ঢাকা, বুধবার 5 October 2016 ২০ আশ্বিন ১৪২৩, ৩ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

মিসরে ব্রাদারহুডের দুই নেতাকে গুলী করে হত্যা

মিসরের মুসলিম ব্রাদারহুডের অন্যতম জ্যেষ্ঠ নেতা মোহাম্মদ কামাল (৬১) ও তার সহযোগী ইয়াসার শেহাতা আলী (৪৭) পুলিশের গুলীতে নিহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার সকালে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, সোমবার সংগঠনটির আরেক সদস্যের সঙ্গে বন্দুক যুদ্ধে মোহাম্মদ কামাল নামের ওই নেতা মারা যায়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কায়রোর বাসাটিন এলাকার একটি বাসাকে নেতারা সদর দফতর হিসেবে ব্যবহার করছেন খবর পেয়ে অভিযান চালানো হয়। এ সময় বন্দুকযুদ্ধে এ দুই নেতা নিহত হন।

তবে, ব্রাদারহুডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিহত কামাল সোমবার থেকে নিখোঁজ ছিলেন। তবে সংগঠনটির পক্ষ থেকে এর বেশি কিছু জানানো হয়নি। বিবিসি, দ্য গালফ নিউজ, রয়টার্স।

মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সেহাতার বিরুদ্ধে ১০ বছরের কারাদণ্ডের রায় দেওয়া হয়েছে। আর কামালকে তার অনুপস্থিতিতে বিচারের রায়ে দুইবার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয় দাবি করে, কামাল মুসলিম ব্রাদারহুডের সশস্ত্র শাখার দায়িত্বে ছিলেন। যদিও ব্রাদারহুড একটি শান্তিপূর্ণ সংগঠন হিসেবে তাদের পরিচিতি রয়েছে।

এই ব্রাদারহুড নেতার বিরুদ্ধে ২০১৫ সালে মিসরের প্রধান সরকারি আইন কর্মকর্তা হিশাম বারকাত এবং একজন জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তাকে হত্যায় জড়িত ছিলেন বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়েছে। এসব অভিযোগে তিনি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত ছিলেন।

৬১ বছর বয়সী কামাল মুসলিম ব্রাদারহুডের বিশিষ্ট নেতাদের অন্যতম একজন ছিলেন। তিনি সংগঠনটির নীতিনির্ধারক কমিটিরও সদস্য ছিলেন। এছাড়াও, তিনি সর্বোচ্চ প্রশাসনিক কমিটির দায়িত্বে ছিলেন। যেটি যুব কমিটি নামে পরিচিত।

গণঅভ্যুত্থানে মিসরের স্বৈরশাসক হুসনি মোবারকের পতন হলে দেশটির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো গণতান্ত্রিকভাবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন ব্রাদারহুড নেতা মোহাম্মদ মুরসি।

২০১৩ সালে মুরসির সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতা দখল করেন সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল সিসি। পরবর্তীতে তিনি বিতর্কিত নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। আধুনিক মিসরের ইতিহাসে সিসির সরকার ইসলামপন্থীদের উপর সবচেয়ে কঠোর দমনাভিযান চালিয়ে আসছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ