ঢাকা, সোমবার 19 November 2018, ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

পূজার উৎসব আনন্দে মুখর নাটোর

অনলাইন ডেস্ক: উৎসবমুখর পরিবেশে আজ শুক্রবার থেকে নাটোরে দূর্গাপূজা শুরু হয়েছে। আকর্ষণীয় আলোকসজ্জা, তোরণ, লেজার লাইট শো, ঢাক আর গানের মুর্চ্ছনায় শহরের রাত সেজেছে অপরূপ সাজে। নতুন ২টিসহ জেলায় মোট ৩৪৩টি মন্ডপে এবার পূজার আয়োজন করা হয়েছে। 

গত শুক্রবার মহালয়ার মাধ্যমে শুরু হয়েছে পূজার আনুষ্ঠানিকতা। পূজার আয়োজনে পাল্টে গেছে চিরচেনা নাটোর শহর। পুরো শহর জুড়ে অসংখ্য তোরণ আর আলোকসজ্জা পূজার জানান দিচ্ছে। শহরের নীচাবাজার, ফৌজদারীপাড়া, লালবাজার, চৌকিরপাড়, কান্দিভিটুয়া আর কাপুড়িয়াপট্টির কয়েক কিলোমিটার রাস্তা জুড়ে অসংখ্য তোরণ আর বৈচিত্র্যময় আলোকসজ্জা। কান্দিভিটুয়ার অন্নপূর্ণ সংঘ, নীচাবাজারের বৈকালী সংঘ এবং ফৌজদারীপাড়ার প্রভাতী সংঘের মন্ডপ প্রবেশ তোরণ চোখে পড়ার মত। বেশ কয়েকটি মন্ডপে অত্যাধুনিক সাউন্ড সিস্টেমে গান আর লেজার লাইট পুজার মঞ্চকে আকর্ষণীয় করে তুলেছে। 

নাটোর পৌর এলাকায় এবার মন্ডপ সংখ্যা ৩৪টি। প্রতিবারের মত এবারও সবচেয়ে জাকজমকপূর্ণ আয়োজন বৈকালী সংঘের। এই মন্ডপের আকর্ষণীয় প্রতিমা তৈরি করেছেন মানিকগঞ্জের কৃষ্ণপাল এবং সাজসজ্জার কাজ করেছেন স্থানীয় একটি ডেকোরেটর। কান্দিভিটুয়া অন্নপূর্ণ সংঘের আকর্ষণীয় সাজ-সজ্জার কাজ করেছে যশোরের হীরা লাইট হাউস। এই মন্ডপের সাজ-সজ্জা শহরের মধ্যে অন্যতম সেরা বলে দাবী করেছেন অন্নপূর্ণা সংঘের সভাপতি এ্যাড. প্রসাদ কুমার তালুকদার। শহরের মন্ডপগুলোর মধ্যে আকর্ষণীয় প্রতিমা তৈরি এবং সাজ-সজ্জার জৌলুস ছড়াতে নিরব প্রতিযোগিতা উপলব্ধি করা যাচ্ছে। 

পূজা উদ্যাপন পরিষদ নাটোর জেলা শাখার সভাপতি চিত্ত রঞ্জন সাহা বলেন, নাটোরের পূজা সব ধর্মের মানুষই উপভোগ করেন। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকেও দর্শণার্থী এই সময় নাটোরে আসেন। তিনি জানান, এই বছর জেলায় ৩৪৩টি মন্ডপে পূজার আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে নাটোর সদরে ৭০টি, সিংড়া উপজেলায় ৮৭টি, নলডাঙ্গায় ৫২টি, বড়াইগ্রামে ৪৬টি, গুরুদাসপুরে ৩২টি, লালপুরে ৩৭টি এবং বাগাতিপাড়া উপজেলা ১৯টি। চিত্ত রঞ্জন সাহা আরো জানান, সুষ্ঠুভাবে পূজার আয়োজনে পরিষদের সাথে উপজেলা ও সকল মন্ডপ কমিটির যৌথ সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। প্রতিটি মন্ডপে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবক দল দায়িত্ব পালন করবে।

নাটোর জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার পরিদর্শক মো. ইব্রাহিম জানিয়েছেন, জেলার ৩৪৩টি মন্ডপের মধ্যে ১০৫টি অতি গুরুত্বপূর্ণ, ১২০টি গুরুত্বপূর্ণ এবং ১১৮টি সাধারণ। শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষায় সাধারণ ও গুরুত্বপূর্ণ মন্ডপে মহিলা সহ ৭ জন আনসার সদস্য এবং অতি গুরুত্বপূর্ণ মন্ডপে মহিলা সহ ৮ জন আনসার সদস্যের পাশাপাশি ১ জন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া পুলিশের পিকেট ডিউটি, ফুট পেট্রোল, চেক ইন এবং ভ্রাম্যমান দল সব সময় তৎপর থাকছে। পূজা উপলক্ষে শহরে যান চলাচল নিয়ন্ত্রিত করা হয়েছে।

র‌্যাব-৫ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, জেলার সব কয়টি উপজেলায় র‌্যাবের টহল দল কাজ করছে। তিনি বলেন, পুলিশ ও প্রশাসনের সহযোগিতায় যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলার সক্ষমতা আমাদের রয়েছে।

জেলা প্রশাসক শাহীনা খাতুন বলেন, সুষ্ঠু ভাবে পূজা উদ্যাপনে সমন্বয় সভা করে প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রশাসনের মনিটরিং টিম কাজ করছে।

নাটোর পৌর এলাকার ৩৮টি মন্ডপের প্রতিমা বিসর্জন সম্মিলিত শোভাযাত্রা সহযোগে রাণী ভবানী রাজবাড়ী সংলগ্ন জয়কালী দিঘিতে হয়ে থাকে। প্রতিমা বিসর্জনের জন্য ২টি মঞ্চ নির্মাণের কাজ নাটোর পৌরসভার পক্ষ থেকে করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মেয়র ঊমা চৌধুরী।

পূজার ব্যয় নির্বাহের জন্য দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জেলার মন্ডপগুলোর জন্য ১৭০.৫০০ টন চাল বরাদ্দ দিয়েছে। ইতোমধ্যে মন্ডপ প্রতি প্রায় ৫০০ কেজি করে চাল বিতরণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। 

নাটোর সদর আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. শফিকুল ইসলাম শিমুল বাসস’কে বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে সার্বজনীন এই উৎসবকে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে আমরা বদ্ধ পরিকর।

নাটোরের পূজা দেখতে দেশের বিভিন্ন স্থানের আগন্তুকদের মত পরিবারবর্গ সহযোগে নাটোরে আসছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সায়েমা আলম। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সভাপতি আর রাজী বাসসকে বলেন, নাটোরের পূজা উৎসব এবং নাটোরের মানুষের আতিথেয়তা সারাদেশে অগ্রগামী। সমন্বিত পরিকল্পনা ও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে পূজার মৌসুমে পূজা দেখতে এবং চলনবিলের সুস্বাদু মাছ আর নৌকা ভ্রমণে নাটোরে মানুষের ঢল নামতে পারে। 

-বাসস

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ