ঢাকা, শুক্রবার 23 September 2016 ৮ আশ্বিন ১৪২৩, 20 জিলহজ্ব ১৪৩৭ হিজরী
Online Edition

পাকিস্তানের নিরাপত্তা মানেই ইরানের নিরাপত্তা -হাসান রুহানি

স্টাফ রিপোর্টার : ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বলেছেন, ‘পাকিস্তানের নিরাপত্তা মানেই ইরানের নিরাপত্তা।’ গতকাল বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের এক ফাঁকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন। বিবিসি উর্দুর বরাত দিয়ে এ খবর দিয়েছে আমাদের সময়.কম।
পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট হাউস সূত্র জানায়, পাক-চীন অর্থনৈতিক প্রকল্পের জন্য নওয়াজ শরীফের প্রশংসা করেন হাসান রুহানি। পাক-চীন করিডোর প্রকল্পে ইরানের অন্তর্ভুক্তির বিষয়েও আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।
এদিকে পাকিস্তানের বিদ্যুৎ ঘাটতি কাটাতে সীমান্তে বিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপন করার কথা জানিয়ে হাসান রুহানি বলেন, পাকিস্তানের উন্নয়নে আমাদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে এবং দেশটির নিরাপত্তাকে ইরানের নিরাপত্তা বলে আমরা মনে করি।
বৈঠকে দুই দেশের শক্তি, অর্থনীতি এবং অন্যান্য বিষয়ে পরস্পরে সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা হয়।
কাশ্মীরে নৃশংসতার দলিল হস্তান্তর করলো পাকিস্তান : ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে বেসামরিক জনগণের বিরুদ্ধে ভারতের সংঘটিত নৃশংতার বিস্তারিত দলিলগুচ্ছ জাতিসংঘ মহাসচিবের কাছে হস্তান্তর করেছে পাকিস্তান।
গত বুধবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ জাতিসংঘ প্রধান বান কি মুনের হাতে এসব প্রমাণপঞ্জি তুলে দেন। অত্র অঞ্চলে ব্যাপক মাত্রায় ভারতীয় বাহিনীর সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি জাতিসংঘ প্রধানকে অবহিত করেন তিনি। পাকিস্তানের প্রভাবশালী ডন পত্রিকা এ খবর জানায়।
নওয়াজ কাশ্মীরি জনগণের সঙ্কটাপন্ন অবস্থার বিষয়টি মুনকে অবগত করেন। উপত্যকার এসব জনগণ ভারতের নৃশংসতার ভুক্তভোগী বলে উল্লেখ করেন তিনি। গত আট জুলাই সেখানকার হিজবুল মুজাহিদিন কমান্ডার বুরহান ওয়ানি ভারতীয় বাহিনীর হাতে খুন হয়। এর প্রতিবাদে ছড়িয়ে পড়া টানা সহিংস আন্দোলন যা এখনও অব্যাহত রয়েছে। কাশ্মীরে বার বার কারফিউ জারি স্বত্ত্বেও, সেখানে ভারতীয় বাহিনীর সঙ্গে সাধারণ জনগণের সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে।
পাক প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ প্রধানকে বলেন, জম্মু-কাশ্মীরে ভারতের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় গত ৭৪ দিনে শতাধিক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন হাজার হাজার।
নওয়াজ শরীফ বলেন, সেখানে নির্বিচারে ছররা বন্দুক ব্যবহার করা হচ্ছে। নারী ও শিশুসহ শত শত মানুষ অন্ধ হয়ে গেছে। এটা ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর বর্বর মানসিকতার প্রতিফলন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
নওয়াজ মুনকে আরো বলেন, ভারত বার বার কারফিউ জারি, কাশ্মীরি নেতাদের কারারুদ্ধ করার মত আগ্রাসী পদক্ষেপ অব্যাহত রেখেছে। আহতদের চিকিৎসার সুযোগ দিতে অস্বীকৃতি জানানো হচ্ছে। বিশেষত ছররা বন্দুকের গুলীতে আহত ও আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসার সুযোগ দেয়া হচ্ছে না।
বান কি মুনের হাতে যে দলিলগুচ্ছ তুলে দেয়া হয়েছে, তাতে জম্মু-কাশ্মীরে ভারতীয় বাহিনীর ছররা বন্দুকের ভুক্তভোগী কাশ্মীরিদের ছবি দেয়া হয়েছে। এসব ছবি দেখে মর্মাহত হয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব।
নওয়াজ কাশ্মীর বিষয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের যে প্রস্তাবনা রয়েছে তা ভারতকে মানাতে অবশ্যই আহবান জানাতে হবে বলে গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়া বিচার বহির্ভূত হত্যাকা-ের ঘটনায় একটি ন্বাধীন তদন্ত, জম্মু-কাশ্মীরে জাতিসংঘের সত্যানুসন্ধানী দল পাঠানোর দাবি পুনরায় ব্যক্ত করেন তিনি।
কাশ্মীরের পরিস্থিতি সম্পর্কে দৃঢ় ও সমর্থনমূলক বিবৃতি দেয়ার জন্য জাতিসংঘ প্রধানকে ধন্যবাদ জানান নওয়াজ। মুনও জাতিসংঘে পাকিস্তানের প্রসিদ্ধ ও সক্রিয় ভূমিকা এবং শান্তি ও স্থিতিশীলতায় দেশটির অবদানের জন্য ইসলামাবাদের প্রশংসা করেন। নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৭১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেয়ার পর বান কি মুনের সঙ্গে এ বৈঠক করেন পাক প্রধানমন্ত্রী।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ