ঢাকা, বুধবার 5 October 2016 ২০ আশ্বিন ১৪২৩, ৩ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সঠিক ব্যবস্থাপনায় অভিবাসনের মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব

স্টাফ রিপোর্টার : অভিবাসন একটি নিত্য নৈমিত্তিক ঘটনা। তবে বর্তমান সময়ে দেশগুলোর মধ্যে বৈরিতা বাড়ায় পৃথিবীজুড়ে অভিবাসীরা সংকটে রয়েছেন। কিন্তু সঠিক ব্যবস্থাপনা পারে এই সংকটের মোকাবিলা করে অভিবাসনের মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়ন আনতে।
গতকাল মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর পুরানো এলিফ্যান্ট রোডস্থ বাংলাদেশ ইনিস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল এন্ড স্ট্রাটেজিক স্টাডিজ (বিজ্) মিলনায়তনে “সংকটময় পরিস্থিতিতে অবিবাসন” শীর্ষক এক সেমিনারে অংশ নিয়ে বক্তারা এ কথা বলেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসী সংস্থার (আইওএম) সহযোগিতায় বিজ্ এ সেমিনারের আয়োজন করে। এতে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন আইওএম’র অপারেশন ও জরুরি বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ আবদিকার। বক্তব্য রাখেন পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক, আইওএম বাংলাদেশ মিশনের প্রধান শরৎ দাস, বিজ্’র বোর্ড অব গভর্নরস চেয়ারম্যান মুন্সী ফয়েজ আহমদসহ আরো অনেকে।
শহীদুল হক বলেন, অভিবাসনকে উন্নয়ন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এক সময় মনে করা হলেও পরিবর্তনশীল বিশ্বে বিভিন্ন দেশের সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে এখন তা কিছু ক্ষেত্রে মানুষের দুর্দশার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংঘাত-সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে নিজ দেশে নিরাপত্তাহীনতার কারণে ভিন্ন দেশে পাড়ি দিতে গিয়ে অনেকে যাত্রাপথে, সীমান্তে এমনকি ভিন্ন দেশের মাটিতে বিপদের মুখে পড়েন।
শরণার্থী ও অভিবাসী সুরক্ষায় নীতিগত কোনো বাধ্যবাধকতা নেই জানিয়ে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, উন্নয়নশীল দেশগুলো শরণার্থীকে একটা ঝামেলা হিসেবে দেখছে। কারণ জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে এসব দেশে অভিবাসন নিয়ে কোনো নীতি গড়ে উঠেনি।
সম্প্রতি লিবিয়া, ইয়েমেন, লেবানসহ কয়েকটি যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশে অটকে পড়া অভিবাসীদের ফিরিয়ে আনতে গিয়ে বাংলাদেশ অনেক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে জানিয়ে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, সে অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বিশ্বব্যাপী একটি অভিবাসন নীতি প্রনয়নে অগ্রনী ভূমিকা পালন করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর সেই প্রস্তাব গৃহিত হয়েছে জাতিসংঘে। দুই বছরব্যাপী একটি আলোচনার পর একটি কাঠামো তৈরি করা হবে।
বিশ্বের কয়েকটি দেশে যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার পর বর্তমানে মানবাধিকারের প্রতি রাষ্ট্রগুলোর কোনো শ্রদ্ধাবোধ নেই বলে মন্তব্য করেন আইওএম’র পরিচালক মোহাম্মদ আবদিকার। তিনি বলেন, হাসপাতাল, আশ্রয়শিবির সর্বত্র বোমায় আক্রান্ত হচ্ছে। এই অবস্থায় অভিবাসন বা শরণার্থী একটি বাস্তবতা, যাকে সঠিকভাবে মোকাবিলা করা জরুরি।
বক্তারা বর্তমান বিশ্বের চলমান অভিবাসন সংকট নিয়ে আলোচনা করেন। এ সময় তারা সমস্যা সমাধানে আন্তর্জাতিক বিশ্বকে এগিয়ে আসার অনুরোধ জানান। অভিবাসন জরুরি, তবে অত্যাবশ্যকীয় নয় বলেও তারা মন্তব্য করেন।
বক্তারা বলেন, অভিবাসন নিয়মিত ঘটনা। তবে অভিবাসীদের প্রতি যথাযথ নজর না দেয়ায় পৃথিবী জুড়ে অভিবাসীরা নানা ধরনের সংকটে পড়ছেন। তাদের মতে, সংকটপূর্ণ দেশে অভিবাসন কমাতে হবে। এছাড়া অভিবাসীদের সুরক্ষায় অবৈধ অভিবাসনও কমিয়ে আনতে হবে। শুধু নিজ দেশের নাগরিকদের নয়, একটি দেশের সীমানার মধ্যে যারাই থাকুক না কেনো তাদের সুরক্ষা সংশ্লিষ্ট দেশকে দিতে হবে। এছাড়া অভিবাসী প্রেরণকারী দেশগুলোকেও নিজ দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ভূমিকা রাখতে হবে।
তারা আরও বলেন, বিশ্বে প্রায় ৬৫ লাখ অভিবাসী রয়েছে। এর মধ্যে নয় লাখ ৬০ হাজার বাংলাদেশি বিশ্বের প্রায় ৫০টি দেশে কাজ করছে। গত দুই দশকে বাংলাদেশের রেমিটেন্স প্রায় ২০ গুণ বেড়েছে। যা দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। অভিবাসীরা  স্বাস্থ্য, শিক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে জাতিসংঘের লক্ষ্যমাত্রাপূরণেও অবদান রেখে চলেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ