ঢাকা, শনিবার 15 October 2016 ৩০ আশ্বিন ১৪২৩, ১৩ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সুইডেনে অভিবাসীদের স্থায়ী বসবাসে আইন কঠোর হচ্ছে

১৪ অক্টোবর, বিবিসি বাংলা : সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে দেশ ছেড়ে ইউরোপের দেশগুলোতে আশ্রয় নিয়েছে দেশটির বহু মানুষ। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উত্তাল সাগর পারি দিতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছে অসংখ্য অভিবাসী। অনেকে আবার প্রাণ নিয়ে পৌঁছেছেন ইউরোপের বহু দেশে। তবে অভিবাসী স্রোত নিয়ন্ত্রণে সুইডেনের মতো অনেক দেশই এখন নতুন করে আইন করছে। যাতে করে কঠিন হয়ে উঠবে অভিবাসীদের স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়া।
প্রায় দেড় বছর আগে যুদ্ধ বিধ্বস্ত সিরিয়া ছেড়েছিল ইব্রাহীম। তার বয়স ২০। এই বয়সে নৌকায় করে আরও ৭শ’ অভিবাসীর সঙ্গে সাগর পারি দিয়ে ইউরোপের পথে ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা শুরু করেছিল এই কিশোর।
ইব্রাহীম বলেন, আমাকে সিরিয়া ছাড়তেই হত। কোথায় যাব তা জানা ছিল না। সেটা যে কোন দেশ হতে পারে। কিন্তু সিরিয়া ছাড়তেই হবে। আমি সুইডেনকে পছন্দ করলাম কারণ এখানে আমার কিছু বন্ধু ছিল। যারা আমার আগে এসেছিল। আর সুইডেনে কোন বর্ণবাদ নেই। একটি ভাল বিষয় হল এখানে বসবাসের স্থায়ী অনুমতি পাওয়া যায়।
ইব্রাহীম নিজেকে ভাগ্যবান ভাবছে কারণ সে সুইডেনে এসেছে। স্থায়ী বসবাসের যে অনুমতির আশায় সে এখানে এসেছে সম্প্রতি সে সেটাও পেয়ে গেছে। তবে তার ভাগ্য এজন্য আরও ভাল যে তার আবেদনের নিষ্পত্তি হয়ে গেছে ২০ জুলাইয়ের আগে। সুইডেনে ২০ জুলাই থেকে নতুন অভিবাসী আইন কার্যকর হয়েছে।
সুইডেনের কর্মসংস্থান নারী মন্ত্রী ওবিয়া হানছেন বলেন, ‘আমাদের দেশে গত বছর ১ লাখ ৬৩ হাজার আশ্রয়প্রার্থী আমরা নিয়েছি। ১০ মিলিয়ন মানুষের দেশে এটি একটি বিরাট সংখ্যা। জনসংখ্যা বিবেচনায় অন্য যেকোন দেশের তুলনায় আমরা বড় দায়িত্ববোধের পরিচয় দিয়েছি। তবে এটি অব্যাহতভাবে চলতে পারে না। তাই একটা সমাধানের প্রয়োজন ছিল। তাতে করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যদের সঙ্গে বিষয়টি শেয়ার করা যায়’।
নতুন আইন অনুযায়ী ইব্রাহীমের মতো অন্য অভিবাসী আবেদনকারীরা এখানে বসবাসের জন্য অস্থায়ী অনুমতি পাবে। এটি হতে পারে ১৩ মাস থেকে ৩ বছরের জন্য।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে এই নিয়ে প্রতিবাদ হচ্ছে রাজধানীর স্টকহোমের পার্লামেন্টের সামনে। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে অংশ নিয়েছে বহু মানুষ যারা নতুন আইনের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
তেমনি একজন আশ্রয়প্রার্থী এক যুবক বলেন, ‘মনে হচ্ছে আমি অস্থায়ী অনুমতি পেতে যাচ্ছি। আশা করি সুইডেনের কর্মকর্তারা আমাদের জন্য কিছু করবে সেজন্য আমরা এখানে সমাবেত হয়েছি। এটা হতাশাজনক কারণ নতুন আইন হওয়ার আগেই আমি আঙ্গুলের ছাপসহ আনুষাঙ্গিক কাজ সম্পন্ন করেছিলাম।
এটা ন্যায় বিচার হল না। কিন্তু সুইডেন সরকারের কানে কি এসব কথা যাচ্ছে। মন্ত্রী ওবিয়া হানছেন জানান, ‘অবশ্যই আমি হতাশাটা বুঝতে পারছি। তবে সরকারকে প্রয়োজনীয় সিন্ধান্ত নিতে হবে। এটাই পরিস্থিতি অনুযায়ী সঠিক সিন্ধান্ত। সুইডেনে তাদের বসবাসের জন্য আমরাও আরও ভাল কিছু করতে চাই। কিন্তু প্রতি বছর ১ লাখ ৬৩ হাজার শরণার্থী নেওয়ার সামর্থ্য আমাদের নেই’।
সুইডিশ সরকারের বিরুদ্ধে এমন প্রতিবাদ বেড়েই চলেছে। তবে তাতে অবস্থার খুব একটা পরিবর্তন হচ্ছে না। কারণ শরণার্থীদের জন্য বিদ্যমান আইনগুলো প্রতিনিয়ত কঠিন হচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ