ঢাকা, বুধবার 5 October 2016 ২০ আশ্বিন ১৪২৩, ৩ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

স্কুলছাত্র নির্যাতন

ঝালকাঠি সংবাদদাতা : কাকা মোরে আর মাইরেন না, ব্যথায় মাথা ধরে গেছে, মুই মইর‌্যা যামু। ঝালকাঠি জেলা পরিষদ পুকুরে গোসল করার অপরাধে গোপনীয় সহকারী (সিএ) সালাহউদ্দিন স্কুল ছাত্র সাব্বির (১০)কে বেধড়ক মারধর করায় এমন আকুতি জানিয়েও রক্ষা পায়নি। মারধর করে এক পর্যায়ে তার ডান হাতের নখ তুলে ফেলে। শুক্রবার দুপুরে সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কান্নাজড়িত কণ্ঠে প্রতিবেদকের সাথে এমন অমানবিক কাহিনীর বর্ণনা করে। সাব্বির স্থানীয় কুতুবনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র। সে জেলা পরিষদ এলাকার সবজি ব্যবসায়ী নূরে আলম খানের ছেলে। সাব্বির আরো জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে স্কুল থেকে ফিরে জেলা পরিষদ পুকুরে গোসল করতে যাই। এসময় জেলা পরিষদের গোপনীয় সহকারী (সিএ) সালাহউদ্দিন একটি লোহার স্কেল দিয়ে বেধড়ক মারধর করে। এতে ডান হাতের একটি আঙ্গুলের নখ উঠে যায় এবং কেটে ক্ষত হয়। পিটানোর ব্যথায় সমস্ত শরীর ধরে যায়। তার অনেক হাত পা ধরেছি কাকা আর মাইরেন না, মইরা যামু। তারপরেও তিনি মারতে মারতে শুইয়ে ফেলে। একপর্যায়ে উঠে মাথা ঘুরানো অবস্থায় দৌড় দেই। বিশ্বরোড (বরিশাল-খুলনা আঞ্চলিক মহাসড়ক) থেকে ৩ টি মোটর সাইকেল যাচ্ছিল তার মধ্য থেকে দৌড় দেই। অ্যাকসিডেন্ট (দুর্ঘটনারও) ভয় করি নাই। সালাহউদ্দিন কাকায় যদি পিছনে এসে ধরে আবার মারে। ঘরে গিয়ে বাবার কাছে জানালে সে হাসপাতালে নিয়ে আসে। মারধর ও নখ তুলে দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে ঝালকাঠি জেলা পরিষদের গোপনীয় সহকারী (সিএ) মো. সালাহউদ্দিন জানান, সাব্বির প্রায়ই গোসল করার পরে জেলা পরিষদের মধ্যে রোপন করা ফুলের চারা চুরি করে নেয়। এ জন্য তাকে জেলা পরিষদের পুকুরে গোসল করতে নিষেধ করা হয়েছিল। তার পরেও সে গোসল করতে আসলে, তাকে শাসিয়ে দেওয়া হয়েছে। আহত শিশুর বাবা নূরে আলম জানান, সদর হাসপাতালে সাব্বিরের চিকিৎসা চলছে। এ ব্যাপারে থানায় মামলা করা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ