ঢাকা, শনিবার 15 October 2016 ৩০ আশ্বিন ১৪২৩, ১৩ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

বাগমারায় নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান পেতে স্বজনদের সাংবাদিক সম্মেলন

বাগমারা সংবাদদাতা : রাজশাহীর বাগমারার বিভিন্ন গ্রাম থেকে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে ধরে নিয়ে যাওয়ায় তিনজনের সন্ধান চেয়ে শুক্রবার সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন স্বজনেরা। সম্মেলনে নিখোঁজদের ফিরিয়ে দেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের প্রতি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন নিখোঁজের পরিবার। 

গতকাল সকাল ১১টার দিকে মাড়িয়া ইউপি’র বালিয়া গ্রামের নিখোঁজ আনিসুর রহমান ওরফে আনছের আলীর বাড়িতে অনুষ্ঠিত সাংবাদিক সম্মেলনে নিখোঁজ হওয়া আনিসুর রহমান আনছের, মোস্তাক ও শাহ আলম ইমনের স্বজনেরা জানান, গত ২৯ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত দুইটা থেকে আড়াইটার মধ্যে ১৪/১৫ জনের একদল সাদা পোশাকে কয়েকজন লোক তাদের বাড়িতে আসে।

এসময় তারা নিজেদের আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য পরিচয় দেয়। তারা ওইসব ব্যক্তিদের ধরে গাড়িতে করে নিয়ে যায়। কি কারণে তাদের ধরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এই বিষয়ে জানতে চাইলে তারা কোনো উত্তর দেননি। পরের দিন তারা বিভিন্ন বাহিনীর দপ্তরে গিয়ে নিখোঁজদের কোনো খবর পাননি বলে জানিয়েছেন। নিখোঁজ আনিসুর রহমানের বড়ভাই শামসুল ইসলাম জানান, ধরে নিয়ে যাওয়া ব্যক্তিরা সবাই সাদা পোশাকে ছিলেন। একটি সাদা ও কালো রঙের মাইক্রোবাসে করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাদের পরিচয় জানতে চাইলেও জানায়নি। এসময় মোটরসাইকেলে করে তাদের অনুসরণ করা হলে তারা (অপহরণকারীরা) মোটরসাইকেলের চাবি কেড়ে নিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের ফেরত দেয়। যুবলীগের নেতা শাহ আলমের বড়ভাই বেসরকারি সংস্থার কর্মকর্তা শাহনেওয়াজ জানান, তার ভাইকে পুলিশ হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন আসামী হিসাবে আটক করলেও পরে জামিনে মুক্তি পেয়েছে। এর পর থেকে বাড়িতেই অবস্থান করছিল। নিখোঁজ মোস্তাকের বৃদ্ধা মা মাহমুদা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ছেলের জন্য এখনো বসে আছেন। খাওয়া, দাওয়া বন্ধ রেখেছেন। ছেলেকে ফিরে দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন। নিখোঁজ হওয়া ব্যক্তিদের দ্রুত খুঁজে বের করে তাদের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার জন্য আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। নিখোঁজদের স্বজনদের ভাষ্য, যদি তারা কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকে তাহলে দেশের প্রচলিত আইনের মাধ্যমে বিচার করা হোক। তবে যারা নিয়ে গেছে তাদের আচরণে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য বলে মনে হয়নি বলে জানান। সম্মেলনে নিখোঁজদের স্বজন ছাড়াও প্রতিবেশীরা উপস্থিত ছিলেন।   

এব্যাপারে বাগমারা থানার ওসি সেলিম হোসেন জানান, নিখোঁজ পরিবারের পক্ষে জিডি নেওয়া হয়েছে, তাদের উদ্ধারের জন্য চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ