ঢাকা, বুধবার 19 October 2016 ৪ কার্তিক ১৪২৩, ১৭ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

দিনমজুরের সততা

শাহজাহান তাড়াশ সিরাজগঞ্জ থেকে: পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় এক দিনমজুর  দেড়শ’ বছর আগের ১শ’ ৩৫টি প্রাচীন  রৌপ্য মূদ্রা জমা দিয়ে সততার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন। দিনমজুরের নাম শফিকুল ইসলাম (৪০)। তার বাড়ি উপজেলার খানমরিচ ইউনিয়নের মাদারবাড়িয়া গ্রামে।
শফিকুল ইসলাম জানান, পুরাতন ভিটার মাটি খননের সময় মুদ্রাগুলো পান। তিনি বাড়ি ফিরে তার স্ত্রী কুলসুমকে ঘটনা খুলে বলেন। এ সময় তার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী কন্যা সুমি খাতুন (৯) বাবা-মায়ের কথা শুনে  ফেলেন। সুমি স্কুলে নৈতিক শিক্ষার ক্লাশে শিখেছে পুরা কীর্তির (মূর্তি বা মূদ্রা) কোন নিদর্শন পেলে  সেটি আত্মাৎ বা  গোপন করা অপরাধ। তাই  লোভ না করে ওগুলো দ্রুত সরকারের ঘরে জমা  দেয়ার জন্য  সে তার পিতাকে অনুরোধ করে। ফলে শফিকুল মুদ্রাগুলো নিয়ে ইউপি  চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা গাজী আছাদুর রহমানের কাছে যান। চেয়ারম্যান গাজী আছাদুর রহমান তাকে সঙ্গে নিয়ে বৃহস্পতিবার উপজেলা পরিষদের কনফারেন্স রুমে এথিকস ফাউন্ডেশনের সভা চলাকালীন সময়ে প্রাচীন মুদ্রাগুলো ইউএনও’র কাছে জমা করেন। এ সময় পাবনা-৩ এলাকার সংসদ সদস্য আলহাজ  মো. মকবুল  হোসেন ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নূর মুজাহিদ স্বপন উপস্থিত ছিলেন। সততা ও দায়িত্বশীল নাগরিকতার জন্য সংসদ সদস্য সরকারের পক্ষ  থেকে ঐ দিনমজুরকে দশ হাজার টাকা পুরস্কার প্রদানের  ঘোষণা  দেন। ইউএনও মোঃ শামছুল আলম জানান, মুদ্রাগুলোর ওপর রানী ভিক্টোরিয়ার ছবি অংকিত এবং তাতে ১৮৬৩ সাল  লেখা রয়েছে।
চেয়ারম্যান গাজী আছাদুর রহমান বলেন, উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে নৈতিক শিক্ষার  যে মডেল কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে এবং তার ফলশ্রুতিতে পিতাকে সু-পরামর্শ দিয়ে তা সার্থক করে তুলেছে শিশু শিক্ষার্থী সুমি। ন্যাশনাল পিপলস পাটির ভাইস  চেয়ারম্যান পাবনা জেলার সভাপতি এসএম ডা. আহসান হাবিব বলেন, সমাজে এ রকম নিঃস্বার্থ লোক এখন ও অনেক বলে পৃথিবীটা টিকে আছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ