ঢাকা, মঙ্গলবার 25 September 2018, ১০ আশ্বিন ১৪২৫, ১৪ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

শীত প্রধান দেশের ডেমু বাংলাদেশে, বিপাকে যাত্রীরা!

অনলাইন ডেস্ক: ৬৫৪ কোটি টাকায় ২০ সেট ডিজেল-ইলেকট্রিক মাল্টিপল ইউনিট বা ডেমু ট্রেন কিনে বিপাকে রেলপথ মন্ত্রণালয়। ওই ডেমু ট্রেনগুলো আসলে শীত প্রধান দেশের জন্য ডিজাইন করা। আমাদের দেশের জন্য মোটেও প্রযোজ্য নয়। খবর বাংলা নিউজের।ভুলে চীন থেকে শীত প্রধান দেশের ডেমুগুলো গ্রীষ্মমণ্ডলীয় দেশ বাংলাদেশে আনা হয়েছে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। কেন শীত প্রধান দেশের ডেমু আমাদের মতো গরমের দেশে নিয়ে আসা হয়েছে- সে বিষয়ে রেল মন্ত্রণালয়ের কাছে সঠিক ব্যাখ্যা চেয়েছে আইএমইডি।

আইএমইডি সূত্র জানায়, ডেমু চলাচলের উপযোগী প্লাটফর্ম নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। কোচগুলো শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত না হওয়ায় ভ্রমণ আনন্দদায়ক না হয়ে দুর্ভোগপূর্ণ হচ্ছে। ফলে অনেক ভোগান্তি সহ্য করেও যাত্রীরা ডেমু ট্রেনে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন।

এমনকি ডেমু মেরামতের জন্য লোকবলসহ ওয়ার্কশপও তৈরি করা হয়নি।

ডেমু ট্রেনের ওপর আইএমইডি’র সমাপ্তি মূল্যায়ন প্রতিবেদনে দেখা গেছে, চীনের দেওয়া ঋণে সে দেশ থেকে ২০১০ সালে ডেমু কেনা হয়। প্রতি সেট ডেমু ৭ কোটি ৬২ লাখ টাকা দরে কেনা। অথচ কোচগুলো খুব সাধারণ মানের বলে প্রতীয়মান হয়েছে। কোচের জানালাগুলো ছোট আকৃতির এবং অর্ধেক খোলা যায় না। এ ট্রেনের বৈশিষ্ট্য হলো, অধিকাংশ যাত্রী দাঁড়িয়ে ভ্রমণ করেন। ফলে ছোট জানালা ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত না হওয়ায় ট্রেনের ভেতরে যাত্রীদের দম বন্ধ হয়ে আসে। ট্রেনগুলো প্লাটফর্ম থেকে স্বাভাবিক ট্রেনের চেয়ে অনেক উঁচু। ফলে বৃদ্ধ ও শিশুদের জন্য ডেমু ট্রেনে ভ্রমণ করা ঝুঁকিপূর্ণ।

আইএমইডি’র পরিচালক পরিমল চন্দ্র বসু রেল মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টদের নিয়ে সরেজমিন পরিদর্শন করে এ প্রতিবেদন তৈরি করেছেন।

আইএমইডি’র এক কর্মকর্তা বলেন, ‘বাংলাদেশের মতো গ্রীষ্মমণ্ডলীয় দেশে ডেমু শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত অথবা জানালাগুলো বড় হওয়া উচিত ছিল। যেন প্রচুর পরিমাণে বাতাস প্রবেশ ও নির্গমণের ব্যবস্থা থাকে। ভুল করে শীত প্রধান দেশের ডেমু বাংলাদেশে আনা হয়েছে। কিন্তু ডেমুর ত্রুটিপূর্ণ ডিজাইনের বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা কিছু বলতে পারেননি। আমরা এ বিষয়ে সঠিক ব্যাখ্যা চেয়েছি’।

আইএমইডি’র প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ডিপিপি’তে (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা) ভুল তথ্য উপস্থাপন করে ডেমু কেনার অনুমোদন নেওয়া হয়েছে। কথা ছিল, প্রতিটি ডেমু দৈনিক ১৪টি ট্রিপ দেবে এবং যাত্রীপ্রতি ভাড়া হবে ৩০ টাকা। প্রকৃতপক্ষে দিনে সাতটিরও কম ট্রিপ দিচ্ছে ডেমুগুলো এবং ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে মাত্র ১৫ টাকা।

প্রকল্পের আওতায় মোট ২০ সেট ডেমু কেনা হয়। এর মধ্যে ১০ সেট ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা-গাজীপুর ও ঢাকা-নরসিংদী রুটে, আট সেট চট্টগ্রাম-নাজিরহাট, চট্টগ্রাম-চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, লাকসাম-চাঁদপুর ও লাকসাম-নোয়াখালী রুটে এবং দুই সেট ঠাঁকুরগাঁও-পার্বতীপুর রুটে চলাচল করার কথা ছিল।

আইএমইডি’র পরিদর্শনে দেখা গেছে, চট্টগ্রাম শহরে একটি ডেমু চলাচল করতো, কিন্তু যাত্রীর অভাবে তা বন্ধ হয়ে গেছে। লোকসানি ৬৫৪ কোটি টাকার ডেমু মেরামতে ৩০৮ কোটি টাকা খরচ করে এখন ওয়ার্কশপসহ নানা অবকাঠামো নির্মাণের প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। তা না হলে বাকিগুলোও বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে বলেও জানায় আইএমইডি।

রেল মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কমল কৃষ্ণ ভট্টাচার্য্য বাংলানিউজকে বলেন, ‘ডেমুগুলো শীত প্রধান দেশের, এটি পুরনো ইস্যু। গরম-শীত বিষয়ে অন্য দেশের সঙ্গে তুলনা করলে হবে না। অন্য দেশে একটি কোচে ভ্রমণ করেন ৫০ জন। সেখানে আমাদের দেশে ভ্রমণ করেন ১৫০ থেকে ২০০ জন। ফলে শ্বাস-প্রশ্বাসের একটু সমস্যা হবেই। তবে  ডেমুর কোচগুলো আমাদের দেশের উপযোগী করা হচ্ছে’।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ