ঢাকা, মঙ্গলবার 25 October 2016 ১০ কার্তিক ১৪২৩, ২৩ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ক্যান্সারে আক্রান্তদের ৭৫ ভাগ পরিবার অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের শিকার হয়

স্টাফ রিপোর্টার : সারা বিশ্বের মত বাংলাদেশের মহিলাদের মধ্যে এক নম্বরে অবস্থান স্তন ক্যান্সারের। নারী পুরুষ মিলিয়ে হিসেব করলেও স্তন ক্যান্সারের স্থান শীর্ষে। প্রতিবছর নতুন করে আক্রান্তের হার এবং মৃত্যুর হার উভয় ক্ষেত্রে। প্রতিবছর বাংলাদেশে স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয় গড়ে ১৪ হাজার ৮ শ’ ২২ জন। মারা যায় ৭ হাজার ১শ’ ৩৫ জন। আর ক্যান্সারে আক্রান্তদের ৭৫ ভাগই অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের শিকার হন। আর নারী ক্যান্সার রোগীদের মধ্যে মৃত্যুর হার যথাক্রমে শতকরা ২৩ দশমিক ৯ ভাগ ও ১৬ দশমিক ৯ ভাগ। 

গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘স্তন ক্যান্সারের সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব ও উত্তরণে করণীয়’ শীর্ষক মুক্ত আলোচনায় গবেষণার ফল তুলে ধরা হয়। আলোচনায় প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন, বাংলাদেশ স্তন ক্যান্সার সচেতনতা ফোরামের প্রধান সমন্বয়কারী ডা: মো: হাবিবুল্লাহ রাস্কিন।

আলোচনায় অংশ নেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউট অব হেলথ ইকোনোমিক্সের পরিচালক সৈয়দ আবদুল হামিদ, সংসদ সদস্য কাজী রোজি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অনকোলজি বিভাগের প্রফেসর সারোয়ার আলম, একাত্তর টিভির বার্তা পরিচালক সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা, এনটিভির প্রধান বার্তা সম্পাদক জহিরুল আলম প্রমুখ। 

বাংলাদেশ জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইন্সটিটিউট ও হাসপাতাল ভিত্তিক ক্যান্সার নিবন্ধনের ২০১৪ সালের প্রকাশিত রিপোর্টের রেফারেন্স দিয়ে প্রবন্ধে বলা হয়, মহিলা ক্যান্সার রোগীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২৭ দশমিক ৪ ভাগ স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে এই ক্যান্সারের স্থান দ্বিতীয়। এতে শীর্ষে অবস্থান করছে ফুসফুসের যা ১৭ দশমিক ৯ ভাগ। 

‘দি অ্যাকশন স্টাডি’ নামের একটি প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বলা হয়, ৮টি দেশের ৯ হাজার ৫ শ’ ১৩জন রোগীর ওপর পরিচালিত গবেষণায় ১২ মাসের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের শতকরা ২৯ ভাগ মারা যান। ৪৮ ভাগ অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছেন। এই অবস্থায় বেশি পড়েছেন তারাই যাদের দেরিতে রোগ ধরা পড়েছে। এছাড়া যারা নি¤œ আয় শ্রেণিভুক্ত। আর যাদের বীমা আছে তাদের চেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন যাদের বীমা নেই । 

আলোচনায় অংশ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউট অব হেলথ ইকোনোমিক্স বিভাগের পরিচালক সৈয়দ আবদুল হামিদ বলেন, আমাদের দেশের মানুষ ইন্সুরেন্স সম্পর্কে সচেতন নয় বলে চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে। তিনি বলেন, ইন্সুরেন্স সেক্টরটাকেও বিতর্কিত করে ফেলা হয়েছে। তাতে করে মানুষ বীমার দিকে এগুচ্ছে না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ