ঢাকা, মঙ্গলবার 25 October 2016 ১০ কার্তিক ১৪২৩, ২৩ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

হতদরিদ্রদের চাল কালোবাজারে সরকারের শুভ উদ্যোগ ব্যর্থ হচ্ছে

খুলনা অফিস : খুলনা মহানগরীর খালিশপুর থানাধীন আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালের সামনে বাইপাস সড়ক থেকে ১৬ বস্তা সরকারি চাল উদ্ধার করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। চাল উদ্ধারে এএসআই মনিরের ভূমিকা নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। অপরদিকে খুলনা জেলার দাকোপ থেকে ৩ হাজার ৮০৪ কেজি চাল উদ্ধার করে কোস্টগার্ড। খুলনায় কালোবাজারে বিক্রি হচ্ছে দরিদ্রদের জন্য বরাদ্দ ১০-১৫ টাকা কেজি দরের চাল। এভাবে চলতে থাকলে সরকারের সুনাম দারুণভাবে ক্ষুণœ হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, রোববার রাতে আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালের সামনের সড়ক থেকে দুইটি ইজিবাইকে করে ১৬ বস্তা চাল নিয়ে যাওয়ার সময় এলাকাবাসী চালসহ দুই ক্রেতাকে আটক করে। পরবর্তীতে পুলিশকে খবর দিলে খালিশপুর থানার এএসআই মনির ঘটনাস্থলে যান। সেখানে এলাকাবাসী আটককৃত ওই দুই ব্যক্তিকে এএসআই মনিরের কাছে সোপর্দ করে। মনির তাদের দুইজনকে নিয়ে যান। কিছু সময় পর ফিরে এসে এসআই মনির বলেন, চাল উদ্ধারের ঘটনায় আটক কোন ব্যক্তি তার হেফাজতে নেই। এসআই মনিরের এ বক্তব্যে এলাকাবাসী তীব্র প্রতিবাদ ও ক্ষোভ জানায়। এখবর পেয়ে সেখানে যান খালিশপুর থানার এসআই সুজিত। তিনি গিয়ে ইজিবাইকসহ ১৬ বস্তা চাল উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যান। এ সময় এলাকাবাসী এএসআই মনিরের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।

বাস্তুহারা এলাকার বাসিন্দা খালিশপুর থানা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক বাবলু জানান, মদিনাবাগ এলাকার ওএমএস ডিলার জুলেখা বেগমের ১৬ বস্তা চাল এলাকাবাসী আটক করার পর তাকে সংবাদ দেয়া হয়। তিনি আওয়ামী লীগ নেতা দুলাল আহমেদ, খান নুরুজ্জামান, জুয়েল হোসেন দিপু, মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মনিরা বেগম মতিসহ বাস্তুহারা এলাকার আরো কয়েকজন চার রাস্তা মোড়ে ঘটনাস্থলে যান। এলাকাবাসী ডিলার জুলেখা বেগমরে চাল পাচার করার বিচার ও চাল ক্রেতাকে ছেড়ে দেয়ার অভিযোগে মিছিল বের করে। এ সময় চার রাস্তা মোড়ে এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চেয়ে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিবাদ সভায় বক্তৃতা করেন দুলাল আহমেদ, এনামুল হক বাবলু, জুয়েল হোসেন দিপু, খান নুরুজ্জামান, মিনারা বেগম মতি, মো. ফরিদ, মজিবর রহমান, জাহিদুল ইসলাম, নাজমুল হক, মো. ইব্রাহিম, মো. শহিদ। 

এদিকে একটি সূত্র জানায়, সরকারের দেয়া খোলা বাজারে বিক্রির (ওএমএস) চাল বস্তা পাল্টিয়ে সাধারণ বস্তায় ভরে তা’ পাচার করা হচ্ছিলো। ওএমএস-এর চালের বস্তায় সরকারি চাল লেখা উল্লেখ থাকে। 

এলাকাবাসী জানায়, উদ্ধারকৃত ১৬ বস্তা চাল নগরীর বাস্তুহারা এলাকার জুলেখা বেগমের মালিকানাধীন মেসার্স হিমেল এন্টারপ্রাইজের। উদ্ধারকৃত চাল ডিলার সমিতির এক নেতার নেতৃত্বে ১০/১২ জন খালিশপুর থানায় তদবির করতে যান বলে জানায় একটি সূত্র। 

এ ব্যাপারে খুলনা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মাহবুবুর রহমান খানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, হিমেল এন্টারপ্রাইজের চাল উদ্ধারের বিষয়টি তার জানা নেই।

এ ব্যাপারে খালিশপুর থানার ওসি আমীর তৈমুর ইলী জানান, ১৬ বস্তা চাল উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত চাল সরকারি না কি ব্যক্তিগত তা’ যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। চালের মালিকের সন্ধান পাওয়া যায়নি। এসআই মনিরের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ওসি আরও জানান, তদবিরের মাধ্যমে চাল ছাড়ানোর কোন সুযোগ নেই। তবে ডিলার সমিতির ১০/১২ জন লোক থানায় গিয়েছিলো বলে জানান ওসি। 

অপরদিকে গত ২০ অক্টোবর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের সিজি বেইস মংলার একটি অপারেশান দল খুলনা জেলার দাকোপ থানাধীন লাউডোব খুটাখালি বাঁধ হাট সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযান চলাকালীন সময়ে অভিযান দলের একটি কাঠের নৌকা সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তল্লাশি করে এবং উক্ত নৌকায় সরকার হতে ১০ টাকা কেজি মূল্যের তিন হাজার ৮০৪ কেজি চাল আটক করে। তল্লাশিকালে বোটের উপস্থিত লোকজন পানিতে লাফিয়ে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে এলাকাবাসীর কাছ থেকে জানা যায়, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও জনপ্রতিনিধির সমন্বয়ে দুঃস্থ ও গরীবের চাল তাদের না দিয়ে অবৈধভাবে বিক্রি করছে। উদ্ধারকৃত স্বল্পমূল্যের চাল আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য খুলনা জেলার দাকোপ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। কোস্টগার্ডের আওতাধীন এলাকায় সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষায় কোস্টগার্ডের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে স্টাফ অফিসার (অপারেশা›স) লে. কমান্ডার এ এম রাহাতুজ্জামান জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ