ঢাকা, বুধবার 5 October 2016 ২০ আশ্বিন ১৪২৩, ৩ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

কাশ্মীরের ভিমবার সীমান্তে ফের ভারত-পাকিস্তান গোলাগুলী

সংগ্রাম ডেস্ক : ভারত ও পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণ রেখার দুপাশ থেকে দুপক্ষের মধ্যে ফের গোলাগুলী হওয়ায় ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে সৃষ্ট উত্তেজনা অব্যাহত আছে।

গতকাল মঙ্গলবার ভোর ৪টা থেকে কাশ্মীরের ভিমবার সেক্টরে দুপক্ষের মধ্যে ফের গোলাগুলী হয় বলে জানিয়েছে দ্য ডন।

পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ভারতীয় বাহিনী ‘বিনা উসকানিতে’ গুলী বর্ষণ করায় নিয়ন্ত্রণ রেখার ভিমবার সেক্টরে দুপক্ষের মধ্যে দুই ঘন্টা ধরে গুলীবিনিময় হয়েছে।

আইএসপিআর বলেছে, “ভিমবার সেক্টরের বাঘসার, ব্রহ ও খাঞ্জার এলাকায় বিনা উসকানিতে ভারতীয় বাহিনীর চালানো গুলীবর্ষণের উপযুক্ত জবাব দিয়েছে পাকিস্তানি সেনারা।” আমাদের সময় কম।

তবে দুই ঘণ্টা ধরে গুলী বিনিময় হলেও এতে দুপক্ষের কেউ হতাহত হয়নি বলে জানা গেছে।

গত সোমবারও নিয়ন্ত্রণ রেখার আজাদ কাশ্মীর অংশের তিনটি সেক্টর নেজাপির, কাইলের ও ইফতিখারাবাদে দুপক্ষের মধ্যে পৃথক তিনটি গুলীবিনিময়ের ঘটনা ঘটে।

১৮ সেপ্টেম্বর ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের উরিতে ভারতীয় সামরিক বাহিনীর একটি ঘাঁটিতে চালানো বিচ্ছিন্নতাবাদীদের’ হামলায় ১৮ ভারতীয় সেনা নিহত হওয়ার পর থেকে দুদেশের মধ্যে উত্তেজনা শুরু হয়।

ভারতের অভিযোগ, পাকিস্তান সমর্থিত সন্ত্রাসীরা এ হামলার সঙ্গে জড়িত। অপরদিকে পাকিস্তান অভিযোগ অস্বীকার করে।

এরপর থেকে কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর দুপক্ষের মধ্যে প্রায়ই গুলী বিনিময় হচ্ছে। এর মধ্যে ২৯ সেপ্টেম্বর নিয়ন্ত্রণ রেখা পার হয়ে পাকিস্তানি অংশে সন্ত্রাসীদের ঘাঁটিতে ‘সার্জিক্যাল হামলা’ চালানো হয়েছে বলে দাবি করে ভারত। পাকিস্তান ভারতের দাবি অস্বীকার করে।

কিন্তু এরপর থেকে দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা আরো তীব্র আকার ধারণ করেছে। নতুন আরেকটি যুদ্ধের আশঙ্কায় ভারতের পাকিস্তান সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোর বাসিন্দারা এলাকা ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যাচ্ছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যম খবর দিয়েছে।

কলকাতাও পাকিস্তানের পরমাণু হামলার আওতায় :  ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে তিক্ততার মধ্যেই প্রতিবেশী দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পরোক্ষে হুমকি দিয়েছেন, প্রয়োজনে পরমাণু বোমাও ছুঁডতে পারেন তারা আর এরপরই সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন, পাকিস্তান পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়লে কী হতে পারে?ভারতের কোন কোন শহর পাকিস্তানের পরমাণু বোমার টার্গেট হতে পারে? এক্সপ্রেস ট্রিবিউন।

পরিসংখ্যান বলছে, ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে পরমাণু যুদ্ধ হলে তার আওতায় আসতে পারে কলকাতাও। পরমাণু বোমা নিক্ষেপের জন্য পাকিস্তানের হাতে একাধিক মিসাইল আছে।

যেমন ‘নসর’। পাকিস্তানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র হল ‘হাতফ’। গজনির সুলতান মাহমুদের নামে তৈরি এটা পাকিস্তানের ‘গজনভি’ ক্ষেপণাস্ত্র। আরেক সেনানায়ক আহমদ শাহ আবদালির নামে তৈরি পাকিস্তানের এই ‘আবদালি’ ক্ষেপণাস্ত্রও পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম। এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলির রেঞ্জ ৬০ থেকে ৩২০ কিলোমিটারের মধ্যে।

এছাডাও পাকিস্তানের হাতে রয়েছে ‘ঘুরি’ এবং ‘শাহিন’ ক্ষেপণাস্ত্র। এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলির রেঞ্জ ৯০০ থেকে ২৭০০ কিলোমিটার। অর্থাৎ এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলি ব্যবহার করলে দিল্লি, কলকাতা, মুম্বাই, জয়পুর, আহমদাবাদ, পুণে, নাগপুর, ভোপাল, লখনউয়ের মতো শহর পাকিস্তানের পরমাণু বোমার টার্গেট হতে পারে।

ভারতের আছে ‘পৃথ্বী’ ক্ষেপণাস্ত্র। এর রেঞ্জ ১৫০ থেকে ৬০০ কিলোমিটার। এছাডাও আছে বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ‘অগ্নি’। অগ্নির রেঞ্জ ৭০০ কিলোমিটার থেকে আট হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত। অর্থাৎ পাকিস্তানের এমন কোনও শহর নেই যাকে ভারত চাইলে টার্গেট করতে পারবে না ইসলামাবাদ, রাওয়ালপিণ্ডি, করাচি, লাহৌর, নওশেরার মতো বড় শহর মুহূর্তের মধ্যে ভারতের ছোঁড়া পরমাণু বোমায় ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।

বর্তমানে ভারতের কাছে ১১০ থেকে ১২০টি পরমাণু বোমা আছে। পাকিস্তানের কাছে আছে ১২০ থেকে ১৩০টি। ভারত পাকিস্তানের মধ্যে পরমাণু যুদ্ধ হলে শুধুমাত্র এই দু’ই দেশই যে বিধ্বস্ত হবে, তা নয়, সেইসঙ্গে গোটা বিশ্বেরও চরম ক্ষতি হবে। মার্কিন সংস্থা ‘ইন্টারন্যাশনাল ফিজিশিয়ান্স ফর দ্য প্রিভেনেশন অফ নিউক্লিয়ার ওয়ার’-এর রিপোর্ট অনুযায়ী ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ হলে সঙ্গে সঙ্গে অন্তত ২ কোটি মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা রয়েছে। আরো প্রায় দু’কোটি মানুষ অনাহারের মুখে পড়বে। জলবায়ুর উপর বিশেষ প্রভাব পড়বে, বিঘিœত হবে বৃষ্টির, চাষবাসের ব্যাপক ক্ষতি হবে।

ভারতীয় সহিংসতার প্রমাণ হস্তান্তর পাকিস্তানের : ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্রমাণ হস্তান্তর করেছে পাকিস্তান। ওয়াশিংটনে নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত জলিল আব্বাস জিলানি মার্কিন বিশেষ দূত রিচার্ড ওলসনের হাতে এ প্রমাণাদি তুলে দেন। -ডন।

গতকাল মঙ্গলবার মাকিন পররাষ্ট্র দফতরে সাক্ষাৎ করেন তারা। এ সময় রাষ্ট্রদূত জিলানি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের কাম্মীর বিষয়ে মনোযোগ দেয়ার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে নারী শিশু, বৃদ্ধ ও রোগীসহ নির্দোষ জনসাধারণের সঙ্গে যে অমানবিক ও অবমাননাকর আচরণ করা হচ্ছে, তার প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর দেয়া উচিত বলে উল্লেখ করেন তিনি।

কাশ্মীর ইস্যুতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দায়বদ্ধতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন পাক রাষ্ট্রদূত বলেন, কাশ্মীরিদের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার বিষয়ে জাতিসংঘের প্রস্তাবনা ভারত একতরফাভাবে প্রত্যাখ্যান করতে পারে না। ভারত যেহেতু একটি জাতিসংঘের সদস্য দেশ। তাই জম্মু-কশ্মীরের অবস্থা তদন্তে দেশটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও মানবিক সহায়তা সংগঠনকে সেখানে যাতে প্রবেশ করতে দেয়, তা নিশ্চিত করতে হবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে।

গত সোমবার এক সর্বদলীয় বৈঠকে ভারতের আগ্রাসন ও কাশ্মীর ইস্যুতে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়ার ঘোষণা দেয় পাকিস্তানের সব রাজনৈতিক দল। এর একদিন পর যুক্তরাষ্ট্রের হাতে প্রমাণ তুলে দিল পাকিস্তান।

গত ৮ জুলাই কাশ্মীরের প্রসিদ্ধ বিদ্রোহী নেতা বুরহান ওয়ানি নিহত হয়। এর প্রতিবাদে টানা সহিংসতায় সেখানে শতাধিক কাশ্মীরি নিহত হয়। এ ঘটনায় দুদেশের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়তে থাকে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ