ঢাকা, বুধবার 19 October 2016 ৪ কার্তিক ১৪২৩, ১৭ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত রোগীরা

মোঃ আতিকুর রহমান, ঝালকাঠি: এতে দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। চিকিৎসকদের না পাওয়ায় গরীব অসহায় রোগীদের বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে। সেই সাথে সময়ের অপচয় ও কষ্টতো হচ্ছেই। কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি নীরব কিছু এনজিও। এসব এনজিও স্বাস্থ্য দিবস, জনসেবা, চিকিৎসা পাওয়ার নিশ্চয়তা, মানবাধিকার ইত্যাদি নিয়ে কাজ করার নামে কোটি কোটি টাকা লোপাট করছে। মাঝে মধ্যে এদের ঝালকাঠি সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সভা কক্ষে সিভিল সার্জনকে প্রধান অতিথি করে উল্লিখিত বিষয়ে কর্মশালা, সেমিনার করতে দেখা যায়। অথচ ঝালকাঠির স্বাস্থ্য সেবায় চরম অব্যবস্থা বিরাজ করলেও এসব এনজিও’র কর্মকা- কর্মশালা আর সেমিনারেই সীমাবদ্ধ।
ঝালকাঠির পৌরসভার প্রবীণ কাউন্সিলর রুস্তম আলী চাষী বলেন, ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসা পেতে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে রোগীদের। এ ভোগান্তি বছরের পর বছর চললেও এর কোন প্রতিকার বা সুরাহা হচ্ছে না। ঝালকাঠি চিকিৎসকদের জন্য সরকারি বাসভবন থাকলেও সেখানে কোন চিকিৎসক থাকছে না। আবার দু’একজন মাঝে মধ্যে থাকলেও বাসা ভাড়া না কেটে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে। তাই ভূক্তভোগী মহলের প্রশ্ন এসব চিকিৎসকদের কাছ থেকে সুচিকিৎসা আসা করা যায় কিনা। ইতিপূর্বে সদর হাসপাতালে চিকিৎসকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে ডিজিটাল ফিঙ্গার প্রিন্ট চালু করা হয়েছে। এই পদ্ধতি চিকিৎসকদের জন্য বাধ্যতামূলক করা হলেও এর তোয়াক্কাই করা হচ্ছে না। মাঝে মধ্যে বরিশাল স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালকের দপ্তর হতে ফিঙ্গার প্রিন্টের বিষয়ে জানতে চেয়ে চিঠি দেয়া হয়। এছাড়া এই বিষয়ে আর কোন তৎপরতা না থাকায় এই মেশিন কার্যত ব্যবহার করা হচ্ছে না। বিগত প্রায় ২ মাস ধরে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে অনুসন্ধান চালিয়ে বহির্বিভাগে ক’জন চিকিৎসকের কর্তব্যে চরম অনিয়ম ও অব্যবস্থা সম্পর্কে রোগীদের অভিযোগের শেষ নেই। এদের মধ্যে প্রথমত চিকিৎসক ঈশিতা দাসের বিরুদ্ধে রোগীদের সাথে দুর্ব্যবহার এবং প্রায়ই অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাযায়, ৬ মাস আগেই তার প্রাপ্য ছুটি শেষ হলেও তিনি প্রায়ই ছুটির দরখাস্ত দিয়ে অনুপস্থিত থাকেন। ঝালকাঠির কর্মস্থলে না থেকে বরিশাল থেকে আসা যাওয়া করেন তিনি । অজ্ঞান চিকিৎসক কানিজ ফাতেমা। সপ্তাহে দু’একদিন কর্মস্থলে থাকেন। তিনিও বরিশাল থেকে আসেন। তিনি প্রায়ই অনুপস্থিত থাকায় সদর হাসাপাতালে নিয়মিত গর্ভবতী মায়েদের সিজার অপারেশন করা যাচ্ছে না বলে জানাগেছে। গতমাসে ঝালকাঠি সদর হাসাপাতালে মাত্র ৮ টি সিজার অপারেশন হয়েছে। অপর দিকে চিকিৎসক কানিজ ফাতেমার এই কর্তব্যে অবহেলার সুযোগ নিয়ে বেসরকারী ক্লিনিক গুলোতে সিজার বাণিজ্য।
এতে ভুক্তভোগী রোগীদের চরম অর্থ দন্ড দিতে হচ্ছে। কার্ডিওলজির অপর চিকিৎসক রফিকুল কবির। তিনি মাদারিপুর থেকে আসা যাওয়া করায় কর্মস্থলে ৩/৪ দিন অবস্থান করে চলে জান। অবস্থানকালীন সময়ে সদর হাসপাতালের সরকারী ভবনে থাকলেও ভাড়া না কেটে সরকারী রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছেন। অর্থ সার্জারী চিকিৎসক খোরশেদ আলম। গৌরনদী থেকে তিনি আসা যাওয়া করেন।
সপ্তাহে ১/২ দিন তিনি হাসাপাতালে রোগী দেখেন বলে রোগীরা জানায়। কোন কোন সপ্তাহে তাকে পাওয়াই যায় না বলে অভিযোগ রয়েছে। হাসপাতালের একটি সূত্র থেকে জানা গেছে, এসব চিকিৎসক ছুটির দরখাস্ত ফেলে রেখে ইচ্ছা মাফিক ছুটি কাটান। এ ব্যাপারে সিভিল সার্জন ডা. আব্দুর রহিম জানান, কর্মরত চিকিৎসকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে আমি ব্যবস্থা নিচ্ছি, শোকজ করছি। তাদের বেতন বন্ধ রাখছি। কিন্তু চিকিৎসকদের বেতনের উপর নির্ভর হতে হয় না বিধায় চিকিৎসকদের তেমন কোন বেগ পেতে হয় না। তারপরেও আমার হাতে যতটুকু আছে আমি করি। আমি যতটা করতে চাই ততটা পারি না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ