ঢাকা, বুধবার 5 October 2016 ২০ আশ্বিন ১৪২৩, ৩ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

খুলনায় কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদারের স্মৃতি বিজড়িত শতবর্ষী মন্দিরের জমি দখল

খুলনা অফিস : কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদারের স্মৃতি রক্ষার্থে মন্দিরের জন্য ছেলের দানকৃত জমি এখন চলে গেছে অবৈধ দখলে। মন্দিরটি ঠাঁয় দাঁড়িয়ে থাকলেও মন্দিরের ভাষাণ ঘাটে (প্রতিমা ভাসানোর ঘাট) তৈরি করা হয়েছে পাকা স্থাপনা। স্থানীয় ভূমি অফিসের অসাধু কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে একটি চক্রকে মূল্যবান এ জমি ডিসিআরের মাধ্যমে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

মন্দির এবং জমি উদ্ধারের জন্য সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পক্ষ থেকে খুলনা জেলাপ্রশাসক বরাবর লিখিত আবেদন করা হয়েছে। তবে জমি উদ্ধারে তেমন কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। স্থানীয় প্রশাসন বলছে, স্থাপনা নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে। খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার সেনহাটি শিববাড়ী পূজা মন্দির পরিচালনাকারী সংগঠন হিন্দু সমাজ কল্যাণ পরিষদের পক্ষ থেকে সম্প্রতি জেলাপ্রশাসক বরাবর দাখিলকৃত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, বাঙলার অমর কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদারের পুত্র উমেশ চন্দ্র মজুমদার কবির স্মৃতি রক্ষার্থে শিববাড়ি মন্দিরের জন্য সেনহাটি মৌজার ৪টি দাগে ৭০ শতক জমি দান করেন। পরবর্তীতে স্থানীয় মহিলা সমিতির পক্ষ থেকে সেখানে কৃষ্ণচন্দ্র ইনস্টিটিউট স্থাপনের জন্য নামফলক উন্মোচন করা হয়। ওই জমিতে ১৩৪৯ সালে স্থানীয় নারী সরোজিনী দেবী তার স্বামী রায় কুমুদ বন্ধু দাশ শর্মা বাহাদুরের নামে মন্দির ভবন নির্মাণ করেন। পরবর্তীতে ’৮০ দশকে মন্দিরের সম্পত্তি প্রথম দফায় অবৈধ দখলে চলে যায়। এ বিষয়ে অভিযোগ করা হলে তৎকালীন জেলা প্রশাসকের তদন্তে অবৈধ দখলের বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করে মন্দিরের অনুকূলে রায় প্রদান করেন। অবৈধ দখলমুক্ত হলে তখন থেকেই হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকেরা ওই মন্দিরে পূজা অর্চনা করে আসছে। এদিকে, সাম্প্রতিককালে আবারও একটি চক্র উপজেলা ভূমি অফিসের অসাধু কর্মকর্তাদের অর্থের বিনিময়ে ম্যানেজ করে মন্দিরের ১১৭৯ দাগের ৪ শতক জমি নিজেদের নামে ডিসিআর মারফত বরাদ্দ নেয়। এর মধ্যে সেনহাটি গ্রামের মৃত আব্দুস সালাম খাঁনের ছেলে চঞ্চল খাঁন তিন শতক এবং একই এলাকার আব্দুল ওহাব এক শতক জমি বরাদ্দ নিয়েছেন। ভৈবর নদ সংলগ্ন মন্দিরের ভাষাণ ঘাটে (প্রতিমা ভাসানোর ঘাট) চঞ্চল খাঁন পাকা স্থাপনা নির্মাণ করছেন। এতে করে আসন্ন দুর্গা পূজাসহ সেখানে পূজা অর্চনা এবং অন্যান্য ধর্মীয় অনুষ্ঠানও বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ