ঢাকা, মঙ্গলবার 25 October 2016 ১০ কার্তিক ১৪২৩, ২৩ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

এটি আইনের শাসনের উদাহরণ নয়

দেশে আইন-আদালত আছে, আছে প্রশাসন। এই প্রতিষ্ঠানগুলো দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জনগণের জানমাল ও ইজ্জতের নিরাপত্তা বিধান করতে পারে। তবে সুশাসন জনগণের কাম্য। বিষয় হলেও বর্তমান সময়ে দেশে দেশে সুশাসনের সঙ্কট লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আরেকটি বাস্তবতা হলো, সব দেশেই সুনাগরিকের পাশাপাশি কিছু মন্দ নাগরিকও থাকে। দেশে শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার প্রয়োজনেই মন্দ কর্মের সাথে জড়িত নাগরিকদের আইনের আওতায় আনতে হয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কি দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালনে কাক্সিক্ষত ভূমিকা পালনে সমর্থ হচ্ছেন? এছাড়া এমন দৃশ্যও লক্ষ্য করা যায় যে, সকারের ইঙ্গিতে তারা বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের অযথা হয়রানিও করে যাচ্ছেন। ফলে আজ প্রশ্ন জেগেছে, বিধিবিধানের আলোকে পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা কি সব সময় তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারছেন? এ কারণেই হয়তো পত্রিকায় শিরোনাম হয়েছে, ‘গ্রেফতারের পর ছয়দিন পেরিয়ে গেলেও অজ্ঞাত কারণে আদালতে হাজির করা হচ্ছে না’।
গত ২৪ অক্টোবর দৈনিক সংগ্রামে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, ময়মনসিংহ থেকে ছাত্রশিবির আনন্দ মোহন কলেজ শাখার সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান ও শিবিরকর্মী শফিকুর রহমানকে গ্রেফতারের পর আদালতে হাজির না করায় উদ্বেগ প্রকাশ করে অনতিবিলম্বে তাদের সন্ধান দাবি করেছে সংগঠনটির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। ২৩ অক্টোবর ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি আতিকুর রহমান ও সেক্রেটারি ইয়াছিন আরাফাত এক বিবৃতিতে বলেন, গত ১৭ অক্টোবর রাত ১২টায় পুলিশের এসআই পরিমল চন্দ্রসহ ২৫/২৬ জন ডিবি পুলিশ সাদা পোশাক ও পুলিশের পোশাক পরিহিত অবস্থায় ময়মনসিংহ শহরের সানকিপাড়া প্রভাতি সেনা লেনের একটি বাসা থেকে ৩ জনকে গ্রেফতার করে। পরের দিন মুহিত নামের একজনকে ছেড়ে দেয়। সিদ্দিকুর রহমান ও শফিকুর রহমানকে আটক রাখে। অভিযানের সময় বাসা থেকে কিছু বই ও কম্পিউটার নিয়ে যায়। পরে আত্মীয়স্বজনরা ডিবি অফিসে গিয়ে তাদের সাথে একাধিকবার দেখা করেন। কিন্তু গ্রেফতারের পর ছয়দিন পেরিয়ে গেলেও অজ্ঞাত কারণে এখন পর্যন্ত তাদের আদালতে হাজির করা হয়নি। কেন হাজির করা হচ্ছে না তাও স্পষ্ট করে বলছে না পুলিশ। তাদের অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করে আদালতে হাজির না করা বেআইনী ও মানবাধিকারের লঙ্ঘন। গ্রেফতারের পর আদালতে না তোলার পেছনে কোনো ষড়যন্ত্র লুকিয়ে আছে কিনা তা নিয়ে আমরা সন্ধিহান। কেননা এর আগেও পুলিশ এভাবে গ্রেফতারের পর অস্বীকার করে ছাত্রদের হত্যা করেছে ও নাটক সাজিয়েছেন। নেতৃবৃন্দ বিবৃতিতে আরো বলেন, পুলিশ ছাত্রদের নিরাপত্তার বদলে এভাবে গ্রেফতার ও গুম করে সারা দেশে ছাত্রদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে। পুলিশ কোনোভাবেই এই অমানবিক কাজ করতে পারেন না। তারা অবিলম্বে গ্রেফতারকৃত শিবির নেতাদের আদালতে হাজিরের মাধ্যমে আইনী প্রক্রিয়া অনুসরণ করার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।
ছাত্রশিবিরের নেতৃবৃন্দ শিবির নেতাদের আদালতে হাজিরের মাধ্যমে আইনী প্রক্রিয়া অনুসরণ করার জন্য যে দাবি জানিয়েছেন তা খুবই সঙ্গত বলে আমরা মনে করি। কারণ কোনো ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে যদি কোনো অভিযোগ বা তথ্য-প্রমাণ থেকে থাকে তাহলে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে পারেন এবং তা করতে গেলে তো ছাত্র নেতৃবৃন্দকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করার কথা ছিল পুলিশের। কিন্তু আলোচ্য  ঘটনায় লক্ষ্য করা যাচ্ছে, গ্রেফতারের ছয়দিন পরও শিবিরের নেতা ও কর্মীকে আদালতে হাজির করা হয়নি। পুলিশের এমন আচরণকে তো বিধিসম্মত বলে বিবেচনা করা যায় না। আর গ্রেফতারের পর ছাত্রনেতাদের যদি গুম করে রাখা হয়, তাহলে তাতো আরো মারাত্মক।
এসব বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট বক্তব্য রাখা প্রয়োজন। কারণ, সংবিধানের আলোকে অনুরাগ ও বিরাগের ঊর্ধ্বে থেকেই সরকার ও প্রশাসনের দায়িত্ব পালন করার কথা। এ ক্ষেত্রে ব্যত্যয় ঘটলে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে কেমন করে?

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ