ঢাকা, সোমবার 12 September 2016 ২৮ ভাদ্র ১৪২৩, ৯ জিলহজ্ব ১৪৩৭ হিজরী
Online Edition

পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে ৩ ডাকাত নিহত

সংগ্রাম ডেস্ক : পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে খুলনার সুন্দরবন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর ও আশুলিয়ায় ৩ ডাকাত নিহত হয়েছে। নিহতরা বনদস্যু ও ডাকাত বলে জানিয়েছে পুলিশ। বন্দুকযুদ্ধের পরে অস্ত্রও উদ্ধার হয়েছে। আমাদের খুলনা অফিস, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও সাভার সংবাদদাতা এ খবর জানান।
খুলনা অফিস : সুন্দরবনে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে বনদস্যু রবিউল বাহিনীর প্রধান মো. রবিউল ইসলাম গাজী (২৪) নিহত হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি টু টু বোর রাইফেল, রাইফেলের ৫ রাউন্ড গুলী, বন্দুকের তিন রাউন্ড গুলী, একটি রামদা, ১টি ছুরি, ৪টি হরিণের চামড়া এবং ২টি হরিণের শিং উদ্ধার করেছে। রোববার ভোরে খুলনার কয়রা উপজেলার সুন্দরবনের কেয়াখালী খালের পূর্ব পাড়ে এ ঘটনাটি ঘটেছে। নিহত রবিউল ইসলাম কয়রা উপজেলার মহারাজপুর গ্রামের রুহুল আমীন গাজীর ছেলে। তার বিরুদ্ধে আটটি মামলা রয়েছে।
কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ শমসের আলী বলেন, শনিবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে ৪ নম্বর কয়রাস্থ শাকবাড়িয়া নদীর লঞ্চঘাট থেকে  বনদস্যু রবিউল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তার সঙ্গে থাকা আরও দু’দস্যু পালিয়ে যায়। তারা ওই সময় লঞ্চে ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিল বলে ধারণা করছেন তিনি।
তিনি জানান, গ্রেফতারের পর সুন্দরবনের গহীনে অস্ত্র লুকানোর কথা স্বীকার করলে তাকে নিয়ে রাতেই সুন্দরবনের উদ্দেশে রওনা করা হয়। পথিমধ্যে স্থানীয় সোনামুখী নদীর পাশে কেয়াখালী খালে গেলে তাদের সহযোগিরা পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এ সময় পুলিশও পাল্টা গুলী ছুড়লে রবিউল ইসলাম ক্রস ফায়ারে পড়ে মারা যায়। তার বিরুদ্ধে কয়রা থানায় অস্ত্র আইনে ৩টি, ডাকাতি ৪টি এবং বন আইনে ১টিসহ মোট ৮টি মামলা রয়েছে। নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। রবিউল বাহিনীর ৮/১০ জন সদস্যের কাছে আরও প্রায় ৩০টি অস্ত্র রয়েছে বলেও জানান তিনি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সংবাদদাতা : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে পুলিশের সঙ্গে  বন্দুকযুদ্ধে মো. কাজল মিয়া (৩৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছে। শনিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে উপজেলার বিটঘর ইউনিয়নের আওয়ালভাঙ্গা ব্রিজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শিবপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) রেজাউল করিমসহ তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। নবীনগর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমতিয়াজ আহম্মেদ জানান, শনিবার দিবাগত মধ্যরাতে একদল সশস্ত্র ডাকাত উপজেলার বিটঘর ইউনিয়নের আওয়াল ব্রিজ এলাকার মহেশ রোডে গাছের গুঁড়ি ফেলে ব্যারিকেড সৃষ্টি করে ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এ সময় টহল পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গেলে ডাকাতরা তাদের লক্ষ্য করে গুলী চালায়। এ সময় পুলিশও পাল্টা গুলী চালায়। এতে গুলীবিদ্ধ হয়ে  কাজল মিয়া মারা যায়। এ সময় তার সাথে থাকা অন্যান্যরা পালিয়ে যাওয়ায় তাদের আটক করা সম্ভব হয়নি। তিনি আরো জানান, নিহত কাজলের বিরুদ্ধে ডাকাতির অভিযোগে থানায় ৮টি মামলা রয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি পাইপগান, দুই রাউন্ড কার্তুজ, ২টি কিরিচ ও ২টি রামদা উদ্ধার করেছে। পুলিশ তার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে। নিহত কাজল নবীনগর উপজেলার শ্রীরামপুর গ্রামের গাজী মিয়ার ছেলে।
সাভার সংবাদদাতা : আশুলিয়ায় পুলিশের সাথে কথিত বন্দুকযুদ্ধে অজ্ঞাত এক (৩২) ডাকাত নিহত হয়েছে। গতকাল রোববার ভোর রাত তিনটার দিকে আশুলিয়া ইউনিয়নের শ্রীখন্ডদিয়া এলাকায় এঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, রোববার ভোর রাতে টঙ্গাবাড়ীর শ্রীখন্ডদিয়া এলাকায় আশুলিয়া থানা পুলিশের এস আই শাহাজালাল টহল দিচ্ছিলেন। এসময় একটি রাস্তার মধ্যে পুলিশের গাড়িতে হামলা করে একদল ডাকাত। এসময় পুলিশের গুলিতে অজ্ঞাত এক ডাকাত নিহত হয়। এসময় বেশ কয়েকজন ডাকাত পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ নিহত ওই ডাকাতের লাশ তড়িঘড়ি করে উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। স্থানীয়রা জানায়, প্রত্যেকদিন ওই এলাকায় ডাকাতি চুরি ছিনতাই হয়। কিন্ত পুলিশ কোন পদক্ষেপ নেয়না। এসময় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে।
এবিষয়ে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহসিনুল কাদির ও ওসি তদন্ত আকবর আলী ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হয়নি। এদিকে এস আই শাহাজাল এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন ওসি স্যার কথা বলবে আমরা বলবো।
এ ঘটনায় আশুলিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ