ঢাকা, শনিবার 15 October 2016 ৩০ আশ্বিন ১৪২৩, ১৩ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

উলিপুরে দেড় শতাধিক শিশুর শিক্ষাজীবন অনিশ্চিত

মোস্তাফিজুর রহমান কুড়িগ্রাম থেকে : জেলার উলিপুর উপজেলার তবকপুর ইউনিয়নাধীন কাকপাড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় দেড়শতাধিক কোমলমতি শিশুর শিক্ষাজীবন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে শতভাগ প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম। মানবেতর জীবন যাপন করছে কর্মরত শিক্ষকমন্ডলী। উদবীগ্ন হয়ে পড়েছে কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীদের অভিভাবকবৃন্দ। 
প্রাপ্ত তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার তবকপুর ইউনিয়নের কাকপাড়া এলাকায় প্রাথমিক বিদ্যালয় না থাকায় ওই এলাকার শিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেয়ার মানসিকতায় এগিয়ে আসেন কাকপাড়া এলাকার উদ্যোক্তা দাতা ও প্রতিষ্ঠাতা আজিজুর রহমান। প্রতিষ্ঠাতা আজিজুর রহমান স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সহযোগিতায় ১৯৯৯ সালে কাকপাড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নামে একটি বিদ্যালয় স্থাপন করেন। এরপর ২০০২ সালে অনুমতি প্রাপ্ত হয়ে অদ্যাবদি ছাত্রছাত্রীদের পাঠদান ও বিদ্যালয় পরিচালনা করে আসছেন। যার বিদ্যালয় জমির দলিল নং-৭৩৩২, তারিখ ০১/০১/৯৯ এবং সংশোধিত দলিল নং-৬৫৫, তারিখ ৩০/০১/১৩।
এখানে উল্লেখ করা আবশ্যক যে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের উপজেলা শিক্ষা অফিসের কার্যালয় উলিপুর কুড়িগ্রাম এর স্মারক নং-উশিঅ/উলি/কুড়ি ৬৬৫ তারিখ ১৩/৯/১২ইং এর জরিপ প্রতিবেদনে দেখা যায় যে, ২২ নং ক্রমিকে কাকপাড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নিয়োগ প্রাপ্ত শিক্ষক/শিক্ষিকাদের তালিকায় আজিজুর রহমান, মোহসিনা খাতুন, রিনা পারভীন ও কারিমা বেগম এর নাম উল্লেখপূর্বক একটি প্রতিবেদন দাখিল করেন। ২৪/০৫/২০১২ তারিখের পূর্বে দলিল সম্পন্ন হয়েছে বর্তমানে চালু আছে এমন প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রস্তুত করে পাঠান ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট। যার স্মারক নং- জেপ্রাশিঅ/কুড়ি/২০১২/১২৯৭/৯, তারিখ ২৬/০৮/২০১২। উক্ত প্রতিবেদনে তবকপুর কাকপাড়া নামের কোনও প্রতিষ্ঠান না থাকলেও পরবর্তীতে সকল বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারি করা হবে এমন ঘোষণা আসার পর স্থানীয় কিছু অসাধু শিক্ষা কর্মকর্তার যোগসাজশে পার্শ্ববর্তী গ্রামে তবকপুর কাকপাড়া নামের আর একটি বিদ্যালয়ের জন্ম হয়।
উল্লেখ্য, কাকপাড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রেজিস্ট্রেশন ও জাতীয়করণ করার জন্য কুড়িগ্রাম-৩ আসনের সংসদ সদস্য (প্রাক্তন মন্ত্রী) একেএম মাঈদুল ইসলাম দু’টি ডিও লেটার প্রদান করেন। যার স্মারক ও-ডিওপত্র নং-২০১০/১০০৬ এবং পত্র নং-২০১৩/৩০০৯। এরপরও স্থানীয় কিছু অসাধু ব্যক্তি উলিপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের অশাধু কর্মকর্তা কর্মটারীকে ম্যানেজ করে তবকপুর কাকপাড়া নামের আর একটি বিদ্যালয় স্থাপন করে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে আসছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফলে কাকপাড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিসহ অন্যান্য শিক্ষক ও সদস্যগণ কুড়িগ্রাম সহকারী জজ আদালতে মামলা করতে বাধ্য হন। যার মামলা নং-১৬৪/১৩ অন্য। মামলাটি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
এ ব্যাপারে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিদ্যালয়ের কাগজপত্র যাচাই মোতাবেক কাকপাড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবকপুর কাকপাড়া নামের বিদ্যালয়টি হওয়ার মত কোন উপযুক্ত কাগজপত্র এবং আয়তন নেই। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে কাকপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়টি হওয়া একান্ত জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মনিটরিং কর্মকর্তা। 
বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিসহ অন্যান্য সদস্যরা এবং কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীদের অভিভাবক জানান, বিদ্যালয়টি হওয়ার ওপর নির্ভর করছে বর্তমানে অধ্যয়নরত ১৭৫ জন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ