ঢাকা, রোববার 25 September 2016 ১০ আশ্বিন ১৪২৩, ২২ জিলহজ্ব ১৪৩৭ হিজরী
Online Edition

আজও বিল ডাকাতিয়া দিবস পালন করে ডুমুরিয়াবাসী

খুলনা অফিস : ১৯৮৪ সালে বন্যায় বিল ডাকাতিয়া অঞ্চল প্লাবিত হয়। হাজার হাজার মানুষ সাতক্ষীরা সড়কের শলুয়া এবং আমভিটা বেড়িবাধে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করে। দুর্যোগে ৭৬ হাজার একর জমির ফসল নষ্ট হয়। ১২ বছর ধরে জলাবদ্ধতা চলতে থাকে। জলাবদ্ধাতার স্থায়ী সমাধানের দাবিতে কৃষক সংগ্রাম সমিতিসহ বিভিন্ন সংগঠন দীর্ঘ আন্দোলন করে। শলুয়া স্লুইচ গেটের বাইরে জোয়ার ভাটার গুপ্দিয়া নদীতে পলি পড়ে নদীর বুক ভরাট হয়ে এ জলাবদ্ধতা চলতে থাকে। সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের পাশাপাশি সমগ্র বিল ডাকাতিয়া অঞ্চলের সমাজসচেতন ও কৃষকবান্ধব আত্মনিবেদিত সংস্কৃতি কর্মী ড. সন্দীপক মল্লিক নিজের কন্ঠে ‘বিল ডাকাতিয়া জলে ভেসেছে - মরা বিলের মাঝে আমরা হাবুডুবু খাই- পরাণ কান্দেরে, বিল ডাকাতিয়ার রূপ দেখে পরাণ কান্দেরে’ গানগুলি গেয়ে গেয়ে বিভিন্ন গ্রামের নিপিড়িত ও আর্তজনগোষ্ঠিকে জাগ্রত করতে থাকে।
১৯৮৮ সালে কৃষক সংগ্রাম সমিতি এবং বিল ডাকাতিয়া অঞ্চলের সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী বিশ হাজার লোকের সমন্বয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও করে দূর্গত এলাকার ঘোষনার দাবি জানান।
এক পর্যায়ে তৎকালীন শাসক এরশাদ সরকার ৬৮ কোটি টাকার প্রকল্প করে গ্রহণ করলেও জলাবদ্ধতা নিরসনে ব্যর্থ হয়। শলুয়া, থুকড়া, আমভিটা নদীতে জোয়ার ভাটার দাবিতে আন্দোলন শুরুর প্রথম পর্যায়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল বিরোধিতা করে। পরর্বতীতে বিল ডাকাতিয়া সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। ১৯৯০ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর থুকড়া বাজারে মহাসমাবেশের ডাক দিলে সরকার ১৪৪ ধারা জারি করে এবং ১৬০০ পুলিশ মোতায়েন করে। এই বাধা অতিক্রম করে মহাসমাবেশ সফল করে। কৃষক সংগ্রাম সমিতির নেতৃত্বে ১৮ই সেপ্টেম্বর বিল ডাকাতিয়ায় অবাধ জোয়ার ভাটার র্কাযকর কৃষক জনতার আন্দোলন সফল করে। এই দিনটিকে বিল ডাকাতিয়া দিবস হিসেবে পালন করে ডুমুরিয়াবাসী।
২৬ তম বিল ডাকাতিয়া দিবস উপলক্ষে বুধবার (২১ শে সেপ্টেম্বর) বিকালে থুকড়া বাজারে জনসভার আয়োজন করা হয়েছে। জনসভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন কৃষক সংগ্রাম সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি শ্যামল ভৌমিক।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ