ঢাকা, বুধবার 5 October 2016 ২০ আশ্বিন ১৪২৩, ৩ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

খুলনায় ফেয়ার প্রাইসে চালের কার্ড প্রণয়ন ও ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ

খুলনা অফিস : খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় খুলনায় হতদরিদ্রদের কার্ড প্রণয়ন ও ডিলার নিয়োগে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রকৃত ব্যবসায়ীদের ডিলারশীপ না দিয়ে রাজনৈতিক দলের নেতাদের কাছের লোকদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে বলেও একাধিক অভিযোগ আছে। ইতোমধ্যে সকল উপজেলায় কার্যক্রম শুরু হলেও বিভিন্ন ইউনিয়নে কার্যক্রম শুরু হয়নি। দিঘলিয়া উপজেলায় তালিকা প্রণয়নে অনিয়মের অভিযোগ থাকায় চলমান চাল বিতরণ কর্মসূচি সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে। এছাড়া দিঘলিয়ার সদর ইউনিয়নে এক প্রবাসীর পিতাকে ও ওই গ্রামের একই পরিবারের চারজনসহ এক ধনাঢ্য ব্যক্তিকে এ কার্ড প্রদান করা হয়েছে। এদিকে এক মাস পেরিয়ে গেলেও ডুমুরিয়া উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে হতদরিদ্র পরিবার এখনো সুলভ মূল্যের চাল পায়নি।
সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দেয়া তথ্য মতে, খুলনায় দরিদ্র জনসংখ্যার ভিত্তিতে উপকারভোগীদের জন্য ৮৩ হাজার ৯শ’ ৪৪ খানা কার্ড বিতরণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে দাকোপে ১৪ হাজার ৬শ’ ৯৫, ডুমুরিয়ায় ৮ হাজার ৯শ’ ৫৬, পাইকগাছায় ১৩ হাজার একশ’ ২৩, তেরখাদায় ৪ হাজার পাঁচশ’ ২০, বটিয়াঘাটায় ১০ হাজার পাঁচশ’ ৪, ফুলতলায় ৪ হাজার ৮৪, কয়রায় ১০ হাজার তিনশ’ ৫৯, রূপসায় ১০ হাজার দুইশ’ ৮৮ ও দিঘলিয়ায় ৭ হাজার চারশ’ ১৫ খানা কার্ড বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া উপজেলার মোট ৬৮টি ইউনিয়নে একশ’ ৫৪ জন ডিলার নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে দাকোপে ২৭, ডুমুরিয়ায় ১৮, পাইকগাছায় ২০, তেরখাদায় ৯, বটিয়াঘাটায় ২৩, ফুলতলায় ১০, কয়রায় ১৯, রূপসায় ১০ ও দিঘলিয়া উপজেলায় ১৮ জন। যারা প্রকৃত ব্যবসায়ী তাদেরকে এ কার্যক্রমে ডিলারের আওতায় আনতে হবে বলে সরকারি নীতিমালায় রয়েছে।
প্রকৃত ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, রাজনৈতিক নেতাদের হস্তক্ষেপে কার্ডের তালিকা প্রণয়ন ও ডিলারশীপ দেয়া হয়েছে। প্রকৃত ব্যবসায়ী না হয়েও নেতাদের আশির্বাদপুষ্টরা ডিলারশীপ নিয়ে ইতোমধ্যে তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে। এতে ব্যাহত হচ্ছে সরকারের মহতি উদ্যোগ।
সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী, বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা, প্রতিবন্ধী শিশুর পরিবার এবং বয়স্ক নারীদের জন্য কার্ডের অগ্রাধিকার রয়েছে। তবে যাদের ভিজিএফ চালের কার্ড রয়েছে তারা ১০ টাকা কেজি দরে চালের কার্ডের আওতায় আসতে পারবে না। কিন্তু এ নীতিমালা উপেক্ষা করেই অধিকাংশ ইউনিয়নে কার্ডের তালিকা করা হয়েছে বলে অভিযোগ। সরেজমিন তদন্ত করলে যার সত্যতা বেরিয়ে আসবে।
জানা গেছে, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় হতদরিদ্র পরিবার প্রতিমাসে ৩০ কেজি চাল ১০ টাকা কেজি দরে পাবে। আগামী মার্চ, এপ্রিল, সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নবেম্বর এই পাঁচ মাস এ চাল বিতরণ করা হবে। গেল ৭ সেপ্টেম্বর থেকে প্রত্যেকটি উপজেলায় দরিদ্রদের ১০ টাকা কেজি দরে চাল দেয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকারের নির্দেশনা পালন করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট দপ্তর।
গত ৯ সেপ্টেম্বর ভান্ডারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের উদ্বোধন করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ। এ লক্ষ্যে উপজেলায় ১৯ জন ডিলার নিয়োগের মধ্য দিয়ে বিভিন্ন ইউনিয়নে চাল বিক্রি শুরু হয়। কিন্তু কর্মসূচির একমাস পার হলেও উপজেলার গুটুদিয়া, সাহস, রঘুনাথপুর, রুদাঘরা ও আটলিয়া ইউনিয়নে এখনো চাল বিক্রি শুরু হয়নি। ফলে গুটুদিয়া ইউনিয়নে ৭শ’ ৬৬ জন, সাহস ইউনিয়নে ৫শ’ ৪৬ জন, রঘুনাথপুর ইউনিয়নে ৭শ’ ৫৭ জন, রুদাঘরা ইউনিয়নে ৬৫৮ জন ও আটলিয়া ইউনিয়নে ৯শ’ ৪৪ জনসহ ৩ হাজার ৬শ’ ৭১ জন হতদরিদ্র সুবিধা বঞ্চিত হয়ে আছে।
উপজেলার বান্দাগ্রাম এলাকার মৃত প্রদীপ ঢালীর স্ত্রী মনিষা ঢালী একাধিকবার চেষ্টা করেও তিনি কার্ড পাননি। লতাবনিয়া এলাকার মৃত সরেন মন্ডলের স্ত্রী রনজিতা মন্ডল, একই এলাকার মৃত নিরোধ মন্ডলের স্ত্রী আশালতা মন্ডল, বান্দাপাড়া এলাকার মজিদ গাজীর স্ত্রী স্বামী পরিত্যক্তা তছিরন বিবিও কার্ড পায়নি। উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা মো. বজলুর রহমান গাজী জানান, যে সকল ইউনিয়নে তালিকা প্রদানের মাধ্যমে রেশনিং কার্ড গ্রহণ করেছেন তারা নিয়মিত চাল পাচ্ছেন। আর ওই ইউনিয়ন পাঁচটির তালিকা এখনো না পাওয়ায় চাল বিতরণ স্থগিত রয়েছে।
সাহস ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ জয়নাল আবেদিন জানান, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা বিষ্ণু প্রসাদ মল্লিক ও বিল্লাল হোসেনের সাথে মেম্বরদের মতামতের মিল হচ্ছে না। তাই তালিকা প্রস্তুতে দেরি হয়েছে। তবে এক সপ্তাহের মধ্যে এর সমাধান হয়ে যাবে বলে জানান তিনি। রঘুনাথপুর ইউপি চেয়ারম্যান খান শাকুর উদ্দিন জানান, ইউপি সদস্যদের গাফিলতিতে তালিকা প্রস্তুতে বিলম্ব হচ্ছে।
আনন্দনগর এলাকার মৃত হাতেম মোল্লার ছেলে আহমেদ মোল্লা, একই এলাকার মৃত গাউস মোল্লার স্ত্রী ভানু বিবি জনপ্রতিনিধিদের সাথে যোগাযোগ করার পরও ১০ টাকা কেজি দামের কার্ড থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। একইভাবে খড়বুনিয়া এলাকার মৃত আজাহার আলীর স্ত্রী রিজিয়া বেগম বার বার চেষ্টা করে এ কার্ড থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
বটিয়াঘাটা উপজেলার রায়পুর এলাকার আব্দুল গফুর হাজীর স্ত্রী স্বামী পরিত্যক্তা নাছিমা আক্তার, একই এলাকার মৃত ইসমাইল শেখের স্ত্রী কালিবুড়ি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে কথা বলার পরও ১০ টাকা কেজি দামের কার্ড পাননি। একইভাবে বুনরাবাদ এলাকার বাসিন্দা স্বামী পরিত্যক্তা সুখী বিবি ও ভগবতীপুর এলাকার মৃত অজিত মন্ডলের স্ত্রী জয়ন্তী মন্ডল এ কার্ড প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
রূপসা উপজেলার বাগমারা গ্রামের বাসিন্দা মৃত আব্দুল লতিফ শেখের স্ত্রী রাহিলা বেগম জানান, ‘সরকারি সুবিধা কোনো দিন পাইনি। দশ টাকা কেজি দামের কার্ডের জন্যি কয়েকজনরে কয়েও কোনো কাজ হইনি।’ একই এলাকার বাসিন্দা মৃত হারুন শেখের স্ত্রী হাফিজা বেগম দশ টাকা কেজি দামে কার্ডের জন্য এলাকার চেয়ারম্যান মেম্বর বা তাদের কাছের লোকজনের সাথে কথা বলেও তিনি কার্ড প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এর আগেও তিনি প্রতি মাসে ৩০ কেজি চালের ভিজিএফ’র কার্ডের জন্য একাধিকবার চেষ্টা করেও তিনি কার্ড বঞ্চিত হয়েছেন।
এদিকে তালিকা প্রণয়নে অনিয়মের অভিযোগে দিঘলিয়া উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার গত রোববার ডিলারদের ডেকে চাল বিতরণ কর্মসূচি সাময়িক স্থগিত করেছেন। সংশ্লিষ্টদের তালিকা সংশোধন করতে বলেছেন। অভিযোগ রয়েছে, দিঘলিয়া উপজেলা সদর ইউনিয়নের বহ্মগাতি গ্রামের প্রবাসী ছেলের পিতা জালাল শেখ, ওই গ্রামের একই পরিবারের আব্দুর রহিম, শাহীন, রুনা ও রিনা, দ্বিতল বিশিষ্ট বাড়ির আ. হকের ছেলে মো. শহিদ ও ধনাঢ্য কালাম সরদারকেও এ কার্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য ইউনিয়নেও তালিকা প্রণয়নে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী অফিসার ডিলারদের ডেকে তালিকা সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত চাল বিতরণ বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেন। এদিকে, উপজেলার একাধিক ডিলার ১০ টাকা কেজি মূল্যের চাল ১৩ থেকে সাড়ে ১৩ টাকা দামে বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ ওঠেছে। ৩০ কেজি চাল উপকারভোগীদের কাছ থেকে ৪শ’ টাকা করে রাখা হচ্ছে। অতিরিক্ত দাম নেয়ার বিষয়ে এমন অভিযোগ করেছেন উপজেলা সদরের মানিক মিয়া ও অশোক কুমারসহ অনেকেই।
খুলনার জেলা প্রশাসক নাজমুল আহসান বলেন, দিঘলিয়া উপজেলায় ১০ টাকা মূল্যের চাল বিতরণ কর্মসূচি স্থগিত রাখার বিষয়টি তাকে জানানো হয়নি। তবে তিনি এ বিষয়ে খোঁজ নেবেন বলে জানান।
পাইকগাছায় দরিদ্রদের মাঝে রেশনিং কার্ডের মাধ্যমে ১০ টাকা কেজি দরে ৩০ কেজি চাল বিতরণের তালিকা ও ডিলার নিয়োগে অনিয়ম ও একটি বিশেষ মহলকে প্রাধান্য দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। ১০টি ইউপি’র মধ্যে ৭টিতে ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীসহ চেয়ারম্যান ও ইউপি সদসদের সমন্বয়হীনতার কারণে পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। ডিলার নিয়োগে বারবার রেজুলেশনে নাম কাটছাঁট করায় বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এ উপজেলায় হতদরিদ্রদের মাঝে সুলভমূল্যে চাল বিতরণের জন্য জনসংখ্যার ভিত্তিতে একটি পৌরসভা বাদে ১০ ইউপিতে ১৩ হাজার একশ’ কার্ডের তালিকা ও এর বিপরীতে ২৫ জন ডিলার নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট খাদ্য বিভাগ জানান, এ পর্যন্ত কপিলমুনি, লতা, গড়ইখালী বাদে ৭ ইউপির অসম্পূর্ণ তালিকা জমা হয়েছে। তালিকা  তৈরিতে কর্তৃত্ব-নেতৃত্ব নিয়ে শাসক দলের নেতা-কর্মী, ইউপি চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্যদের সমন্বয়হীনতার কারণে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাহিদ উল মোস্তাক জানান, নিয়মনীতি মেনেই তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। স্বজন-প্রীতি কিংবা রাজনৈতিক কোন প্রভাবে উক্ত তালিকা করা হয়নি। আবেদনকারীদের মধ্যে যাদের কাগজপত্র সঠিক আছে এবং ঘর আছে তাদেরকেই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রথম রেজুলেশনের নাম কাটাছেঁড়া প্রসঙ্গে বলেন, যাচাই-বাছাইকালে দেখা গেছে যাদের কাগজপত্র অসম্পূর্ণ ও ঘর নেই তাদের নাম বাদ পড়েছে। সরকারি সকল নিয়মনীতি মেনেই চূড়ান্ত তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে।
কয়রা উপজেলায় হতদরিদ্রদের মাঝে ১০ টাকা কেজি দরের চাল বিতরণে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। হতদরিদ্রের তালিকা তৈরীতে গড়িমসি ও ডিলার নিয়োগে সমন্বয়হীনতার কারণে এ অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এ কমসূচির আওতায় উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে ১০ হাজার ৩৫৯ জন হতদরিদ্র মানুষের মাঝে মাসিক দু’দফায় জনপ্রতি ৩০ কেজি হারে চাল বিতরণ করার সিদ্ধান্ত রয়েছে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নবেম্বর এবং ২০১৭ সালের মার্চ ও এপ্রিল মোট পাঁচ মাস ১০ টাকা কেজি দরের চাল হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর মাঝে বিতরণ করার কথা। অথচ এক মাস পার হতে চললেও তালিকা জমা না হওয়ায় চাল ফেরত যাওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে।
গত ৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কুড়িগ্রামে হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর হাতে ১০ টাকা কেজি মূল্যের চাল তুলে দিয়ে কমসূচির আনুষ্ঠানিক শুভ সূচনা করেন। জাতীয় কমসূচির অংশ হিসেবে সারা দেশের ন্যায় একই দিন স্থানীয় সংসদ সদস্য এডভোকেট শেখ মো. নুরুল হক কয়রা উপজেলার বাগালি ইউনিয়নের ২০ জন হতদরিদ্র মানুষের হাতে চাল তুলে দিয়ে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধনের এক মাস পার হলেও এখনও তালিকা প্রস্তুত করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানগণ। তাছাড়া ডিলার নিয়োগে ইউপি চেয়ারম্যান, ইউএনও এবং সংসদ সদস্যের সাথে এক ধরনের সমন্বয়হীনতা দেখা দেয়ায় সরকারের মহতি এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
কয়রা উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক ও গুদাম কর্মকর্তা কার্তিক দেবনাথ বলেন, খাদ্য বিভাগের পক্ষ থেকে চাল বিক্রির সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। কিন্তু ইউপি চেয়ারম্যানগণ হতদরিদ্রদের নামের পূর্ণাঙ্গ তালিকা এখনও জমা দিতে পারেননি। যে কারণে সেপ্টেম্বর মাসের চাল তামাদি হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে।
একাধিক ইউপি চেয়ারম্যান জানান, ঈদের ছুটি ও অভ্যন্তরীণ কিছু সমস্যার কারণে তালিকা তৈরী করতে ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে। তবুও চেষ্টা করা হচ্ছে এ মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ তালিকা জমা দেয়ার জন্য। যাতে করে চাল ফেরত না যায়।
এ ব্যাপারে কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বদিউজ্জামান বলেছেন, বার বার তাগিদ দেয়া সত্বেও ইউপি চেয়ারম্যানরা পূর্ণাঙ্গ তালিকা জমা দিচ্ছেন না। তাছাড়া ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করায় কার্যক্রম বিলম্বিত হচ্ছে। আশা করছি দু’এক দিনের মধ্যে সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।
খুলনা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মাহবুবুর রহমান খান বলেন, প্রত্যেকটি উপজেলায় ১০ টাকা কেজি দামে চাল বিক্রির কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে সকল ইউনিয়নে এখনো এ কার্যক্রম চালু হয়নি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ