ঢাকা, মঙ্গলবার 25 October 2016 ১০ কার্তিক ১৪২৩, ২৩ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে জনগণের সাথে সম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে -ওবায়দুল কাদের 

স্টাফ রিপোর্টার : আওয়ামী লীগের নতুন সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে আরো গুণগত পরিবর্তন হবে। নেতাকর্মীদের আচরণ বদলাতে হবে। জনগণের সাথে সম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে। পরবর্তী নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। সর্বোপরি তৃণমূল পর্যন্ত সংগঠনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হবে।

দলের দ্বিতীয় শীর্ষ পদে নির্বাচনের পরদিন ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয় সংলগ্ন প্রিয়াংকা কমিউনিটি সেন্টারে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে একথা বলেন সড়ক যোগযোগ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

 সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের সাথে কোনো ধরনের বিভেদে জড়ানোর কারণ নেই মন্তব্য করে তিনি বলেন, সম্মেলনে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আমার নাম প্রস্তাব করেছেন এটাই চমক। এটাই শেখ হাসিনার নেতৃত্বের চমক।

ওবায়দুল কাদের বলেন, আমার পূর্বসূরি, আমার অগ্রদূত সাধারণ সম্পাদক, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তার সাত বছরের অভিজ্ঞতা-সুচিন্তিত পরামর্শ আমার দায়িত্ব পালনে অনুপ্রেরণা যোগাবে। আশরাফের সাথে আলোচনার ভিত্তিতে কাজ করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, আমরা পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করবো।

সৈয়দ আশরাফের প্রসঙ্গে এই নেতা বলেন, আজও কেবিনেটে তার সাথে আমার আলাপ হয়েছে। আমার কাছে অবাক লাগলো, তিনি সবকিছু ইজিলি নিয়েছেন। বিচলিতভাব বা কোনো ধরনের হতাশা তার মুখম-লে আমি দেখিনি। বরং আজ তাকে আরো বেশি প্রাণবন্ত বলে আমার মনে হয়েছে। এটাই আওয়ামী লীগ। এটাই আওয়ামী লীগের রাজনীতির বিউটি।

আশরাফের সাথে কোনো রকম দ্বন্দ্বে জড়ানোর কারণ নেই জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমাদের মধ্যে কোনো কোনো বিষয়ে মতান্তর হতে পারে, কিন্তু মনান্তর হবে না।

 শেখ হাসিনাই দলের ঐক্যের প্রতীক জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, শেখ হাসিনা যেখানে আছেন, সেখানে পার্টির মধ্যে কোনো অনৈক্য বিভেদ প্রশ্রয় পাবে না। তার নির্দেশনার বাইরে কেউ কিছু করবে না।

নিজেকে সরকারের মন্ত্রী নয় বরং কর্মী হিসেবে ভাবেন আওয়ামী লীগের নতুন সাধারণ সম্পাদক। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেকে জিজ্ঞাস করছেন, মন্ত্রী হয়ে আমি কিভাবে এতো দায়িত্ব পালন করব? কিন্তু আমি নিজেকে মন্ত্রী ভাবি না। আমি দেশের কর্মী, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কর্মী, দলের কর্মী। এখন রাস্তায় গিয়ে যেমন পরিবহন ও রাস্তার অবস্থা দেখতে পাব, তেমনি দলের অথরিটির দায়িত্ব দেয়ায় নেতাকর্মীদের কাজও দেখতে পারব।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশ মোতাবেক জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কাজ করা ও পরবর্তী নির্বাচনের জন্য দলকে প্রস্তুত করাই নতুন কমিটির উদ্দেশ্য। আমরা একসাথে বেশি এজেন্ডা নিয়ে কাজ করব না। বেশি ডিম এক ঝুড়িতে রাখলে তা যেমন ভেঙে যেতে পারে। তাই আমরা কম এজেন্ডা হাতে নিয়ে সেটি বাস্তবায়নের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করব।

 দলকে তৃণমূল পর্যন্ত আরও শক্তিশালী করতে চান বলে জানান আওয়ামী লীগ নেতা ওবায়দুল কাদের। দুটি খারাপ কাজ ১০টি বড় অর্জনকে ম্লান করে দিতে পারে বলে মন্তব করেন।

আওয়ামী লীগের সম্মেলনে বিএনপির যোগ না দেওয়ার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিনন্দন জানিয়েছেন। সেটা মনে-প্রাণে জানিয়েছেন কি না জানি না। যদি তারা সম্মেলনে আসতেন তাহলে বুঝতাম। তারা কথা দিয়ে কথা রাখলেন না। সম্মেলনে না আসায় বুঝতে হবে এর মধ্যে “ডালমে কুছ কালা হ্যায়”।

দলে কোনো বিভেদ আসবে কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, আমি জীবনে আঞ্চলিকতার রাজনীতি করিনি। সারা বাংলাদেশে দায়িত্ব নিয়ে কাজ করেছি। রাজনীতিতে আমাদের একটা “কমিটমেন্ট” আছে। আমরা এর বাইরে যেতে পারি না।

 আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পাওয়ায় ওবায়দুল কাদেরকে শুভেচ্ছা জানান, সদ্য বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।

সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকের শুরুতেই ওবায়দুল কাদেরকে শুভেচ্ছা জানান তিনি। এ সময় মন্ত্রিপরিষদের অন্য সদস্যরাও ওবায়দুল কাদেরকে অভিনন্দন জানান। সভা শেষে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের ওবায়দুল কাদের বলেন, তিনি দেশের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞ। এ সময় সৈয়দ আশরাফ বলেন, এখনই এ বিষয়ে কিছু বলার নেই।

এদিকে আওয়ামী লীগের নতুন কমিটিকে স্বাগত জানিয়েছে দলটির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। তাদের আশা, সরকার পরিচালনা ও রাজনৈতিক অঙ্গনে এই কমিটি আরও বেশি সফল হবে।

তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, কাউন্সিল অধিবেশন আরও গণতান্ত্রিক হলে ভালো হতো। সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নতুন কমিটি ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন তারা।

শেষ হলো উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন দল আওয়ামী লীগের ২০তম কাউন্সিল। সভাপতি পদে পরিবর্তন না এলেও এসেছে সাধারণ সম্পাদক পদে। দলের গঠনতন্ত্র সংশোধন করে কমিটি সাজানো হয়েছে নতুন করে। দুইদিনের এ আয়োজন থেকে প্রত্যাশার সঙ্গে প্রাপ্তির হিসেব নিকেশ মেলাতে ব্যস্ত এখন সবাই।

দলের কর্মীরা বলছেন, নতুন নেতৃত্বের প্রতি আস্থা আছে তাদের। নতুন কমিটিকে স্বাগত জানান তারা। আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাদের আশা দলকে এগিয়ে নেয়ার পাশাপাশি, দেশ পরিচালনায় আরো যোগ্যতার প্রমাণ দেবে নতুন কমিটি।

তবে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের। তারা বলেন, বিনা প্রতিদ্বন্ধিতার চেয়ে ভোটের মাধ্যমে নেতা নির্বাচিত হলে দল হিসেবে বেশি উপকৃত হত আওয়ামী লীগ। নতুন কমিটি গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখবে বলে তাদের আশা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ