ঢাকা, শনিবার 15 October 2016 ৩০ আশ্বিন ১৪২৩, ১৩ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

অবিভক্ত বাংলার প্রথম গ্রাজুয়েট বঙ্কিম চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

মোঃ জোবায়ের আলী জুয়েল : পন্ডিত ভবানী চরণ বিদ্যাভূষণের দৌহিত্র ও যাদব চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের তৃতীয় পুত্র বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ঔপন্যাসিক বঙ্কিম চন্দ্র চট্টোপাধ্যায় পশ্চিম বাংলার চব্বিশ পরগনা জেলার নৈহাটি জংশন স্টেশনের নিকটবর্তী কাঁঠালপাড়া গ্রামে ১৮৩৮ খ্রিস্টাব্দের ২৬ জুন (বাংলা ১২৪৫ সালের ১৩ আষাঢ়) রাত ৯টায় জন্মগ্রহণ করেন। তার মা ছিলেন দুর্গা দেবী। বঙ্কিমের পিতা ইংরেজি ও ফারসি ভাষায় সুশিক্ষা লাভ করে ইংরেজ সরকারের অধীনে চাকরি লাভ করেন এবং স্বীয় কর্মদক্ষতার গুণে অবশেষে ডেপুটি কালেক্টরের পদ লাভ করেন। মাত্র ১২ বছর বয়সে গ্রামের ৫ বছরের একটি বালিকার সঙ্গে বঙ্কিম চন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।
অনেক ক্ষেত্রে পিতার মহত্ব ও বৈশিষ্ট্যের ছাপ পড়ে সন্তানের উপর। অন্যদিকে পিতার চৌর্যবৃত্তি, পাপাচার, গোলামী ও দালালি করার ছাপ সন্তানের উপর পড়াও অস্বাভাবিক নয়। বঙ্কিম চন্দ্র সম্ভ্রান্ত বংশে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তার পিতা যাদব চন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ইংরেজ সরকারের ডেপুটি কালেক্টর পদে কৃতিত্বের সাথে বহাল ছিলেন। পরে ইংরেজ সরকার তার কাজে খুশি হয়ে তাকে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট করে দিয়েছিলেন। সেকালে ভারতীয়দের পক্ষে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট পদটি পাওয়া খুব সহজ ছিল না। সরকারের অত্যন্ত অনুগত ও বিশ্বস্ত না হলে এ পদ পাওয়া যেতো না। বঙ্কিমেরা ছিলেন ৪ ভাই। বঙ্কিম ছিলেন সেজ। বড় ভাইয়ের নাম শ্যামাচরণ, মেজভাই সঞ্জীব চন্দ্র ও ছোট ভাই ছিলেন পূর্ণ চন্দ্র। বঙ্কিমের বড় ভাই শ্যামাচরণ চট্টোপাধ্যায়ও ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট হতে পেরেছিলেন। বঙ্কিমের মেজ ভাই সঞ্জীব চন্দ্রও হন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট। বঙ্কিম চন্দ্রের ছোট ভাই পূর্ণ চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ও ছিলেন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট। সুনীল কুমার বসূ তার বঙ্কিম চন্দ্র চট্টোপাধ্যায় পুস্তকে লিখেছেন ‘একই পরিবারে এতগুলো ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট সদস্য দেখা যায় না। সেদিনের বিদেশি শাসনের যুগে ভারতীয়রা ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেটের চেয়ে উচ্চতর পদ পাওয়ার আশা করতে পারতো না।
১৮৪৪ খ্রিস্টাব্দে বঙ্কিম চন্দ্রের বয়স যখন ৬ বছর তখন তিনি মেদিনীপুরে ইংরেজী স্কুলে ভর্তি হন। ১৮৪৪ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৮৪৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত প্রায় ৫ বছর বঙ্কিম চন্দ্র মেদিনীপুর ইংরেজী স্কুলের ছাত্র ছিলেন।
মেদিনীপুর থেকে কাঁঠালপাড়ায় ফিরে আসার কিছুদিনের মধ্যেই সেকালের বাল্য বিবাহের রীতি অনুযায়ী ১৮৪৯ খ্রিস্টাব্দের ফেব্রুয়ারী মাসে কাঁঠাল পাড়ারই কাছে নারায়ণপুর গ্রামের ৫ বছর বয়সের মেয়ে মোহিনী দেবীর সঙ্গে বঙ্কিম চন্দ্রের বিয়ে হয়। সাড়ে এগারো বছর বয়সে ১৮৪৯ খ্রিস্টাব্দের ২৩ অক্টোবর বঙ্কিম চন্দ্র হুগলী কলেজে (তখন হাজী মহম্মদ মহসিন কলেজ নামেও পরিচিত) ভর্তি হন। তখনকার দিনে এখনকার মত এসএসসি, এইচএসসি ও বিএ পরীক্ষার প্রবর্তন হয়নি। ছাত্ররা জুনিয়র ও সিনিয়র স্কলারশিপ পরীক্ষা দিত। বঙ্কিম চন্দ্রের সাহিত্য প্রতিভার উন্মেষের পেছনে যার অবদান সবচেয়ে বেশি তিনি হলেন নৈহাটির নিকটবর্তী কাঁচড়াপাড়ার প্রসিদ্ধ স্বভাব কবি ঈশ্বর চন্দ্র গুপ্ত (১৮১২-১৮৫৯ খ্রি.)। ঈশ্বর চন্দ্র গুপ্ত সংবাদ প্রভাকর (১৮৩১ খ্রি.) নামে একটি পত্রিকা প্রকাশ করেছিলেন। এই পত্রিকার প্রধান লেখকও ছিলেন বঙ্কিম চন্দ্র।
১৮৫৩ খ্রিস্টাব্দে বঙ্কিম চন্দ্র ‘সংবাদ প্রভাকর’ কবিতা প্রতিযোগিতায় যোগদান করে কুড়ি টাকা পুরস্কার পেয়েছিলেন। তার এই কবিতাটির নাম ‘কামিনীর প্রতি উক্তি তোমাতে লো ষড়ঋতু’ প্রকাশ কাল ১৮৫৩ খ্রি.। এই পুরস্কার প্রদান করেছিলেন আমাদের রংপুরের তুষ ভা-ারের জমিদার রমনী মোহন চৌধুরী ও গোপালপুরের ‘রঙ্গপুর বার্তাবহ পত্রিকার’ (১৮৪৭ খ্রি.) সম্পাদক কালী চন্দ্র রায় চৌধুরী।
১৮৫৪ খ্রিস্টাব্দে বঙ্কিম চন্দ্র জুনিয়র স্কলারশিপ ও ১৮৫৬ খ্রি. সিনিয়র স্কলারশিপ পরীক্ষায় কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হন। পরবর্তীতে ১৮৫৬ খ্রি. প্রেসিডেন্সি কলেজে আইন পড়ার জন্য প্রবেশ করেন।
১৮৫৭ খ্রি. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বপ্রথম এনট্রান্স বা প্রবেশিকা (বর্তমান এসএসসি) পরীক্ষার প্রবর্তন হয়। (তখন এন্ট্রান্স পরীক্ষা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ছিল)। ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের এপ্রিলে বঙ্কিম চন্দ্র প্রেসিডেন্সি কলেজের আইন বিভাগ থেকে এনট্রান্স পরীক্ষা দেন। সর্বমোট ২৪৪ জন ছাত্র পরীক্ষা দিয়েছিল। তার ভেতর প্রথম বিভাগে ১১৫ জন ও দ্বিতীয় বিভাগে ৪৭ জন ছাত্র উত্তীর্ণ হন। বাকি ৮২ জন ছাত্র ফেল করে। কারণ তখন তৃতীয় বিভাগ বলে কিছু ছিল না। যারা শতকরা ৫০ বা তার বেশি নম্বর পেয়েছিলেন তারা প্রথম বিভাগে এবং যারা শতকরা ২৫ অথচ শতকরা ৫০-এর কম নম্বর পেয়েছিল, তারা দ্বিতীয় বিভাগে উত্তীর্ণ হয়। বঙ্কিম চন্দ্র প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন। সে বছর উত্তরপাড়া স্কুল থেকে কবি হেম চন্দ্র বন্দোপাধ্যায় কলুটোলা ব্রাঞ্চ স্কুল (বর্তমান হেয়ার স্কুল) থেকে কৃষ্ণ কমল ভট্টাচার্য এবং হিন্দু স্কুল থেকে সতেন্দ্রনাথ ঠাকুর (বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথের অগ্রজ), গনেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও যোগেন্দ্রনাথ ঘোষ প্রমুখও এনট্রান্স পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন।
পরের বছর অর্থাৎ ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দের এপ্রিল মাসে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বপ্রথম বিএ পরীক্ষার প্রবর্তন হলো। তখনও এফ,এ (ফাস্ট আর্টস) বর্তমান আইএ বা এইচএসসি পরীক্ষার প্রচলন হয়নি। ১৮৬২ খ্রিস্টাব্দে এর প্রবর্তন হয়। সুতরাং সে সময় এন্ট্রান্স পরীক্ষায় (বর্তমান এসএসসি) পাস করেই বিএ পরীক্ষা দিতে হতো। কাজেই বঙ্কিম চন্দ্রকে আর আইএ বা এইচএসসি পরীক্ষা দিতে হয়নি। সে সময় সর্বমোট ১০ জন ছাত্র বি এ পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করেছিলেন। তার মধ্যে কেবল  ২ জন বঙ্কিম চন্দ্র ও যদুনাথ বসু দ্বিতীয় বিভাগে উত্তীর্ণ হন। বঙ্কিম চন্দ্র প্রথম ও যদুনাথ দ্বিতীয় স্থান লাভ করেন। দু’জনেই এরা প্রেসিডেন্সি কলেজের ছাত্র। বঙ্কিম চন্দ্র আইন বিভাগের ও যদুনাথ সাধারণ বিভাগের ছাত্র ছিলেন। বঙ্কিম চন্দ্র ও যদুনাথ ৬টি বিষয়ের মধ্যে ৫টিতে কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। কিন্তু ষষ্ঠ বিষয়টি ছিল ‘মেন্টাল এন্ড মোরাল সায়েন্স’ কিন্তু এই ষষ্ঠ বিষয়টিতে তারা কিছু কম নম্বর পেয়ে ফেল করেন। ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দের ২৪ এপ্রিল কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় পরীক্ষকদের সুপারিশ অনুযায়ী ঐ দু’জনকে ৭ নম্বর গ্রেস দিয়ে বিএ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ বলে বিবেচিত করবার প্রস্তাব নেয়া হয়। ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় বঙ্কিমচন্দ্র ও যদুনাথ বসুর উপস্থিতিতে তাঁদের বিএ ডিগ্রী প্রদান করা হয়। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেটি একটি বিশেষ মুহূর্ত। কারণ এরা দুজনেই কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম গ্রাজুয়েট।
১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দে ২০ বছর বয়সে বঙ্কিমচন্দ্র যশোরে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ও ডেপুটি কালেক্টর হিসেবে তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন। এই যশোরে অবস্থানকালেই বিখ্যাত ‘নীলদর্পণ’ নাটক রচয়িতা নাট্যকার দীনবন্ধু মিত্রের সঙ্গে বঙ্কিমচন্দ্রের প্রথম পরিচয় হয়। এই পরিচয়ক্রমে ঘনিষ্ঠ বন্ধুতে পরিণত হয়েছিল। যশোরে থাকাকালে ১৮৫৯ খ্রিস্টাব্দের শেষের দিকে বঙ্কিমচন্দ্রের স্ত্রী মোহিনী দেবী মারা যান। মৃত্যুকালে তার স্ত্রীর বয়স হয়েছিল মাত্র ১৫ বছর। বঙ্কিমের বয়স তখনও ২১ বছর পেরোয়নি।
১৮৬০ খ্রিস্টাব্দে জুন মাসে হালিশহরের বিখ্যাত চৌধুরী বাড়ির মেয়ে রাজলক্ষ্মী দেবীর সঙ্গে বঙ্কিম চন্দ্রের বিয়ে হয়। বিয়ের পর ১২ বছর বয়সের স্ত্রী রাজলক্ষ্মীকে নিয়ে তার কর্মস্থল নেগুয়ায় আসেন। এই চাকরি জীবনে মেদিনীপুরের নেগুয়াতে অবস্থানকালেই সমুদ্র ও অরণ্যের সৌন্দর্য দর্শনে তাঁর মনে বিখ্যাত রোমান্টিক উপন্যাস ‘কপাল কুন্ডলা’ রচনার অনুপ্রেরণা জন্মায়।
১৮৫৬ খ্রিস্টাব্দে বঙ্কিমচন্দ্রের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘ললিতা’ ও ‘মানস’ প্রকাশিত হয়। ১৮৬৫ খ্রিস্টাব্দে তার প্রথম সার্থক উপন্যাস ‘দুর্গেশ নন্দিনী’ প্রকাশিত হলে বাংলা সাহিত্যে এক নতুন যুগের সূচনা হয়। তার সম্পাদনায় ১৮৭২ খ্রিস্টাব্দে ‘বঙ্গদর্শন’ নামে একখানা উন্নতমানের সাহিত্য পত্রিকা প্রকাশিত হয়েছিল। বঙ্কিম চন্দ্রের উপন্যাসগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- দুর্গেশ নন্দিনী, কপাল কুণ্ডলা, মৃণালীনি, বিষবৃক্ষ, ইন্দিরা, যুগলাঙ্গুরীয়, চন্দ্রশেখর, রাধা রাণী, কৃষ্ণকান্তের উইল, রাজসিংহ, আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী, সীতারাম প্রভৃতি। উপন্যাস ছাড়াও ললিতা, লোকরহস্য, বিজ্ঞান রহস্য, কমলা কান্তের দপ্তর, বিবিধ সমালোচনা, দীনবন্ধু মিত্রের জীবনী, কবিতা পুস্তুক, প্রবন্ধ পুস্তক, মুচিরামগুড়ের জীবন চরিত, বিবিধ প্রবন্ধ, ধর্মতত্ব, কৃষ্ণ চরিত্র, সহজ রচনা শিক্ষা, সংখ্যা দর্শন, বঙ্গ দেশের কৃষক, শ্রী মদ্ভগবদগীতা প্রভৃতি অজস্র বিচিত্র সাহিত্যমন্ডিত জ্ঞানগর্ভ সাহিত্য সম্ভারে বাংলা সাহিত্য ভাণ্ডারকে তিনি সমৃদ্ধ করেছেন। বঙ্কিম চন্দ্রের এ যাবত প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ৩৪।
১৮৬৯ খ্রিস্টাব্দের শেষের দিকে বঙ্কিম চন্দ্র মুর্শিদাবাদের বহরমপুরে বদলী হন। বহরমপুরে তিনি প্রায় ৪ বছর অবস্থান করেন। বঙ্কিমচন্দ্রের সবচেয়ে অন্তরঙ্গ বন্ধু দীনবন্ধু মিত্রের মৃত্যু ঘটেছিল ১৮৭৩ সালের ১লা নবেম্বর। ঘনিষ্ঠ বন্ধুর মাত্র ৪৩ বছর বয়সে এই অকাল মৃত্যুতে বঙ্কিমচন্দ্র খুবই দুঃখ পেয়েছিলেন, ডাক বিভাগের একজন দক্ষ দায়িত্বশীল কর্মী হয়েও কর্তৃপক্ষের অবিচারের ফলে দীনবন্ধুর চাকরিতে পদোন্নতি হয় নাই। সে কারণেই দীন বন্ধুকে অকালে মৃত্যুবরণ করতে হয়।
বঙ্কিমচন্দ্র, ১৮৮১ খ্রিস্টাব্দে বিভাগীয় কমিশনারের পিএ এবং ১৮৮২ খ্রিস্টাব্দে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ও ডেপুটি কালেক্টর হিসাবে অস্থায়ীভাবে আলিপুরে বদলী হন। এ সময় তার প্রথম শ্রেণির ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ও ডেপুটি কালেক্টর পদে প্রমোশন হয়। কর্মময় জীবনে ১৮৮৫ খ্রিস্টাব্দে বঙ্কিম চন্দ্র কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটের সভ্য হন। তাঁর মতো একজন প্রতিভাবান, দক্ষ, নীতিবান ব্যক্তিকে ৩৩ বছর চাকরি করার পরও সেই ম্যাজিস্ট্রেটের একই পদ মর্যাদা নিয়ে কর্মজীবন শেষ করতে হয়ছে। ১৮৯১ খ্রিস্টাব্দের ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চাকরি করে অত্যন্ত অসুস্থ শরীর নিয়ে বঙ্কিমচন্দ্র অবসর নেন। ১৮৯২ খ্রিস্টাব্দে বঙ্কিমচন্দ্র তার দীর্ঘ একনিষ্ঠ কর্মজীবনের স্বীকৃতি হিসেবে ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক রায় বাহাদুর ও সিআইই (কম্পোনিয়ান অব দি ইন্ডিয়ান এম্পায়ার) উপাধি প্রাপ্ত হন।
বঙ্কিমচন্দ্র ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দে ডায়বেটিক রোগে আক্রান্ত হয়ে ৮ এপ্রিল (বাংলা ১৩০০ সালের ২৬ চৈত্র) বেলা ৩টা ২৫ মিনিটের সময় পঞ্চান্ন বছর ন’মাস বয়সে মারা যান। এভাবে বাংলা সাহিত্যাকাশের এক অত্যুজ্জ্বল নক্ষত্রের পতন ঘটলো।
বঙ্কিম চন্দ্রের কোন ছেলে ছিল না। তাঁর ছিল ৩ মেয়ে শরৎ কুমারী, নীলাব্জ কুমারী ও উৎপল কুমারী। বড়দা শ্যামা চরণের ছেলে কৃষ্ণচন্দ্র তাঁর মুখাগ্নি করেন। বঙ্কিম চন্দ্রের বিধবা স্ত্রী রাজলক্ষ্মী দেবী তার মৃত্যুর পরেও দীর্ঘদিন বেঁচে ছিলেন।
উনবিংশ শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ বুদ্ধিজীবী বঙ্কিম চন্দ্র দেশাত্মবোধ ও স্বাজাত্যবোধের পুরোধা ছিলেন। তার আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে নব চেতনায় উদ্দীপিত বাঙালী সমাজ ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল। তাই “ঋষি বঙ্কিম” বাঙালীদের দেওয়া তার স্বার্থক উপাধি।
তথ্যসূত্র :
(১) বঙ্কিমচন্দ্র    :    কানাইলাল রায়
(২) উনবিংশ শতাব্দীর পথিক    :    অরবিন্দ পোদ্দার পৃষ্ঠা ১০-১১
(৩) বাঙালীর রাষ্ট্র চিন্তা    :    সৌরেন্দ্র মোহন গঙ্গোপাধ্যায়
(৪) বঙ্কিম রচনাবলী    :    যোগেশ চন্দ্র বাগল ১ম খণ্ড পৃষ্ঠা ১৬-১৭
(৫) মধ্যবিত্ত সমাজের বিকাশ ও সংস্কৃতির
     রূপান্তর পৃষ্ঠা ১৮০    :    জাষ্টিস এ, মওদুদ
লেখক : সাহিত্যিক, গবেষক ও ইতিহাসবিদ

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ