ঢাকা, সোমবার 12 September 2016 ২৮ ভাদ্র ১৪২৩, ৯ জিলহজ্ব ১৪৩৭ হিজরী
Online Edition

শেষ মুহূর্তে কুরবানির সরঞ্জামাদি কেনার ধুম

ইবরাহীম খলিল : শেষ মুহূর্তে কুরবানির পশু জবাই করার সরঞ্জাম কেনার ধুম পড়েছে। কারণ  কুরবানির পশু জবাই আর চামড়া ছাড়ানোর জন্য ধারালো আস্ত্রের প্রয়োজন হবে। তাই কুরবানির পশু কেনার পাশাপাশি গোশত কাটার প্রয়োজনীয় যন্ত্র চাপাতি, ছুরি, দা, বটি কিনতে কামারশালাতে অনেকেই ভিড় করছেন। ফলে কামারদের দম ফেলার ফুরসত নেই। কুরবানির পশুর গোশত কাটার ধারালো যন্ত্রপাতি বানানো ও শান দিতে দিন-রাত ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।
গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ঘুরে এমন দৃশ্যই দেখা গেছে। এ ছাড়া ঈদুল আজহাকে ঘিরে  তেঁতুল ও বটগাছের গুঁড়ির চাহিদাও বেড়ে যায়। তাই করাতকলগুলো থেকে কাঠের গুঁড়ি কিনে যত্রতত্র বিক্রি করা হচ্ছে। বিক্রি হচ্ছে হোগলার পাটিও। রাজধানীর খিলগাঁও কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে গিয়ে দেখা যায়, বিক্রেতারা কুরবানির সরঞ্জাম নিয়ে সারিবদ্ধভাবে বসে আছেন। তাদের কাছ থেকে গ্রাহকরা কিনে নিচ্ছেন। সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে নতুন দা, বটি, চাপাতি ও ছুরি। কেউ কেউ পুরনো যন্ত্রপাতি শান দিতে এসেছেন।
ইমরান নামে এক ক্রেতা জানান, কুরবানির পশুর গোশত কাটার জন্য ধারালো অস্ত্র জরুরি। তাই পশু কেনার পাশাপাশি দা, বটি ও ছুরি কিনে রাখলাম। ন্যায্যমূল্যে প্রয়োজনীয় এসব যন্ত্র কিনতে পেরে অনেক খুশি তিনি। কারওয়ান বাজারের কামার মন্টু মিয়া বলেন, বছরের অন্য সময়ে তেমন কাজ থাকে না। তাই এই সময়ের অপেক্ষায় থাকি। এই সময় তাদের যে বাড়তি টাকা আয় হয়, সারাবছর তার অর্ধেকও হয় না।
তিনি আরও জানান, গোশত কাটার নতুন দা ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, জবাইর জন্য ছুরি ৩৫০ থেকে ১০০০ টাকা, ছোট ছুরি ২০ থেকে ৫০ টাকা, বটি ১০০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি করছেন বলে তিনি জানান। এ ছাড়া ২০০-৩৫০ টাকায় কাঠের গুঁড়ি বিক্রি হচ্ছে বলে জানা গেছে। কামার শিল্পী সুখলাল কর্মকার বলেন, বাবা-দাদার পেশা ধরে রাখতে এই পেশায় এসেছি। বৃদ্ধ বয়সেও কাজ করে যাচ্ছি। তাদের সন্তানরা এ পেশায় আসতে রাজি নয় বলে তিনি জানান।
এদিকে কারওয়ান বাজারের কামাররা জানিয়েছেন, দেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কারণে কুরবানির সরঞ্জামাদি বিশেষ করে ধারালো অস্ত্র বিক্রির ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে ক্রেতাদের যাবতীয় তথ্য সংরক্ষণের তথ্য রেখে দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এসব মেনেই  কুরবানির পশু জবাইয়ের যন্ত্রপাতি তাদের বিক্রি করতে হচ্ছে। এর ব্যতিক্রম হলে তাদেরও জবাবদিহির আওতায় নেওয়া হবে বলে জানিয়ে গেছেন আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা।  রাজধানীর কারওয়ান বাজার ও ঠাটারি বাজারের কামারদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
গতকাল রোববার কারওয়ান বাজারের কামার পট্টিতে গিয়ে দেখা যায়, দোকানের সামনে দিয়ে  কেউ হেঁটে গেলেই দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছেন কামাররা। জাফর কর্মকার নামের একজন এই প্রতিবেদককে জানান, ঈদকে টার্গেট ধরে প্রতিবছর ৫০০ চাপাতি ও কয়েক হাজার ছোট-বড় ছুরি তৈরি করি। সঙ্গে কুড়াল, বটি তো আছেই। ঈদের ১৫ দিন আগে থেকেই ক্রেতাদের আনাগোনা শুরু হয়। ঈদ যতই ঘনিয়ে আসতে থাকে চাপও তত বাড়তে থাকে।
তবে কারওয়ান বাজারের দোকানদার মো. দুলাল মিয়া বলেন, দেশের পরিস্থিতির জন্য যে কেউ চাপাতি, ছুরি ও ধারালো অস্ত্র কিনে নিয়ে বহন করতে অস্বস্তি বোধ করছেন। এরপরও গ্রাহকরা কিনছে। কারণ প্রয়োজনতো আর বাধা মানে না। তিনি এও জানান, পুলিশের পক্ষ থেকে প্রত্যেক দোকানদারকে বিক্রির রসিদের কপিসহ ক্রেতার সব তথ্য সংগ্রহ করে রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আমরাও এসব নির্দেশনা মেনেই ব্যবসা করছি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ