ঢাকা, বুধবার 5 October 2016 ২০ আশ্বিন ১৪২৩, ৩ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ছাত্রলীগ ক্যাডার বদরুলের ফাঁসির দাবিতে উত্তাল সিলেট ॥ ৩ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা

স্টাফ রিপোর্টার ও সিলেট ব্যুরো : সিলেটে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ নেতা বদরুল আলম হামলার শিকার ছাত্রী খাদিজা বেগম নার্গিসের অবস্থা সংকটাপন্ন। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে অস্ত্রোপচার শেষে তাকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ৭২ ঘণ্টার নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। চিকিৎসকরা বলছেন, খাদিজার শারীরিক অবস্থা নিয়ে এখন বলার মতো কিছু নেই। ৭২ ঘণ্টা পার হলে তবেই বলা যাবে।

গত সোমবার বিকেলে সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রী খাদিজার ওপর হামলা চালান শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও ছাত্রলীগ নেতা বদরুল আলম। হামলার পর আহত ছাত্রীকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। গতকাল দুপুরে তার শরীরে অস্ত্রোপচার করা হয়। বিকেলে স্কয়ার হাসপাতালের নিউরো সার্জারির জ্যেষ্ঠ পরামর্শক রেজাউস সাত্তার সাংবাদিকদের বলেন, খাদিজাকে ৭২ ঘণ্টার পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। এরপর তার অবস্থা সম্পর্কে বলা যাবে।

এদিকে সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী নার্গিসের উপর প্রেমঘটিত কারণে পৈশাচিক কায়দায় হামলাকারী ছাত্রলীগ ক্যাডার বদরুলের ফাঁসির দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে বিভাগীয় নগরী সিলেট। আজ বুধবার সিলেটে বিভিন্ন জেলা উপজেলায় শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বিক্ষোভ কর্মসূচি রয়েছে। সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীরা গতকাল মঙ্গলবার জিন্দাবাজারস্থ মহিলা কলেজের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে আজ বুধবার থেকে ৩ দফা দাবিতে ৩ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। মৃত্যুর পথযাত্রী খাদিজা আক্তার নার্গিসকে সোমবার গভীর রাতে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ঢাকায় স্কয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। সেখানে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে মেধাবী শিক্ষার্থী নার্গিসকে। তার অবস্থা আশংকাজনক বলে পরিবার সূত্রে জানা যায়। গত সোমবার রাতে ছাত্রলীগ ক্যাডার ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বদরুল আলমকে আসামী করে এসএমপির শাহপরাণ থানায় নার্গিসের চাচা আব্দুল কুদ্দুস বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। ছাত্রলীগ ক্যাডার জনতার হাতে গণপিটুনী খেয়ে বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে চিকিৎসাধীন রয়েছে। 

ক্লাস বর্জন, কর্মসূচি ঘোষণা : সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রী খাদিজা বেগম নার্গিসকে কোপানো তার কথিত ‘প্রেমিক’ বদরুলের ফাঁসির দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে পুরো নগরী। এই দাবিতে সকাল থেকে বিভিন্ন ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। তাছাড়া তিনদফা দাবিতে তিনদিনের কর্মসূচিও ঘোষণা দিয়েছেন খাদিজার সহপাঠিরা।

গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে নগরীর চৌহাট্টাস্থ সরকারি মহিলা কলেজের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন কলেজের ছাত্রীরা। ‘ফাঁসি, ফাঁসি শ্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো চৌহাট্টা এলাকা। ফলে ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে।

এছাড়া, তিনদফা দাবিতে তিনদিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন তারা। এর মধ্যে রয়েছে- গতকাল মঙ্গলবার থেকে কলেজের সকল ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন, কালো ব্যাজ ধারণ করে জেলা প্রশাসক বরাবরে স্মারকলিপি, আজ বুধবার প্রতিবাদ সমাবেশ ও পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা।

তিনদফা দাবির মধ্যে রয়েছে, মামলা দ্রত বিচার ট্রাইবুনালে স্থানান্তর, আসামী বদরুলের ফাঁসি নিশ্চিত করা এবং পরীক্ষার হল ও যাতায়াতের সময় ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

এদিকে, বেলা সোয়া ১১টার দিকে এমসি কলেজের ছাত্র ছাত্রীরা বদরুলের ফাঁসির দাবিতে ক্লাস ছেড়ে ক্যাম্পাসে মিছিল নিয়ে বের হন। পরে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-ছাত্রীরা নগরীর টিলাগড় পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক অবরোধ করেন। দুপুরে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের অবরোধ চলমান রয়েছে।

প্রসঙ্গত, বদরুলের হাতে সোমবার সন্ধ্যায় ছুরিকাহত হন সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের স্নাতক (পাস) দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী খাদিজা আক্তার নার্গিস। তাকে বর্তমানে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে। তার অবস্থা সংকটাপন্ন বলে পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে। 

বদরুলের বিরুদ্ধে থানায় মামলা : সিলেটে কলেজছাত্রীকে কুপিয়ে জখম করার ঘটনায় শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ নেতা বদরুল আলমের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ওই ছাত্রীর চাচা আব্দুল কুদ্দুস মামলাটি দায়ের করেন বলে শাহপরাণ থানার ওসি শাহজালাল মুন্সি জানান।

সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের স্নাতক (পাস কোর্স) দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী খাদিজাকে সোমবার বিকালে এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়।

ঘটনার পরপরই শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র বদরুল আলমকে পুলিশ আটক করে, যিনি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক।

ওসি শাহজালাল বলেন, মামলায় বদরুলকে একমাত্র আসামী করা হয়েছে। ঘটনার পর স্থানীয়দের মারধরে বদরুল কিছুটা আহত হওয়ায় তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসা শেষে তাকে আদালতে তোলা হবে বলে জানান তিনি।

বদরুলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে শাবি ছাত্রলীগ : গত সোমবার সন্ধ্যায় প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় গত সোমবার সন্ধ্যায় এমসি কলেজ ক্যাম্পাসের পুকুরপাড়ে সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রী খাদিজা বেগম নারগিসকে কোপানো শাবি ছাত্রলীগের সহসম্পাদক বদরুল ইসলামের বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে ছাত্রলীগ।

ওই ঘটনার নিন্দা জ্ঞাপন করে শাবিপ্রবি শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইমরান খান জানান, তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে। এছাড়া দল থেকে বহিষ্কারসহ কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থাও নেয়া হচ্ছে।

লাইফ সাপোর্টে নার্গিস : সিলেট এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছাত্রলীগ ক্যাডারের কোপে আহত সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রী খাদিজা আক্তার নার্গিসকে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে তাকে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।

অবস্থার অবনতি হওয়ায় গতকাল মঙ্গলবার ভোর রাতে খাদিজাকে স্কয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। গত সোমবার বিকেলে গুরুতর জখম হওয়ার পর তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। মধ্যরাত পর্যন্ত সেখানেই চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।

খাদিজার চাচা আবদুল কুদ্দুস জানান, তার মাথায় পাঁচ-ছয়টি কোপ দেয়া হয়েছে। চিকিৎসকরা কোনো আশ্বাস দিতে পারেননি। তারা বলেছেন, পরিস্থিতি ভালো নয়। কোপে গুরুতর জখম হয়েছে। স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তির পর পরিস্থিতি দেখে তৎক্ষণাৎ তাকে লাইফ সাপোর্ট দেয়া হয়।

গত সোমবার বিকেলে সিলেটের এমসি কলেজে পরীক্ষায় অংশ নিতে গেলে কথিত প্রেমিক বদরুলের ধারাল অস্ত্রের আঘাতে মারাত্মকভাবে আহত হন নার্গিস।

উল্লেখ্য, গত সোমবার বিকেলে দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা দিয়ে বেরিয়ে আসার সময় এমসি কলেজের পুকুর পাড়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে খাদিজাকে মাটিতে ফেলে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন বদরুল আলম (২৭)। তাকে বর্তমানে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে। তার অবস্থা সংকটাপন্ন বলে পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে। কথিত ওই প্রেমিক বদরুল আলম শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক। একই বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০০৮-০৯ সেশনে অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন বদরুল আলম তার গ্রামের বাড়ি সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার সুনাইঘাতি গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের সাইদুর রহমানের ছেলে এবং নার্গিস সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার আউশা এলাকার সৌদী আরব প্রবাসী মাসুক মিয়ার মেয়ে। পরিবারের সাথে সিলেট নগরীর আখালিয়া এলাকায় বসবাস করেন তিনি। কথিত প্রেমিক বদরুল আউশা গ্রামের নার্গিসের বাড়িতে লজিং মাস্টার হিসেবে দীর্ঘদিন ছিল।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ