ঢাকা, বুধবার 21 November 2018, ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

লঞ্চ উদ্ধার ॥ মিলল আরও ৪ শিশুর লাশ ॥ মোট লাশ উদ্ধার ১৮

অনলাইন ডেস্ক: বরিশালের বানারীপাড়ায় সন্ধ্যা নদীতে ডুবে যাওয়া নৌযানটি উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় লঞ্চের ভেতর আরও চারটি শিশুর লাশ পাওয়া যায়। এ নিয়ে এই ঘটনায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ১৮ জনে। এখনো নিখোঁজ রয়েছে বেশ কয়েকজন।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সন্ধ্যা নদীতে ডুবন্ত লঞ্চটি বিআইডব্লিউ’র উদ্ধারকারী জাহাজ ‘নির্ভীক’ টেনে ওপরে তোলে।

নিহত চার শিশু হচ্ছে- রিয়াদ (৬), মাইশা (৪), রাব্বি (৯) ও শাফোয়ান (৩)। এদিকে কয়েকজন নিখোঁজ থাকা সত্ত্বেও সকাল সোয়া ১০টায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসেন উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করেন।

এর আগে গতকাল বুধবার বেলা ১২টার দিকে সন্ধ্যা নদীর দাসেরহাট মসজিদ বাড়ি এলাকায় ওই নৌযানটি ডুবে যায়। এ সময় নৌযানটিতে প্রায় ৫০ জন যাত্রী ছিল বলে জানা যায়। বুধবার রাত পর্যন্ত ১৪ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।



বিআউডব্লিউটিএর নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের উপপরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান উদ্ধার হওয়া ১৪ লাশের পরিচয় দিয়েছেন। তারা হলেন—বানারীপাড়ার মজিবর রহমানের স্ত্রী কহিনুর বেগম (৪০), মজিদ মাস্টারের স্ত্রী সালেহা বেগম (৬০), উজিরপুরের কেশবকাঠি এলাকার অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা আবদুর রাজ্জাক (৭৫), বানারীপাড়ার সাঈদ আলীর স্ত্রী মনোয়ারা বেগম (৪৫), প্রয়াত চান্দু মিয়ার স্ত্রী রাবেয়া বেগম (৪৫), প্রয়াত ইসমাইল মোল্লার ছেলে মুজাম্মেল মোল্লা (৬২), রহিম হাওলাদারের স্ত্রী রেহানা বেগম (৩৫), উজিরপুরের মনীন্দ্রনাথ মল্লিকের ছেলে সুখদেব মল্লিক (৩৫), বানারীপাড়ার আবুল ঘরামীর ছেলে মিলন ঘরামী (৩২), মো. সাগর মীর (১৫), উজিরপুরের সিরাজুল ইসলামের ছেলে জয়নাল হাওলাদার (৫৫), বানারীপাড়ার আবদুল মজিদের স্ত্রী ফিরোজা বেগম (৫৫), উজিরপুরের সিদ্দিকুর রহমানের মেয়েশিশু শান্তা (৭) ও স্বরূপকাঠির কামাল হোসেনের স্ত্রী হিরা বেগম।

বেঁচে যাওয়া কয়েকজন যাত্রী জানান, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বানারীপাড়া লঞ্চঘাট থেকে এমএল ঐশী নামের ওই লঞ্চটি ৪০-৫০ জন যাত্রী নিয়ে পার্শ্ববর্তী উপজেলা উজিরপুরের হাবিবপুরের উদ্দেশে যাচ্ছিল। পথে দুপুর ১২টার দিকে লঞ্চটি সন্ধ্যা নদীর ভাঙনকবলিত দাসেরহাট মজিদবাড়ী ঘাটে ভেড়ে। যাত্রী ওঠানামার একপর্যায়ে নদীতীরের একটি বিরাট অংশ ভেঙে লঞ্চের ওপর পড়লে এটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একদিকে কাত হয়ে তীব্র স্রোতে তলিয়ে যায়।

ডুবে যাওয়ার আগমুহূর্তে লঞ্চ থেকে তীরে ওঠা যাত্রী উজিরপুরের সাতলা ইউনিয়নের দক্ষিণ নয়াকান্দি গ্রামের বাসিন্দা আলেয়া বেগম জানান, ঘাটে ভেড়ার পর মাত্র সাত-আটজন যাত্রী তীরে উঠতে পেরেছে। এর পরই লঞ্চটি ডুবে যায়।

বানারীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল আহসান বলেন, এমএল ঐশী নামের ছোট আকারের লঞ্চটি বানারীপাড়া থেকে প্রায় ৫০ জন যাত্রী নিয়ে উজিরপুর উপজেলার হারতার দিকে যাচ্ছিল। পথে দাসেরহাট ঘাটে যাত্রী নামাতে গিয়ে তীরের কাছাকাছি ডুবে যায়।

মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ডুবে যাওয়া নৌযান এমএল ঐশী-২ কেনো ধরনের লঞ্চ নয়। এমএল টাইপের লঞ্চের জন্য নেয়া সার্ভে সনদ, রেজিস্ট্রেশন ও সময়সূচি নেয়ার নিয়ম রয়েছে। এসব বৈধ কোনো কাগজপত্র এমএল ঐশীর নেই। নৌযানটি অবৈধভাবে যাত্রী পরিবহন করতো। ডুবে যাওয়া নৌযান কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে বলে জানান তিনি।

বরিশালের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ড. গাজী সাইফুজ্জামান জানান, দুর্ঘটনার কারণ তদন্তে বরিশালের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসেনকে প্রধান করে নয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিনি জানান, নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে ১০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়েছে সরকারিভাবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ