ঢাকা, বুধবার 5 October 2016 ২০ আশ্বিন ১৪২৩, ৩ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

অভয়নগরে আমন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়ে সংশয় ॥ গো-খাদ্যের চরম সংকট

মফিজুর রহমান, অভয়নগর (যশোর) থেকে : জলাবদ্ধতার প্রভাবে যশোরের অভয়নগর উপজেলায় চলতি মওসুমে আমন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। লক্ষ্যমাত্রার প্রায় অর্ধেক জমিতে আমন চাষ করা সম্ভব হয়নি। আবার অধিকাংশ বীজতলা কিংবা আমনের ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। তবে ভবদহের সংশ্লিষ্ট অভয়নগরের ৪টি ইউনিয়ন এবং নওয়াপাড়া পৌরসভার আমন উৎপাদন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্তÍ হয়েছে। ফলেত ক্ষতিগ্রস্তÍ অঞ্চলে মানুষ খাদ্যের অভাবের পাশাপাশি গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগীর খাদ্যেরও অভাব দেখা দিয়েছে।

অভয়নগর উপজেলার কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মওসুমে উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন এবং নওয়াপাড়া পৌরসভা’র আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৭ হাজার ৩’শ ৭০ হেক্টর জমিতে এবং উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৯ হাজার ৭’শ ৯৫ মেট্রিক টন (চাল)। কিন্তু আমন চাষ হয়েছে মাত্র ৪ হাজার ১’শ ১৫হেক্টর জমিতে। জলাবদ্ধতার কারণে ৩ হাজার ২’শ ৫৫ হেক্টর জমির চাষাবাদ ক্ষতিগ্রস্তÍ হয়েছে। ফলে উৎপাদন কমে যেতে পারে ৮ হাজার ৭ ’শ ৬৭ মেট্রিক টন। 

কৃষি অফিস সূত্রে আরো জানা গেছে, নওয়াপাড়া পৌরসভা এলাকায় আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ হাজার ৭২ হেক্টর জমিতে। কিন্তু জলাবদ্ধতার কারণে ৬’শ ৫০ হেক্টর জমির চাষাবাদ ক্ষতিগ্রস্তÍ হয়েছে। ফলে আমন আবাদ হয়েছে মাত্র ৪’শ ২২ হেক্টর জমিতে। প্রেমবাগ ইউনিয়নে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ হাজার ৬৮ হেক্টর জমিতে। কিন্তু জলাবদ্ধতার কারণে ৬’শ ৭৫ হেক্টর জমির চাষাবাদ ক্ষতিগ্রস্তÍ হয়েছে। ফলে আমন আবাদ হয়েছে মাত্র ৩’শ ৯৩ হেক্টর জমিতে। 

সুন্দলী ইউনিয়নে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৯০ হেক্টর জমিতে। কিন্তু জলাবদ্ধতার কারণে সুন্দলী ইউনিয়নের কোন জমিতেই আমন আবাদ করা সম্ভব হয়নি। চলিশিয়া ইউনিয়নে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৯’শ হেক্টর জমিতে। কিন্তু জলাবদ্ধতার কারণে ৬’শ ৫০ হেক্টর জমির চাষাবাদ ক্ষতিগ্রস্তÍ হয়েছে। ফলে আমন আবাদ হয়েছে মাত্র ২’শ ৫০ হেক্টর জমিতে। পায়রা ইউনিয়নে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৫’শ ৭২ হেক্টর জমিতে। কিন্তু জলাবদ্ধতার কারণে ৩’শ ২০ হেক্টর জমির চাষাবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে আমন আবাদ হয়েছে মাত্র ২’শ ৫২ হেক্টর জমিতে।

শ্রীধরপুর ইউনিয়নে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ হাজার ৭’শ ৭০ হেক্টর জমিতে। কিন্তু জলাবদ্ধতার কারণে ৩’শ ৪০ হেক্টর জমির চাষাবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে আমন আবাদ হয়েছে ১ হাজার ৪’শ ৩০ হেক্টর জমিতে।

বাঘুটিয়া ইউনিয়নে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ হাজার ৩’শ ৬২ হেক্টর জমিতে। কিন্তু জলাবদ্ধতার কারণে ২’শ ৫০ হেক্টর জমির চাষাবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে আমন আবাদ হয়েছে ১ হাজার ১’শ ১২ হেক্টর জমিতে। শুভরাড়া ইউনিয়নে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৩’শ ৩৬ হেক্টর জমিতে। কিন্তু জলাবদ্ধতার কারণে ১’শ ৬০ হেক্টর জমির চাষাবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে আমন আবাদ হয়েছে মাত্র ১’শ ৭৬ হেক্টর জমিতে। সিদ্দিপাশা ইউনিয়নে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ২’শ হেক্টর জমিতে। কিন্তু জলাবদ্ধতার কারণে ১’শ ২০ হেক্টর জমির চাষাবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে আমন আবাদ হয়েছে মাত্র ৮০ হেক্টর জমিতে। 

সুন্দলী ইউনিয়নের রামসরা গ্রামের চাষী সুকান্ত বিশ্বাস (৪০) জানান, আমি প্রতি বছর ৪/৫ বিঘা জমিতে আমন চাষ করি। এবারও ৩ বিঘা জমিতে আমনের চারা রোপনের পর জলাবদ্ধতা শুরু হয়। আর রোপণ করতে পারিনি। 

জলাবদ্ধতার কারণে রোপিত সব চারাই নষ্ট হয়ে গেছে। ধানও হবে না, বিছালিও পাওয়া যাবে না। নিজেরা খাবো কি, গরু, হাঁস-মুরগীকে খাওয়াবো কি তা বুঝতে পারছি না।

নওয়াপাড়া পৌরসভার ধোপাদী গ্রামের আমন চাষী আনিচুর রহমান (৪২) জানান, জলাবদ্ধতার কারণে সব আমনের চারাই নষ্ট হয়ে গেছে। এদিকে গরুর খাবার নিয়ে মারাত্মক বিপদে পড়েছি। 

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা গোলাম সামদানি জানান, যখনই আমন চাষ শুরু হয়েছিল ঠিক তখনই অতিরিক্ত বৃষ্টি শুরু হয়। প্রায় ৩ মাস যাবৎ জলাবদ্ধ থাকায় ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। কিছু উঁচু এলাকায় ফসল হয়েছে যা লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেক।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ