রতিটি থানা এলাকায় ৫ থেকে ৭টি ফুট প্যাট্রল ও সমান সংখ্যার মোবাইল টিম কাজ করবে। থাকবে র‌্যাবের বিশেষ তৎপরতা। ব্যক্তিগত উদ্যোগে যারা নিরাপত্তা বাড়িয়েছেন তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখবে র‌্যাব।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঢাকার বড় বড় ঈদগাহ ময়দান ঘিরে থাকবে বিশেষ নিরাপত্তা বলয়। নজরদারির জন্য থাকছে কোজড সার্কিট ক্যামেরা। জাতীয় ঈদগাহের প্রবেশ পথে বসানো হচ্ছে আর্চওয়ে। মেটাল ডিটেকটর দিয়ে সন্দেহভাজনদের তল্লাশি করা হবে। থাকছে পুলিশ ও র‌্যাবের অস্থায়ী কন্ট্রোল রুম। পুলিশ ও র‌্যাবের ডগ স্কোয়াড ও বোম ডিসপোজাল টিমের কাজ শুরু হবে আগে থেকেই।
এদিকে যারা ঢাকায় থাকেন তারা ঈদের ছুটিতে ভিড় জমান চিড়িয়াখানা, মিউজিয়াম, পার্ক, দর্শনীয় স্থান ও বিনোদন কেন্দ্রগুলোয়। অতিরিক্ত লোক সমাগমের কারণে যাতে এসব স্থানে নিরাপত্তা বিঘ্নিত না হয় সে ব্যাপারেও সজাগ থাকছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ