ঢাকা, শনিবার 15 October 2016 ৩০ আশ্বিন ১৪২৩, ১৩ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সীমান্ত লঙ্ঘন করে জঙ্গি নিধনে বাংলাদেশের সমর্থন নেই

  • আমাদের প্রত্যেকের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার : অন্য দেশের সীমান্তে প্রবেশ করে জঙ্গি নিধনের মূলনীতি বাংলাদেশ সমর্থন করে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সফররত চীনা প্রেসিডেন্ট মি. শি জিনপিং এর ঢাকায় অবস্থানকালে এবং ভারতের গোয়ায় ব্রিকস-বিমসটেকের সম্মেলনে যোগদানের প্রাক্কালে গতকাল শুক্রবার প্রভাবশালী ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি এমন মন্তব্য করেছেন। দ্য হিন্দুর সাংবাদিক সুহাসিনী হায়দার গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎকারটি নেন।

প্রসঙ্গত, গত ২৮ সেপ্টেম্বর রাতে নিয়ন্ত্রণ রেখা পেরিয়ে ভারতের সেনারা সন্ত্রাসী ঘাঁটিগুলোতে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালানোর দাবি করে। সীমান্ত লঙ্ঘন করে পরিচালিত ওই অভিযানে ৯ পাকিস্তানী সেনা ও ৩৫ থেকে ৪০ জঙ্গি নিহত হয়েছে বলে দাবি করা হয়। ঘটনার পর থেকে দুই সেনা সদস্য নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করে পাকিস্তান দাবি করে আসছে এটি সার্জিক্যাল স্ট্রাইক ছিল না, সীমান্ত সংঘর্ষ বা আন্তঃসীমান্ত গোলাগুলীর ঘটনা ছিল।

সীমান্তের নিয়ন্ত্রণ রেখা পেরিয়ে পাকিস্তানে পরিচালিত কথিত এই অভিযান বাংলাদেশ সমর্থন করে কি না, দ্য হিন্দুর এমন প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা জোর দিয়ে বলেন, আমি মনে করি, দুই দেশের উভয়েরই নিয়ন্ত্রণরেখার সীমার ভেতরে থাকা উচিত। আর এতেই কেবল শান্তি আসতে পারে। সে সময় শেখ হাসিনাকে পাকিস্তানের প্রসঙ্গ উহ্য রেখে আবারও প্রশ্ন করা হয়, অন্য দেশের সীমান্তে প্রবেশ করে জঙ্গি নিধনের মূলনীতি বাংলাদেশ সমর্থন করে কি না। জানতে চাওয়া হয়, মিয়ানমারের সীমান্তে প্রবেশ করে ভারতের গত বছরের জঙ্গিবিরোধী অভিযান বাংলাদেশ সমর্থন করে কিনা। জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, আমি দৃঢ়ভাবে মনে করি, এই প্রশ্নটি তোমার (সাংবাদিকের) দেশের সরকার ও প্রধানমন্ত্রীকে করা উচিত।

সার্ক সম্মেলন বর্জন প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল নিয়ে অগ্রহণযোগ্য মন্তব্যের মধ্য দিয়ে পাকিস্তান আমাদের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করছে। এতে আমরা মর্মাহত হয়েছি। এছাড়া পাকিস্তানের পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে আমরা সার্ক সম্মেলন বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সন্ত্রাসবাদের কারণে সেখানকার সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ভুগছে। সে সন্ত্রাসবাদ সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছে। আর সেকারণে আমরা অনেকে পাকিস্তানের ওপর হতাশ হয়ে পড়েছি। ভারত-পাকিস্তানেরও দ্বিপাক্ষিক সমস্যা রয়েছে এবং আমি সে ব্যাপারে মন্তব্য করতে চাই না। উরির হামলার কারণে ভারত সার্ক বর্জন করেছে। কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে কারণটা ভিন্ন।

সন্ত্রাসবাদ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে সন্ত্রাসীদেরকে শেকড় গজাতে দেয়া যাবে না বলে আমি বিশ্বাস করি। অন্য দেশে জঙ্গি হামলা চালাতে কোনও গোষ্ঠীকে আমরা আমাদের দেশের মাটি ব্যবহার করতে দেব না। বাংলাদেশ এখন আর সন্ত্রাসবাদের উৎপত্তির দেশ নয় কিংবা আগের মতো অস্ত্র পাচারের সিল্ক রুটও নয়।

বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং গুম সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, এটা খুব দুর্ভাগ্যজনক যে মানবাধিকার সংগঠনগুলো ভুক্তভোগীদের চেয়ে অপরাধীদের অধিকারের পক্ষেই বেশি সোচ্চার। যুক্তরাষ্ট্রে কী হচ্ছে? যখন সেদেশের স্কুল কিংবা অন্য কোথাও হামলা হয় তখন সেখানকার আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কী করে? তারা কি হামলাকারীদের হত্যা করে জিম্মিদের উদ্ধার করে না? নিজেদের ওপর হামলা করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কি হামলাকারীদের হত্যা করবে না? তবে এখানে আইএসের কোনও সাংগঠনিক অস্তিত্ব নেই বলে তিনি আবারও দাবি করেন।

সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি যখন ক্ষমতায় এসেছি তখন আমাদের একটি মাত্র টেলিভিশন চ্যানেল ছিল, এখন ২৩টি আছে। কারা চালু করেছে এগুলো? কারা শত শত সংবাদপত্রকে অনুমোদন দিয়েছে? আর যদি সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতাই না থাকতো তবে স্বাধীনতা যে নেই এ কথাটিই বা তারা লেখার সুযোগ পায় কিভাবে? আমরা সম্পাদক শফিক রেহমানকে অন্য অপরাধে গ্রেফতার করেছি। তিনি যদি দেশবিরোধী কাজ করেন তবে তাকে অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। বাংলাদেশে তো অনেক সম্পাদক রয়েছেন। কয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে?

বাংলাদেশ চীনের ‘ওয়ান বেল্ট, ওয়ান রোড’ উদ্যোগে বড় ভূমিকা পালন এবং আঞ্চলিকভাবে বাংলাদেশ চীনের কথিত ‘স্ট্রিং অব পার্লস’ হয়ে উঠছে বলে ভারতের উদ্বেগ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আপনারা ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার ভালো সম্পর্কের কথা বলেছেন। আপনাদের যদি সেটা মনে হয়ে থাকে, তাহলে বাংলাদেশ চীনের দিকে ঝুঁকছে বলে কী করে অভিযোগ করতে পারেন? না, আমাদের নীতিমালা খুব পরিষ্কার। আমাদের প্রত্যেকের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রয়েছে এবং আমরা তা বজায় রাখতে চাই। আমরা বিআইএন নেটওয়ার্ক স্থাপন করেছি এবং এর ফলে ভুটান, ভারত এবং নেপালের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো হয়েছে। চীন, ভারত আর মিয়ানমারের সঙ্গেও আমরা বিসিআইএম অর্থনৈতিক করিডোর স্থাপন করেছি। তাতে আমাদের জনগণের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো হবে। আমাদের জনসাধারণের ক্রয় ক্ষমতা বাড়বে। আর তাতে আমাদের অঞ্চলে সবচেয়ে লাভবান কে হবে? ভারত। বাংলাদেশের বাজারে ভারতই বেশি সুবিধা নিতে পারে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ