ঢাকা, বৃহস্পতিবার 20 September 2018, ৫ আশ্বিন ১৪২৫, ৯ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

রিজার্ভ চুরি: দেড় কোটি ডলার ফেরতের নির্দেশ ফিলিপিনো আদালতের

অনলাইন ডেস্ক: বাংলাদেশ ব‌্যাংকের চুরি যাওয়া রিজার্ভের যে অর্থ উদ্ধার করা হয়েছে, তা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ফিলিপিন্সের একটি আদালত।

এই অঙ্কের পরিমাণ ১৫ মিলিয়ন বা দেড় কোটি ডলার (১২০ কোটি টাকা)। গত ফেব্রুয়ারিতে নিউ ইয়র্ক ফেড থেকে বাংলাদেশের রিজার্ভের ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার সরিয়ে ফিলিপিন্সের একটি ব‌্যাংকে নেওয়া হয়েছিল।

এই অর্থের অধিকাংশ জুয়ার টেবিলে চলে গেলেও তার মধ‌্যে দেড় কোটি ডলার ফিলিপিন্স উদ্ধার করেছে। ওই অর্থ বাংলাদেশকে ফেরত দিতে সোমবার আদালতের আদেশ হয়েছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে।

এই খবর আসার পর আজ সোমবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলন করে আদালতের আদেশের বিষয়টি জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) ও সহকারী মুখপাত্র এ এফ এম মোকাম্মেল হক।তিনি লোপাট হওয়া পুরো অর্থ পাওয়ারও আশা প্রকাশ করেন।

মোকাম্মেল বলেন, ‘ফিলিপাইনের রিজিওনাল ট্রায়াল কোর্ট বাজেয়াপ্ত করা ও ফিলিপাইনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে রক্ষিত ৪৬ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার ও ৪৮ কোটি ৮২ লাখ ৮০ হাজার পেসো বাংলাদেশের অনুকূলে অবমুক্ত করার আদেশ জারি করেছেন। বর্তমানে এ অর্থ ফিলিপাইনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা রয়েছে। শিগগিরই আমরা এ অর্থ ফেরত পাব। যখন অর্থ ফেরত পাওয়া যাবে, সেই সময়ের বিদ্যমান ডলার ও টাকার বিনিময় হারে আমরা অর্থ পাব। আমরা হিসাব করে দেখেছি এর পরিমাণ হবে প্রায় ১ কোটি ৫২ লাখ ৫০ হাজার ডলার।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের এই সহকারী মুখপাত্র জানান, বাংলাদেশের অর্থ ফেরত পেতে ফিলিপাইন সরকার বনাম কিম অং-এর মামলায় বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করে ফিলিপাইনের ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস।

রিজার্ভ থেকে চুরি যাওয়া বাকি অর্থ আইনি প্রক্রিয়ায় উদ্ধারের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে জানিয়ে মোকাম্মেল বলেন, ‘ফিলিপাইন সরকার ও ফিলিপাইনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক ও ফিলিপাইনে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করছে। আমরা অচিরেই সম্পূর্ণ চুরি যাওয়া অর্থ উদ্ধার করতে পারব।’

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে জানানো হয়, আদালত যে অর্থ বাংলাদেশকে ফেরত দিতে আদেশ জারি করেছে, ওই অর্থ ফিলিপাইনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভল্টে রক্ষিত আছে। নগদে ওই অর্থ জমা আছে ডলার ও পেসোতে। পেসোকে যদি ডলারে কনভার্ট করা হয়, তাহলে পেসো ও ডলার মিলিয়ে অর্থের মোট পরিমাণ হবে প্রায় ১ কোটি ৫২ লাখ ৫০ হাজার ডলার। এটিকে বর্তমান বিনিময় হারে কনভার্ট করলেই টাকার পরিমাণ পাওয়া যাবে।

কবে নাগাদ চুরির যাওয়া অর্থ ফেরত পাওয়া যাবে সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের উত্তরে জানানো হয়, কোর্ট অর্ডার অফিশিয়ালি আবেদনকারীর (ফিলিপাইনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক) কাছে যাবে। এরপর ফিলিপাইনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা থাকা অর্থ ব্যাংকিং চ্যানেলে বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে চলে আসবে। এটি কীভাবে আসবে তা দুই দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকই ঠিক করবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ