ঢাকা, শুক্রবার 16 November 2018, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

শীতের আগমনীতে খেজুর রস সংগ্রহের জন্য গাছ পরিষ্কার করতে ব্যস্ত গাছিরা

চারঘাট (রাজশাহী) সংবাদদাতা : বাংলার প্রকৃতি থেকে ইতোমধ্যেই আশ্বিন মাস গত হয়ে চলছে কার্তিক মাস। তবে এবার আশ্বিনের শেষ দিক থেকেই দেশের উত্তরের জনপদ রাজশাহীর চারঘাট উপজেলাসহ রাজশাহী অঞ্চল জুড়ে শীতের আবহ বিরাজ করছে। গভীর রাত থেকে শুরু করে সকাল পর্যন্ত এ অবস্থা বিরাজ করছে প্রকৃতিতে। ফলে শীতের আগমনী বার্তা স্বরূপ প্রকৃতিতে সকালে ও রাতে হালকা কুয়াশার ভাবও দেখা যাচ্ছে শীতের এই আগমন বার্তা মিলছে সকালের সবুজ ঘাসে। গাছ-গাছালিসহ প্রকৃতির সর্বাঙ্গেই এখন শীতের আবহ। তাই সাড়া পড়ে গেছে গ্রামবাংলার ঘরে ঘরে। 

বছরের এই সময়ে শীতের আগমনী বার্তা পেয়ে খেজুর রস সংগ্রহের জন্য জেলার প্রত্যন্ত এলাকায় খেজুর গাছ পরিষ্কার করতে স্থানীয় গাছিরা এখন মহাব্যস্ত। খেজুরের গাছ তৈরির কাজ প্রায় শেষ হলেও চারঘাটসহ জেলার কিছু কিছু এলাকায় এখনও চলছে রস সংগ্রহের পালা। ফলে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যের প্রতীক খেজুর গাছকে ঘিরে গ্রামীণ জনপদে শুরু হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। দেখা যায়, প্রত্যন্ত অঞ্চলের ছোটবড় বিভিন্ন খেজুর গাছ ঝুঁকি নিয়ে গাছিরা কাটার কাজ শেষ করেছে। কোমরে মোটা রশি বেঁধে গাছে ঝুলে ঝুলে রস সংগ্রহের জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েছে তারা। পেশাদার গাছিদের তেমন কোন সমস্যা না হলেও রস সংগ্রহের জন্য স্থানীয় এক শ্রেণীর উৎসুক মানুষও পিছিয়ে নেই। তারা গাছে ওঠা-নামা করছে রস সংগ্রহের জন্য। চারঘাটসহ রাজশাহী জেলার গ্রামের মাঠে পথের ধারে রয়েছে প্রচুর খেজুর গাছ। খেজুর রস সংগ্রহ করে কিছুদিনের মধ্যে শুরু হবে আমন ধান ঘরে তোলার পালা। তখন নতুন ধানের পিঠা, পুলি ও পায়েস তৈরির ধুম পড়ে যাবে গ্রামে গ্রামে। তাছাড়া খেজুরের গুড় দিয়ে মুড়ির মোয়া, চিড়ার মোয়া ও মুড়ি খাওয়ার হিড়িক পড়ে যাবে। রাজশাহী জেলার চারঘাট উপজেলার মোক্তারপুর গ্রামের গাছি মমিন, জাহিরুল, কাজেম জানান, গাছ কাটার কাজ কষ্টের হলেও রস সংগ্রহে মজা রয়েছে। আমরা খেজুরের রস থেকে গুড় তৈরি করে সেই গুড় বিক্রি করে পরিবার-পরিজন নিয়ে মোটামুটি ভালই থাকি। তারা জানান, শীতের তীব্রতা বাড়লে খেজুর রস আরও বেশি মিষ্টি হবে ও রস বেশি পাওয়া যাবে এবং গুড়ও তৈরি হবে বেশী পরিমাণ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ