ঢাকা, বুধবার 5 October 2016 ২০ আশ্বিন ১৪২৩, ৩ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সরকার অব্যাহত নির্যাতনের মাধ্যমে গণতন্ত্রকামীদের নিঃশেষ করে দিচ্ছে -মির্জা ফখরুল

গতকাল মঙ্গলবার রমনা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির উদ্যোগে দলের মরহুম নেতা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আ স ম হান্নান শাহর স্মরণে আয়োজিত শোক সভায় উপস্থিত জাতীয় নেতৃবৃন্দ -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : সরকার অব্যাহত নির্যাতন করে গণতন্ত্রকামী সংগ্রামী মানুষদের নিঃশেষ করে দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনির্য়াস ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এক শোকসভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মরহুম ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহ’র স্মরণে বিএনপির উদ্যোগে এ শোকসভার আয়োজন করা হয়। 

মির্জা ফখরুলের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন- বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড.খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, শামসুজ্জামান দুদু, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, শ্রমিক দল সভাপতি আনোয়ার হোসেন, যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুস সালাম আজাদ, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, নগর বিএনপি নেতা মুন্সি বজলুল বাসিত আঞ্জু, ছাত্রদলের সভাপতি রাজীব আহসান এবং হান্নান শাহ’র ছোট ছেলে রিয়াজুল হান্নান প্রমুখ। শোকসভা সঞ্চালনা করেন বিএনপির সহ প্রচার সম্পাদক আমীরুল ইসলাম আলীম ও তাইফুল ইসলাম টিপু।

হান্নান শাহ’র স¥ৃতি চারণ করতে গিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আজকে যারাই গণতন্ত্রের কথা বলছে তাদের উপরেই নির্যাতন নিপীড়ন নেমে আসছে। তিনি বলেন, যেদিন তিনি (হান্নান শাহ) অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে যান সেদিন বাসায় অসুস্থ হননি। তিনি এই সরকারের নির্যাতনে মিথ্যা মামলায় হাজিরা দিতে কোর্টে যাচ্ছিলেন। এই কথাটা মনে রাখতে হবে। কোর্টে যাওয়ার সময় তার হার্ট এ্যাটাক হয়েছে। সেখান থেকে ড্রাইভার তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। পরবর্তিতে সিঙ্গাপুর থেকে লাশ হয়ে ফিরেন হান্নান শাহ। 

হান্নান শাহকে গণমানুষের নেতা আখ্যা দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, হান্নান শাহকে ফিরে পাবো না, তার আদর্শের পথে যদি চলতে পারি তাহলে বিএনপির অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌছে অবরুদ্ধ গণতন্ত্র, মানুষের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিতে পারবো।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, হান্নান শাহ’র সাহসী পথে উজ্জীবিত হয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দেশে গণতন্ত্র পুন:প্রতিষ্ঠিত করার শপথ নিতে হবে। কারণ তিনি ছিলেন, গণতন্ত্রের অকৃত্রিম সৈনিক ও দেশের মানুষের কাছে জনপ্রিয় একজন নেতা। তিনি বলেন, বর্তমানে দেশ কঠিন সময় অতিক্রম করছে। সত্য কথা বলা বন্ধ হয়ে গেছে। কারণ সত্য কথা তুলে ধরার মানুষ কমে যাচ্ছে। বিএনপি মহাসচিব বলেন, হান্নান শাহ’র জানাযাগুলো প্রমাণ করে তিনি কথাটা জনপ্রিয় মানুষ ছিলেন। উনি যে একজন গণমানুষের নেতা ছিলেন সেটাও জানাযার মধ্যে দিয়ে প্রমাণ হয়েছে। এ ছাড়া প্রমাণ হয়েছে, জাতীয়তাবাদী দল মানুষ কতটুকু সমর্থন করে। মির্জা আলমগীর বলেন, হান্নান শাহ’র মৃত্যুতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বিএনপি ও দেশের জনগণ। যা পূরণ হওয়ার নয়।

হান্নান শাহর স্মৃতিচারণ করে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, বর্তমান স্বৈরচারী একনায়ক লুটেরা সরকারকে হটিয়ে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে পারলেই হান্নান শাহ’র প্রতি শ্রদ্ধা জানানো স্বার্থক হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ