ঢাকা, মঙ্গলবার 25 October 2016 ১০ কার্তিক ১৪২৩, ২৩ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

খুলনায় শীর্ষ ঋণ খেলাপিদের সন্ধানে বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্ত দল

খুলনা অফিস : শীর্ষ ঋণ খেলাপিদের সন্ধানে নেমেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্ত দল। গত রোববার থেকে এই তদন্ত দলের সদস্যরা খুলনার শীর্ষ ঋণ খেলাপিদের সন্ধান শুরু করেছে। পর্যায়ক্রমে তদন্ত দলের সদস্যরা সারা দেশে বিভিন্ন ব্যাংকের ৭২টি শাখায় সরেজমিন তদন্ত করে প্রতিটি শাখার ২০জন শীর্ষ ঋণ খেলাপিকে খুঁজে বের করবেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত শনিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের রিসার্চ ডিপার্টমেন্ট শাখার জেনারেল ম্যানেজার আব্দুল আওয়াল সরকারের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান শাখার ১০ সদস্যের একটি তদন্ত দল শীর্ষ ঋণ খেলাপিদের সন্ধানে খুলনায় আসেন।  রোববার সকালে তদন্ত দলের সদস্যরা এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের খুলনা শাখায় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে জরুরি সভা করেন। এ সভা শেষে তদন্ত দলের সদস্যরা প্রথমেই ইসলামী ব্যাংক খুলনা শাখায় ঋণ খেলাপিদের সন্ধানে যান। ইসলামী ব্যাংকে গিয়ে তারা প্রথমেই খোঁজ নেন এ ব্যাংক থেকে কারা ঋণ নিয়েছেন, কিভাবে ঋণ নিয়েছেন, কতদিন আগে ঋণ নিয়েছেন, ঋণ গ্রহীতাদের মর্টগেজ ঠিক আছে কি না, কেন তারা ঋণ পরিশোধ করছেন না, ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয়াদি সম্পর্কে খুঁটিনাটি তদন্ত করে দেখেন। এছাড়া তারা ঋণ খেলাপিদের সঙ্গে কথা বলে ঋণ পরিশোধ না করার কারণও জানতে চান। পরে তদন্ত দলের সদস্যরা উত্তরা ব্যাংককে গিয়ে তদন্ত করেন। 

পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তকারী দল সোনালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক ও উত্তরা ব্যাংকসহ খুলনার মোট ১৮টি ব্যাংকে ঋণ খেলাপিদের ব্যাপারে তদন্ত করবেন।  ইসলামী ব্যাংক খুলনা শাখার সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপক মো. শফিউল আযম জানান, ইসলামী ব্যাংক খুলনা শাখায় ৪৫ কোটি টাকা অনাদায়ী রয়েছে। তিনি জানান, অনাদায়ী ঋণের মধ্যে আকরাম হোসেনের মালিকানাধীন কোয়ালিটি শ্রিমস এক্সপোর্ট কোম্পানি লিমিটেডের নিকট ২৮ কোটি টাকা, আরিফ গফফারের মালিকানাধীন মক্কা পোল্ট্রি ও গফ্ফার ফুড লিমিটেডের নিকট ২৩ কোটি টাকা, আইডিয়াল কেমিক্যাল অ্যান্ড প্রিন্টিংস ওয়ার্কস লিমিটেডের নিকট ১০ কোটি টাকা ও জেমি ব্রিক্স লিমিটেডের নিকট ১ কোটি ৮২ লাখ টাকা বকেয়া রয়েছে।

তিনি বলেন, উক্ত ঋণ খেলাপিদের মধ্যে আইডিয়াল কেমিক্যাল অ্যান্ড প্রিন্টিংস ওয়ার্কস লিমিটেডের মালিকপক্ষ ব্যাংকের ঋণ পরিশোধের জন্য যোগাযোগ করেছে। তবে মক্কা পোল্ট্রি ও গফ্ফার ফুড লিমিটেডের মালিক আরিফ গফ্ফারকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

ঋণ খেলাপিদের তদন্তের ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান শাখার তদন্ত দলের কর্মকর্তা ও বাংলাদেশ ব্যাংকের রিসার্চ ডিপার্টমেন্ট শাখার জেনারেল ম্যানেজার আব্দুল আওয়াল সরকার বলেন, আমরা ব্যাংকগুলোতে গিয়ে দেখছি, কিভাবে ব্যাংকগুলো থেকে ঋণ দেয়া হয়েছে, কারা ঋণ পেয়েছেন, কিভাবে ঋণ পেয়েছেন, মর্টগেজ ঠিক আছে কি না? এছাড়াও ঋণগ্রহীতাদের সঙ্গে কথা বলে ঋণ পরিশোধ না করার কারণ কি আমরা তা জানারও চেষ্টা করছি। তিনি জানান, খুলনা, রাজশাহীর বগুড়া, চট্টগ্রাম ও ঢাকাসহ দেশের চারটি বিভাগের বিভিন্ন ব্যাংকের ৭২টি শাখায় এ ধরনের তদন্ত করা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ