ঢাকা, বুধবার 5 October 2016 ২০ আশ্বিন ১৪২৩, ৩ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

পাবনা জেলা জামায়াত আমীরকে জেল গেট থেকে ফের আটকের ৮ দিন পর মিথ্যা মামলায় জেল হাজতে প্রেরণ

পাবনা সংবাদদাতা : হাইকোর্টের “নো এ্যরেস্ট নো হ্যারেজ” আদেশ থাকা সত্ত্বেও পাবনা জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আব্দুর রহীমকে জেল গেট থেকে পুনরায় আটক করে অজ্ঞাত স্থানে রাখে পুলিশ। এরপর ঈশ্বরদীর একটি মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে ৮ দিন পর জেলা হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন পাবনা জেলা জামায়াত। গতকাল মঙ্গলবার জেলা প্রচার সম্পাদক মাওলানা আব্দুর রউফের স্বাক্ষরিত পাবনা জেলা জামায়াত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই অভিযোগ করা হয়। 

এতে বলা হয়, জামায়াতে ইসলামীর পাবনা জেলা শাখার আমীর মাওলানা আব্দুর রহীম দীর্ঘ এক বছর নয় মাস কারাগারে আটক রয়েছেন। ইতঃপূর্বে তিনি আরও ৩ বার সকল মামলায় জামিন নিয়ে কারামুক্তির সময় পাবনা কারাগার থেকে ২ বার এবং ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ১ বার তাকে পাবনা জেলা পুলিশ জেল গেট থেকে গ্রেফতার করে। এরপর সর্বশেষ মামলায় মহামান্য হাইকোর্ট জামিনের পাশাপাশি পুলিশ কর্তৃক তাকে জেলগেট বা অফিস বা বাসা থেকে গ্রেফতার না করার আদেশ দেন। হাইকোর্টে রিট পিটিশন নং- ৮৩১৩/২০১৬ । এই পিটিশনে “নো এ্যারেস্ট নো হ্যারেজ” আদেশের কপি পাবনার পুলিশ প্রশাসনকে আগেই প্রদান করা হয়। এই আদেশের পরিপেক্ষিতে গত ২৬ সেপ্টেম্বর পাবনা জেলা কারাগার থেকে কারামুক্তির সময় জেল গেট থেকে পাবনা জেলা পুলিশের সাদা পোশাকধারী একটি টিম সাদা মাইক্রো গাড়ি যার নং- নাটোর- চ-১১-০০০২ যোগে সম্পূর্ণ হাইকোর্টের আদেশকে অমান্য করে ৪র্থ বারের মতো তাকে তুলে নেয়ার পর দীর্ঘ ৮ দিন অজ্ঞাত স্থানে রাখে। অবশেষে গত ০৩ অক্টোবর সোমবার সন্ধ্যার পর পাবনার ঈশ্বরদী থানাতে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মিথ্যা মামলা সাজিয়ে ১১ জনের নামে এজাহার দায়ের করে সন্ধ্যার পর তাকে পাবনা কারাগারে প্রেরণ করে। ঈশ্বরদী থানার মামলা নং- ৭, তাং- ০৩/১০/২০১৬ ইং, জি আর- ৫৯৭/১৬ (ঈঃ)।

একই দিনে ঈশ্বরদী উপজেলা জামায়াতের প্রচার সম্পাদক সাইদুল ইসলামকে জেল গেট থেকে আটকের পর ১১ দিন অজ্ঞাত স্থানে রেখে তাকেও এই মামলায় আসামী করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়। 

এই ন্যক্কারজনক ঘটনার নিন্দা ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন পাবনা জেলা জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমীর ও জেলা সেক্রেটারি। তারা বলেন, পুলিশ এই ন্যক্কারজনক ঘটনার মাধ্যমে এক দিকে নাগরিকদের মৌলিক ও সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন করছে অপর দিকে মহামান্য হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার মাধ্যমে আদালত অবমাননা করার মতো অপরাধ করছে। ইতঃপূর্বে দেশের সর্বোচ্চ আদালত বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ সাদা পোশাকে কাউকে গ্রেফতার না করা এবং পোশাকে গ্রেফতারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতারকৃতের পরিবারকে জানানোর যে রায় দিয়েছে, তার খেলাফ ২৪ ঘণ্টার স্থলে ৮ ও ১১ দিন পর রাত্রিকালে আদালতে হাজির করার মাধ্যমে আপিল বিভাগের আদেশও অমান্য করেছে পুলিশ।

নেতৃবৃন্দ পুলিশ প্রশাসনকে আইনের রক্ষক হিসেবে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের আদেশের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে আদালত অবমাননার মত অপরাধ না করে অতি স্বত্বর জেলা আমীর মাওলানা আব্দুর রহীমকে মুক্তি দেয়ার জোর দাবি জানান এবং কিডনিতে ইনফেকশন, হাইড্রোসিল সমস্যা, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপসহ বিভিন্ন ধরনের রোগে গুরুতর অসুস্থ মাওলানা আব্দুর রহীমের যে কোন খারাপ অবস্থার জন্য পুলিশ প্রশাসনকে দায়ী থাকতে হবে বলে স্মরণ করিয়ে দেয়া হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ