ঢাকা, শুক্রবার 23 September 2016 ৮ আশ্বিন ১৪২৩, 20 জিলহজ্ব ১৪৩৭ হিজরী
Online Edition

রাজনৈতিক জীবনে কালিমা লেপনের উদ্দেশ্যেই খোকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত

স্টাফ রিপোর্টার : রাজনৈতিক জীবনে কালিমা লেপনের উদ্দেশ্যেই বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান, অবিভক্ত ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ও মন্ত্রী সাদেক হোসেন খোকার বাড়ি ও সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামছুজ্জামান দুদু। একইসাথে তিনি বর্তমান সংকটকে গুরুত্ব দিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। এসময় তিনি নির্বাচন কমিশনসহ সকল সাংবিধানিক ইনস্টিটিউশনকে বিতর্কমুক্ত রাখতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের  দেওয়া বক্তব্যকে স্বাগত জানান।
গতকাল বৃহস্পতিবার নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি একথা বলেন। 
উল্লেখ্য, গতকাল সকালে রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক  যৌথসভায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে আশরাফুল ইসলাম বলেন, নির্বাচন কমিশনসহ সকল সাংবিধানিক ইনস্টিটিউশনকে বিতর্কমুক্ত রাখতে হবে। আমরা যদি সকল প্রতিষ্ঠানকেই বিতর্কিত করি তাহলে গণতন্ত্র থাকবে না, আইন থাকবে না। তিনি বলেন, আমরা যদি হাইকোর্টকে বিতর্কিত করি, সুপ্রিম  কোর্টকে বিতর্কিত করি, নির্বাচন কমিশনকে বিতর্কিত করি, তাহলে আমরা যাব  কোথায়? আমরা যদি সকল সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে বিতর্কিত করি তাহলে সভ্যতা থাকবে না।
 সৈয়দ আশরাফের বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়ে দুদু বলেন, গণতন্ত্র পুন:প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা  সৈয়দ আশরাফ ও তার নেত্রীকে সহযোগিতা করতে চাই। জঙ্গিবাদকে  ঠেকানোর জন্য জাতীয় ঐক্য গঠনের জন্য আমরা আওয়ামী লীগের সঙ্গে কাজ করতে  চেয়েছি। আমাদের  নেত্রীও  চেয়েছেন।  সেই দিকে আমরা  সৈয়দ আশরাফের দৃষ্টি আকর্ষণ করি।
তিনি বলেন, আমরা কখনই জাতীয় অস্থিরতা পছন্দ করি না এবং অগ্রগতির জন্য অস্থিরতাকে সময় উপযোগী মনে করি না। এসময় বর্তমান সংকটকে গুরুত্ব দিয়ে সরকার অবিলম্বে বিএনপির সঙ্গে আলোচনা করে সংকট নিরসনের উদ্যোগ নিবে বলে আশা করেন বিএনপির এই নেতা। এ সময়  দেশে পরিচালনায় ব্যর্থতার দায়ভার নিয়ে সরকারকে অবিলম্বে পদত্যাগ করে নিরপেক্ষ নির্বাচনের পথ সুগম করার আহ্বান জানান শামসুজ্জামান দুদু।
বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর মামলা হামলায় উদ্বেগ প্রকাশ করে দুদু বলেন, ভোটারবিহীন আওয়ামী লীগ সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে বিরোধী দলকে নিশ্চিহ্ন করার অপ-উদ্দেশ্যে বিএনপির মহাসচিব, জাতীয় নেতৃবৃন্দসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদেও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা মামলাসহ বিভিন্নভাবে হয়রানি করছে। আওয়ামী লীগ সরকার রাজনৈতিক হীনস্বার্থ চরিতার্থ করার লক্ষ্যে তড়িঘড়ি করে বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় বিএনপির অপরাপর জাতীয় নেতৃবৃন্দের বিচার প্রক্রিয়া শুর করেছে। আমরা মনে করি সরকারের এহেন কর্মকা- রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও  দুরভীসন্ধিমূলক।
তিনি বলেন, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকার বাড় ও জমি-জমা সরকার বাজেয়াপ্ত করেছে মর্মে বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। দেশবাসীসহ আমরা লক্ষ্য করছি বিচার বিভাগকে কিভাবে প্রভাবিত করছে সরকার। বিচার বিভাগের ওপর সরকারের নগ্ন হস্তক্ষেপের বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে আমরা প্রতিবাদ জানিয়ে আসছি।
তিনি ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, সাদেক হোসেন খোকার যে সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে মূলত এত বিশাল সম্পত্তির অধিকারী তিনি নন। এটি একটি কোম্পানী । এ কোম্পানীতে ৭ জন শেয়ার হোল্ডার রয়েছেন। তিনি একটি ক্ষুদ্র অংশের মালিক মাত্র। তাছাড়া এ মামলায় তার অনুপস্থিতিতেই একতরফা রায় প্রদান করা হয়েছে।
দুদু অভিযোগ করেন, সাদেক হোসেন খোকার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে কালিমা লেপনের হীন উদ্দেশ্যেই এ রাজনৈতিক নগ্নতার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে সরকার। দেশ পরিচালনায় সরকারের সীমাহীন অযোগ্যতা ও ব্যর্থতায় দেশের আপামর জনগণের নাভিশ্বাস উঠেছে। সরকার তার দুঃশাসন-অপশাসন ঢাকতেই বিএনপি ও এর অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে নিত্যনতুন কৌশলে নির্যাতনের ফর্মুলা বাস্তবায়ন করছে।
বিএনপির পক্ষ থেকে সরকারের হিংসাশ্রয়ী কর্মকান্ডের তীব্র  নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিএনপির এই ভাইস চেয়ারম্যান বলেন,  লাগাতার দমন- নিপীড়ন বন্ধ করার আহ্বান জানাচ্ছি।  এছাড়া দেশ পরিচালনায় ব্যর্থতার দায়ভার নিয়ে অবিলম্বে পদত্যাগ করে নিরপেক্ষ নির্বাচনের পথ সুগম করার আহ্বান জানাচ্ছি।
এসময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব খায়রুল কবির  খোকন, সহ-প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন, সহসাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, শহিদুল ইসলাম বাবুল, আবদুল আওয়াল খান, সহতথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক আমিরুজ্জামান খান শিমুল প্রমুখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ