ঢাকা, বুধবার 5 October 2016 ২০ আশ্বিন ১৪২৩, ৩ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

স্মাট কার্ডে পুরনো ছবি নিয়ে আপত্তি

মোহাম্মদ জাফর ইকবাল : ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি কর্পোরেশন এলাকায় গতকাল মঙ্গলবার দ্বিতীয় দিনের মতো ভোটারদের মাঝে স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণ করা হয়েছে। সকাল সাড়ে ৯টা থেকে শুরু হয়ে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলে এ কার্যক্রম। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) এস এম আসাদুজ্জামান আরজু জানান, সময়সূচি অনুযায়ী নির্দিষ্ট এলাকার নতুন-পুরাতন সকল ভোটারই এই স্মার্টকার্ড পাবেন। পুরাতন ভোটাররা তাদের আগের জাতীয় পরিচয়পত্র জমা দিয়ে এবং নতুন ভোটাররা ভোটার স্লিপ জমা দিয়ে নতুন স্মার্টকার্ড সংগ্রহ করতে পারবেন। তিনি বলেন, স্মার্টকার্ড সংগ্রহের সময় ভোটারকে নিজে সশরীরে উপস্থিত থাকতে হবে। কারণ কার্ড বিতরণকালে ভোটারের ১০ আঙ্গুলের ছাপ ও চোখের মনির ছবি দিতে হয়।

এদিকে স্মাট কার্ড নিয়ে খুশি থাকলেও অনেকেই পুরনো ছবি নিয়ে আপত্তি দেখিয়েছেন। তাদের মতে, সব কিছুই ঠিক আছে। কিন্তু ছবিটা বেশ পুরনো। এমন একটা স্মাট কার্ডে পুরনো ছবিটা বেশ বেমানান। এছাড়া অনেকেই ভোগান্তির কথা বলেছেন। স্মার্ট কার্ড নেয়ার জন্য নাগরিকদের কেবল নতুন করে দুই হাতের সব আঙুলের ছাপ ও চোখের আইরিশের ছবি দিতে হচ্ছে। তবে অনেক গ্রাহকের আঙুলের ছাপ নিতে অনেক সময় লাগছে বা কারও কারও সব আঙুলের ছাপ পাওয়া যাচ্ছে না। যারা নতুন স্মার্ট কার্ড পাচ্ছেন, তাদের পুরোনো ল্যামিনেটেড কার্ডে ফুটো করে দেয়া হচ্ছে। অনেকের নয়টি আঙুলের ছাপ এসেছে, কনিষ্ঠ আঙুলের ছাপ আসছে না। এসব নিয়ে কার্ডধারীরা বেশ চিন্তিত। তবে তাদের বলা হয়েছে যে, এতে কোনো সমস্যা হবে না। আঙুলের ত্বকে সমস্যা থাকলে অনেকের ছাপ আসে না বা হাতে ময়লা বা লোশন লাগানো থাকলেও আঙুলের ছাপ আসে না। সে ক্ষেত্রে সেখানকার কর্মীরা গ্রাহকদের হাত ধুয়ে-মুছে আসতে পরামর্শ দেন। এরপর ছাপ নেন।

গতকাল ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের উত্তরা হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজে কার্ড বিতরণ কার্যক্রম চলেছে। ঢাকা উত্তর সিটিতে ১০ নম্বর সেক্টর ও রানাভোলার (ডিসিসি অংশের) ভোটারদের এবং দক্ষিণে ইস্কাটন গার্ডেন রোড এলাকার ভোটারদের স্মার্ট কার্ড দেয়া হয়েছে। আর ঢাকার বাইরে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ি উপজেলায় গতকাল কার্ড বিতরণ করা হয়।

 গেল সোমবার প্রথমদিন যেসব এলাকায় ভোটারদের কার্ড দেয়া হয়েছে, সেসব এলাকার কেউ না পেয়ে থাকলে তারা পরবর্তীতেও স্মার্ট কার্ড সংগ্রহ করতে পারবেন বলে নির্বাচন কমিশন সূত্র জানিয়েছে।

ইসি সচিবালয়ের সচিব সিরাজুল ইসলাম বলেন, প্রথমে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন এলাকায়, এরপর অন্য নয় সিটি এবং পরে জেলা পর্যায়ে স্মার্ট কার্ড বিতরণ করা হবে। সবশেষে পাবেন উপজেলা পর্যায়ের ভোটাররা।

ইসির স্মার্ট এনআইডি প্রকল্পের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুজ্জামান মো. সালেহ উদ্দিন বলেন, যখন যে এলাকায় স্মার্ট কার্ড বিতরণ শুরু হবে, তখন সেই এলাকার ভোটাররা অনলাইনে প্রয়োজনীয় তথ্য জানতে পারবেন। এছাড়া ১০৫ নম্বরে ফোন করে বা এসএমএস দিয়েও জানতে পারবেন আপনার স্মার্ট কার্ডটি কবে কোথায় দেয়া হবে।

এক্ষেত্রে https://services.nidw.gov.bd/card_distribution লিংকে ক্লিক করলেই একটি উইন্ডো আসবে। যেখানে নির্দিষ্ট স্থানে আপনার এনআইডি নম্বর বা ভোটার নিবন্ধন ফরমের স্লিপ নম্বর, জন্ম তারিখ লিখে ‘কার্ড বিতরণ তথ্য দেখুন’।

আজ ৫ অক্টোবর রমনা থানার ১৯ নং ওয়ার্ডের আওতাধীন কাকরাইল, বেইলী স্কোয়ার ও বেইলী রোড, মগবাজার ইস্পাহানী কলোনী এবং উত্তরা থানাধীন ১ নং ওয়ার্ডের বাদশার টেক, দলি পাড়া (ডিসিসি অংশ), আহালিয়া (ডিসিসি অংশ) এলাকায় ভোটারদের স্মার্ট কার্ড দেয়া হবে। অর্থাৎ এসব এলাকার ভোটাররাই কেবল ওয়েবসাইট থেকে তাদের স্মার্ট কার্ড বিতরণের তথ্য জানতে পারবেন।

এছাড়া তারা ১০৫ নম্বরে কলও করতে পারবেন। কিংবা চাইলে মেসেজ করেও জানতে পারবেন প্রয়োজনীয় তথ্য। এক্ষেত্রে মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে SC লিখে স্পেস দিয়ে ১৭ ডিজিটের এনআইডি নম্বর লিখতে হবে। যাদের এনআইডি নম্বর ১৩ ডিজিটের, তারা প্রথমে জন্ম সাল যুক্ত করে নেবেন। এরপর তা ১০৫ নম্বরে পাঠালেই ফিরতি মেসেজে তথ্য জানিয়ে দেয়া হবে।

যারা এখনো জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) পাননি তারা প্রথমে SC লিখে স্পেস দেবেন। এরপর D লিখে স্পেস দিয়ে নিবন্ধন ফরম নম্বর লিখবেন। আবারও স্পেস দিয়ে উ লিখে yyy-mmm-ddd ফরম্যাটে জন্ম তারিখ লিখে ১০৫ নম্বরে মেসেজ পাঠাবেন। ফিরতি মেসেজে আপনার এনআইডি কবে কোথায় কোন ক্যাম্পে দেয়া হবে তা জানানো হবে।

আলাপ করে জানা গেছে, স্মার্ট কার্ড পেয়ে খুশি নাগরিকেরা। তবে ছবি নিয়ে অনেকের মধ্যে খারাপ লাগা রয়ে গেছে। স্মার্ট কার্ড পেয়ে আনন্দিত রাফি। তবে পুরোনো ছবি দেওয়ায় একটু অখুশি তিনি। বললেন, ‘পুরোনো পচা ছবিটাই দেওয়া হয়েছে। ছবি নতুন করে দেয়া গেলে ভালো হতো।’ একই কথা বললেন চিকিৎসক নাজমুন্নাহার। স্মার্ট কার্ডটি হাতে পেয়ে বললেন, সবই ঠিক আছে, তবে ছবিটা উদ্ভটই আছে। উত্তরা থেকে কার্ড নিয়েছেন শর্মিলী । তিনি বললেন, ‘কার্ডটা দারুণ স্মার্ট। স্মার্ট কার্ডে আমার ছবিটাকে আনস্মার্ট মনে হচ্ছে।’ ঢাকার বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে স্মার্ট কার্ড নিয়ে খুশি নগরের বাসিন্দারা। যারা কার্ড পেয়েছেন, তারা সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নিজেদের ‘স্মার্ট নাগরিক’ হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন। কার্ড সংগ্রহে নাগরিকদের আগ্রহ দ্বিতীয়দিন বেড়েছে। তবে স্মার্ট কার্ডের জন্য নতুন করে ছবি দেওয়া গেলে ভালো হতো বলে মত দিয়েছেন তারা। 

ঢাকার উত্তরা হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের অস্থায়ী ক্যাম্প থেকে গতকাল মঙ্গলবার দেয়া হয় ১০ নম্বর সেক্টরের বাসিন্দাদের জাতীয় পরিচয়পত্র। বীমা করপোরেশনের কর্মকর্তা মফিজুর রহমান বললেন, অনেক দিন ধরেই এমন কার্ড পাব বলে শুনছিলাম। পেয়ে খুব ভালো লাগছে। তবে কার্ডের জন্য নতুন করে ছবি দেওয়া গেলে আরও ভালো হতো।

সূত্র মতে, নির্বাচন কমিশনের এই প্রকল্পের আওতায় নয় কোটির বেশি ভোটারকে স্মার্ট কার্ড দেওয়া হচ্ছে। এদের মধ্যে আট কোটির বেশি ভোটার হয়েছিলেন আজ থেকে আট-নয় বছর আগে। বর্তমান কার্ডটির মেয়াদও ১০ বছর। সেই হিসেবে আট-নয় বছর আগের এই ছবিটি আরও ১০ বছর থাকবে। তা ছাড়া আগে ওয়েব ক্যামেরা দিয়ে ছবি তোলা হয়েছিল। ফলে স্বাভাবিকভাবেই সে সময় বেশির ভাগ নাগরিকের ছবি ভালো হয়নি। তাই যারা স্মার্ট কার্ড পেয়েছেন, তাদের অনেকেই মনে করছেন যে ছবিটি নতুন করে তুলে দেওয়া হলে ভালো হতো।

এ ব্যাপারে ঢাকা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শাহ আলম বলেন, এত দিন যে ছবিটি জাতীয় পরিচয়পত্রে ব্যবহার করা হয়েছিল, সেই ছবির রেজ্যুলেশন অনেকটা বাড়িয়ে স্মার্ট কার্ডে যুক্ত করা হয়েছে। ফলে স্মার্ট কার্ডের ছবি আগের ল্যামিনেটেড কার্ডের চেয়ে দেখতে ভালো হয়েছে।

স্মার্ট কার্ড নিতে এসেছেন ফাতেমা মুন্নি ও রহীমা খানম রীনা নামের দুই বোন। জাতীয় পরিচয়পত্রে তাদের ঠিকানা ‘৩/২০ বেইলি স্কয়ার, বড় মগবাজার’ দেয়া আছে। কিন্তু গতকাল স্মার্ট কার্ড পেয়েছেন মুন্নি। বড় বোন রহীমা খানমের কার্ড আজ দেয়া হবে। একই ঠিকানায় থাকা সত্ত্বেও কেন আলাদা দিনে দেয়া হবে বুঝতে পারছেন না তিনি। রহীমা খানম বলেন, আবার তাকে অফিস থেকে একবেলা ছুটি নিয়ে আসতে হবে। 

উত্তরা থানার নির্বাচন কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, মানুষের আগ্রহ অনেক বেশি। কার্ড যারা পাচ্ছেন, তারা খুবই খুশি। তিনি বলেন, কাজটি কেবল শুরু হয়েছে। কিছু ভোগান্তি বা সমস্যা নিশ্চয়ই আছে। তবে কমিশন সব সমস্যা সমাধান করে নাগরিকদের সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছে। কার্ড বিতরণে কাজের গতি অনেক বেড়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ