ঢাকা, বুধবার 5 October 2016 ২০ আশ্বিন ১৪২৩, ৩ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

রাঙামাটি শহরে ভবন ধসে নিহত ৪ ॥ নিখোঁজ ৫

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর ধুপখোলা মাঠে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, ইউএস আর্মি, ফায়ার সার্ভিস ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিসহ কয়েকটি সেবাধর্মী সংস্থার উদ্যোগে ভূমিকম্প পরবর্তী উদ্ধার অভিযানের মহড়ার একটি দৃশ্য -সংগ্রাম

রাঙামাটি সংবাদদাতা : রাঙামাটি শহরের মহিলা কলেজ সংলগ্ন এলাকায় কাপ্তাই হ্রদের পাড় ঘেঁষে গড়ে তোলা একটি দোতলা ভবন সরাসরি পানিতে হেলে পড়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তিনজনকে উদ্ধারের পর হাসাপাতালে নেয়ার পথেই মারা যায়। তবে ভবনের ভেতরে মোট কতজন মানুষ আটকা পড়েছে তা নিশ্চিত করতে পারেনি কোনো সূত্র। এলাকাবাসী জানিয়েছেন ওই ভবনে মোট চার পরিবারের বসবাস।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিস জানায় মঙ্গলবার বিকাল ৫টার দিকে হঠাৎ করে ভবনটি পানিতে হেলে পড়ে। হ্রদের ধার ঘেঁষে গড়ে উঠা ভবনটির নিম্নভাগ বেশ কয়েকদিন যাবত জলমগ্ন আছে। ভবনটি হেলে পড়ার পর ভিতর থেকে মুঠোফোনে ট্রাক চালক জাহিদ তার বন্ধুদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করলে বিষয়টি জানাজানি হয়। হেলে যাওয়া ভবনের দরজা জানালা আটকে যায়। খবর পেয়ে সেনা সদস্য ও ফায়ার সার্ভিসের লোকজন তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার কাজ শুরু করে। এসময় এলাকার যুবকরাও উদ্ধার কাজে অংশ গ্রহণ করে। সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ তারা ভবনের একটি ফ্লাট থেকে ট্রাক চালক জাহিদ (৪৫), তার মেয়ে পিংকী (১৪) এবং গৃহশিক্ষক খাদিজা আক্তার (২২) কে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করলেও হাসপাতালে নেয়ার পথেই তারা মারা যায় বলে জানিয়েছে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক।

এছাড়া গুরুতর আহত আরও ৩ জনকে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হয়েছে বলে দমকল বাহিনী সূত্রে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে একজন উদ্ধার কর্মীও ছিল। 

এদিকে রাতে এ রিপোর্ট লেখার সময় উদ্ধারকর্মীরা জানায় তারা নিশ্চিত হয়েছে যে, ভিতরে আর মাত্র দুজন কিশোর আটকা পড়ে আছে। অন্যরা ভবন হেলে পড়ার সময় বেরিয়ে যায়। আটকা পড়া দুই কিশোরকে ভবনের ভিতর পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে তারা পানিতে ডুবে গেছে। তাদের উদ্ধারের জন্য নৌবাহিনী ডুবুরিদল আনা হচ্ছে।

এলাকাবাসী জানায়, রাঙামাটি শহরে জায়গা দখল করে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসের খেসারত এটি। ভবনটির মালিক জনৈক টিটু বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।

 

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মানজারুল মান্নান জানান, ঘটনাস্থল থেকে এখনও উদ্ধার তৎপরতা চলছে। যতক্ষণ একজন মানুষ জীবিত থাকবে ততক্ষণ উদ্ধার তৎপরতা চলবে। ঘটনাস্থলে এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন সদর জোন কমান্ডার মালিক সামস, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আবু শাহেদ চৌধুরীসহ পুলিশের কর্মকর্তারা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ