ঢাকা, মঙ্গলবার 25 October 2016 ১০ কার্তিক ১৪২৩, ২৩ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ক্ষমতায় থাকতে প্রধানমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন তা গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক

আফসার আহমদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে গতকাল সোমবার ডিআরইউতে আয়োজিত মরহুম আফসার আহমদ সিদ্দিকীর ১৫তম মৃত্যুবার্ষিকীর আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : দলকে আরেকবার ক্ষমতায় আনতে আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে দেয়া দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্যকে গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক বলে মনে করছে বিএনপি। গতকাল সোমবার ঢাকায় আলোচনা সভায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, কাউন্সিলের শেষ অধিবেশনে তিনি (শেখ হাসিনা) পরিষ্কার বলেছেন, বিএনপিকে ক্ষমতায় আসতে দেয়া হবে না। তিনি এটাও বলেছেন আগামীবার আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আসতেই হবে যেকোনো মূল্যে। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে ফখরুল বলেন, রোববার আওয়ামী লীগ সভানেত্রী যে কথাগুলো বলেছেন, এটা গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক কথা। এ থেকে পরিষ্কার হয়ে গেছে যে, তাদের লক্ষ্য কী এবং তারা কী করতে চান? রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মরহুম আফসার আহমেদ সিদ্দিকীর ১৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আফসার আহমেদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন এই সভার আয়োজন করে। 

সংগঠনের সভাপতি মরহুম নেতার স্ত্রী বিএনপির সহ-সম্পাদক জাহানারা সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। 

১৯৭২-১৯৭৫ সালে আওয়ামী লীগের শাসনামলের প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, ওই সময়ে তারা গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে। তাদের দুঃশাসনের কারণে একটা ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ হয়েছে, যা আমরা অনেকেই ভুলে গেছি। এখন গণতন্ত্রের ব্যাখ্যাও পাল্টে গেছে, সেই জায়গায় আসছে উন্নয়ন না গণতন্ত্র। তারা বলছে উন্নয়ন আগে পরে গণতন্ত্র। আরেকটি কথা আসছে- অ্যাফেক্টিভ গভর্নমেন্ট। অর্থাৎ যারা অত্যাচার-নির্যাতন করে, দমননীতি চালিয়ে বিরোধীদলকে নিশ্চুপ করে রাখতে পারে, সেই সরকার হচ্ছে অ্যাফেক্টিভ গবর্নমেন্ট। এই অ্যাফেক্টিভ সরকারের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের মানুষের রক্ত দিয়ে যুদ্ধ করে যে স্বাধীনতা অর্জনের মূল চেতনা ছিল, সেই চেতনাকে তারা হরণ করে নিয়েছে। এখন স্বপ্ন দেখছে, ৪১ সাল পর্যন্ত তারা ক্ষমতায় থাকবে। 

সব দল ও মহলের মতামত নিয়ে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের দাবি জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেশে এমন একজন মানুষ নেই যে বলবে, বর্তমান নির্বাচন কমিশন ভালো কাজ করেছে। প্রত্যেকটা নির্বাচনে তারা শুধু ব্যর্থই হয়নি, তারা সরকারের নীলনকশা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করেছে। তিনি বলেন, এদের তো বিচার হওয়া উচিৎ। সময় যদি আসে কোনোদিন, জনগণের সরকার যদি কখনও গঠন হয়, এদের অবশ্যই বিচার হবে। 

বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেশে এক বিভীষিকাময় পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এ রকম একটা পরিবেশে ঐক্যের বিকল্প নেই। দলের মধ্যে এবং জাতীয় ঐক্য গঠন করে স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। আওয়ামী লীগের ২০তম কাউন্সিল প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, এটা নিয়ে জনগণের মধ্যে সাড়া না থাকলেও মিডিয়ায় সাড়া ছিল। 

আফসার আহমেদ সিদ্দিকীর স্মৃতিচারণ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, তিনি একজন সত্যিকারের রাজনীতিবিদ ছিলেন। বিএনপিকে প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলে পরিণত করতে তার ভূমিকা ছিল। তিনি স্বৈরাচারী এরশাদবিরোধী যুগপৎ আন্দোলন করেছেন। বর্তমান এই দুঃসময়ে তার মতো রাজনীতিবিদের বড় প্রয়োজন ছিল। 

বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে উল্লেখ করে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, দেশের জনগণের অধিকার ফিরিয়ে আনতে হবে। বিএনপির এই নেতা বলেন, এখন দেশে যে অবস্থা বিরাজমান, সেখানে বর্তমান সরকার এবং এই নির্বাচন কমিশনের অধীনে সুষ্ঠু ও অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন করা সম্ভব নয়। যে কারণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ