ঢাকা, মঙ্গলবার 25 October 2016 ১০ কার্তিক ১৪২৩, ২৩ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

আশা জাগিয়েও পারলো না বাংলাদেশ

নুরুল আমিন মিন্টু, চট্টগ্রাম থেকে : আশা জাগিয়েও পারেনি বাংলাদেশ। এই ম্যাচ জিতলে হতো ইংলিশদের বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয়। ম্যাচের পঞ্চম দিনের সকালটা যেন টাইগারদের জন্য শুভসকাল ছিল না। তাই ইতিহাস গড়তে পারেনি বাংলাদেশ দল। শেষদিন ১০ রান করেই দুই ব্যাটসম্যান ফিরে গেলেন। দুই আউটের ক্ষেত্রেই রিভিউ আবেদন ছিল পৃথক দল থেকে। তবে দুইটার সিদ্ধান্তই গেছে ইংল্যান্ডের পক্ষে। সোমবারের সকালটা যেন বাংলাদেশের বিপক্ষেই ছিল! হতাশ হয়ে মাঠ থেকে ফিরে য়ায় বাংলাদেশ দলের হাজার হাজার দর্শক। এই জয় তুলতে পারলেই সাদা পোশাকে প্রথমবার ব্রিটিশ বধে মেতে উঠতে পারতো টাইগাররা। আর অষ্টমবারের মতো টেস্ট ম্যাচ জিততো বাংলাদেশ। 

বাংলাদেশ শেষদিন ২৬৩ রানে আলআউট হয়। দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচে ২২ রানের হারল বাংলাদেশ। এতে ১-০তে এগিয়ে গেল সফরকারী ইংল্যান্ড। 

গতকাল সোমবার সকালে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে পূর্বদিনের ৮ উইকেটে ২৫৩ রান নিয়ে পঞ্চম ও শেষ দিনের খেলা শুরু করে বাংলাদেশ। জয়ের জন্য শেষ দুই উইকেটে স্বাগতিকদের তখন প্রয়োজন ৩৩ রান। বাংলাদেশের আশা হয়ে টিকে থাকা সাব্বির রহমান ৫৯ রানে ও তার সঙ্গী তাইজুল ইসলাম ১১ রানে ব্যাট করতে নামেন।

পঞ্চম দিনের খেলায় প্রথম ওভার করেন স্টুয়ার্ট ব্রড। প্রথম বল দেখে শুনে ছেড়ে দেন সাব্বির। দ্বিতীয় বলও ডট। তৃতীয় বলে দুই রান নেন। চতুর্থ বল থেকে এক রান নেয় সাব্বির। স্ট্রাইকে যায় তাইজুল। পঞ্চম ও ৬ষ্ঠ বল দেখে শুনে খেলেন তিনি। প্রথম ওভারে ৩ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। জয়ের জন্য দরকার আর মাত্র ৩০ রান। 

বেন স্টোকস শুরু করেন পরের ওভার। প্রথম বল সতর্কভাবে খেলেন সাব্বির। দ্বিতীয় বল থেকে নেন ১ রান। সাব্বির ওই সময় তাইজুলকে কিছু পরামর্শ দিতে দেখা যায়। পরামর্শ কি চার মারার ছিল? তা জানা না গেলেও তাইজুল স্টোকসকে চার মেরে দেন। পরের বল ব্যাটে বলে ঠিক মিলেনি। উইকেট কিপারের হাতে চলে যায়। তার পরের বলও ছেড়ে দেন তাইজুল। শেষ বলটিও ব্যাটে লাগে না তাইজুলের। এ ওভারে রান আসে ৫। জয়ের জন্য ব্যবধান কমে হয় ২৫।

স্টুয়ার্ট ব্রড পরের ওভারে আবার বোলিংয়ে। ব্যাটিংয়ে সাব্বির। প্রথম দুই বল ডট হলেও তৃতীয় বলে একটি রান নিয়ে জায়গা বদল করেন সাব্বির-তাইজুল। যথারীতি তাইজুলের কাছে গিয়ে কিছু পরামর্শ সাব্বিরের। চতুর্থ ও পঞ্চম বলে রান না পেলেও ৬ষ্ঠ বলে এক রান নেন তাইজুল। জেতার জন্য দরকার ২৩।

এরপর আবার নতুন ওভারে বল করেন বেন স্টোকস। প্রথম বল তাইজুলের প্যাডে লাগে। রানের জন্য ছুটে যান। ইংল্যান্ডের পক্ষ থেকে আবেদন ছিল। আম্পায়ার তা নাকচ করে লেগ বাই রানের ঘোষণা দেন। এসময় রিভিউ আবেদন করে ইংল্যান্ড। রিভিউতে এলবিডব্লিউ আউট দিয়ে দেয়া হয়। ফিরে যান তাইজুল। নতুন ব্যাটসম্যান হিসেবে আসেন শফিউল ইসলাম। তাকে বেন স্টোকসের প্রথম বলটি ডট হয়। পরের বলেই এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরে যান শফিউল। এসময় বাংলাদেশ রিভিউ নেয়। তবে সে রিভিউ বাংলাদেশের পক্ষে ছিল না। মাত্র ২১ বল করে টাইগারদের শেষ ২ উইকেট তুলে নিল ইংল্যান্ড। শেষ হয়ে যায় ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট জেতার সুযোগ! সাব্বির রহমান ৬৪ রানে অপরাজিত থাকেন। সাব্বিরকে কেউ সঙ্গ দিতে পারেননি। সাব্বির যেন পৃথিবীর নিঃসঙ্গতম মানুষ! হতাশায় বসে পড়লেন সাব্বির। হৃদয় ভাঙল মুশফিকদের। হৃদয়ে আরেকটি দুঃখগেথেই গেল। বাংলাদেশ শিবির যখন দুঃখ-কষ্ট আর হতাশা নিয়ে মাঠ ছেড়েছে। তখন আনন্দ-উল্লাসে আত্মহারা হয়ে ফেটে পড়েছে ইংল্যান্ড শিবির। 

ইংল্যান্ড ১ম ইনিংস : ২৯৩ (কুক ৪, ডাকেট ১৪, রুট ৪০, ব্যালান্স ১, মইন ৬৮, স্টোকস ১৮, বেয়ারস্টো ৫২, ওকস ৩৬, রশিদ ২৬, ব্রড ১৩, ব্যাটি ১*; শফিউল ০/৩৩, মিরাজ ৬/৮০, কামরুল ০/৪১, সাকিব ২/৪৬, তাইজুল ২/৪৭, সাব্বির ০/১১, মাহমুদ উল্লাহ ০/১৭, মুমিনুল ০/০)।

ইংল্যান্ড ২য় ইনিংস : ২৪০ (কুক ১২, ডাকেট ১৫, রুট ১, ব্যালান্স ৯, মইন ১৪, স্টোকস ৮৫, বেয়ারস্টো ৪৭, ওকস ১৯*, রশিদ ৯, ব্রড ১০, ব্যাটি ৩; মিরাজ ১/৫৮, সাকিব ৫/৮৫, তাইজুল ২/৪১, কামরুল ১/২৪, মাহমুদ উল্লাহ ০/৬, শফিউল ১/১০) 

বাংলাদেশ ১ম ইনিংস : ২৪৮ (তামিম ৭৮, ইমরুল ২১, মুমিনুল ০, মাহমুদ উল্লাহ ৮৫, মুশফিক ৪৮, সাকিব ৩১, শফিউল ২, সাব্বির ১৯, মিরাজ ১, তাইজুল ৩*, কামরুল ০; ব্রড ০/১২, ব্যাটি ১/৫১, ওকস ০/১৫, রশিদ ২/৫৮, মইন ৩/৭৫, স্টোকস ৪/২৬, রুট ০/৫)।

বাংলাদেশ ২য় ইনিংস : (লক্ষ্য ২৮৬, আগের দিন ২৫৩/৮) ৮১.৩ ওভারে ২৬৩ (তামিম ৯, ইমরুল ৪৩, মুমিনুল ২৭, মাহমুদ উল্লাহ ১৭, সাকিব ২৪, মুশফিক ৩৯, সাব্বির ৬৪*, মিরাজ ১, রাব্বি ০, তাইজুল ১৬, শফিউল ০ ; ব্যাটি ৩/৬৫, মইন ২/৬০, ওকস ০/১০, রশিদ ১/৫৫, ব্রড ২/৩১, স্টোকস ২/২০)।

ফল: ইংল্যান্ড ২২ রানে জয়ী

ম্যান অব দা ম্যাচ : বেন স্টোক

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ