ঢাকা, বুধবার 21 November 2018, ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

জাজিরা, নারিকেল জিঞ্জিরা, অবশেষে সেন্টমার্টিন

সাজজাদ হোসাইন খান: জেটির সম্মুখভাগের একটি অংশ ঝুলে আছে, পড় পড় অবস্থা। অন্য অংশগুলোর অবস্থাও কাহিল, ছাল বাকল উঠে গেছে। প্রথম দর্শনে মনে হবে এটি বুঝি শতবছর আগেকার তৈরী। আসলে এর জন্মসাল নাকি ১৯০৬। এত অল্প সময়ে জেটিটি ক্ষতবিক্ষত। স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত ভার বহনের কারণে এটির এমন হাল। তাছাড়া তৈরীর সময় পর্যাপ্ত মালমশলার কারচুপির কারণ তো আছেই। এই একটিমাত্র জেটিতে ভিড়ে পাঁচ-ছয়টি জাহাজ। প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল ভাবছেন স্থানীয় বাসিন্দাগণ। বিশেষ করে পর্যটন মওসুমে শত শত পর্যটকের আগমন নির্গমন বিষয়টিকে আরো জটিল করে তুলেছে। তাই তারা মনে করেন দ্বীপের অন্য প্রান্তে আরো একটি জেটি তৈরী জরুরী। এতে করে জাহাজগুলো যেমন যাত্রী উঠা নামায় সুবিধা পাবে, স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবেন যাত্রী অর্থাৎ পর্যটকগণও। পর্যটন বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রয়োজনটিকে আমলে নিলে পর্যটকদের জন্যে হবে তৃপ্তিদায়ক। সুবিন্যাসের কারণে পর্যটনের দিগন্তও হবে প্রসারিত। আর্থিক উন্নয়নের দিকটিও উন্মুক্ত হবে। ঘাটে ভিড়ার আগে কেয়ারী সিন্দাবাদ জাহাজ কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করছিলেন আমরা সেন্টমার্টিন দ্বীপে পৌঁছে গেছি, অল্পসময়ের মধ্যে জাহাজ ঘাটে ভিড়বে। আপনারা প্রস্তুতি নিন।নামতে গিয়েই হোঁচট খেয়েছিলাম জেটির চোয়াল ভাঙ্গা অবস্থা দেখে। পরে অবশ্য সেন্টমার্টিনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অন্যসব দুরবস্থা আর অব্যবস্থাকে বিলীন করে দিয়েছিল। বিশেষ করে সাগরের বিশাল বিস্তার এবং নারিকেল বৃক্ষের মনোলোভা দৃশ্য হৃদয়ের ব্যথা-বেদনাকে প্রশমিত করে মুহূর্তে।

প্রায় আড়াইশ বছর আগে এই দ্বীপটি আবিষ্কার করেছিলেন আরব বণিকগণ। তারা এই দ্বীপের নামকরণ করেন জাজিরা। আসলে দ্বীপকে আরবীতে বলা হয় জাজিরা। তখন এই দ্বীপে কোন জনবসতি ছিল কিনা তেমন কোন তথ্য নেই। স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করেন দেড়েক বছর আগ থেকেই দ্বীপে জনবসতি গড়ে উঠে। তৎকালীন আরাকানের লোকেরা একসময় দ্বীপটি আবিষ্কার করে এবং এখানে উপস্থিত হয়। বর্তমান বাসিন্দাদের অধিকাংশই তাদের উত্তরপুরুষ। বিশেষ করে রোহিংগাদের বিপুল উপস্থিতি সেই ইতিহাসকেই স্মরণে নিয়ে আসে। সেন্টমার্টিন দ্বীপের মাত্র আট কিলোমিটার পূর্বে মায়ানমার এক সময়কার আরাকান রাজ্য এবং রোসাঙ্গ শহর। রোসাঙ্গ এলাকার অধিবাসিরা রোহিঙ্গা। সম্ভবত রোসঙ্গের অপভ্রংশ হলো রোহিঙ্গা। এই রোহিঙ্গারাই নিজদেশে বর্তমানে পরবাসী। মায়ানমার সরকারের চন্ডনীতি এই জনগোষ্ঠীকে ভিটিচ্চুত করেছে। গৌতমবুদ্ধ অহিংসবাণী প্রচার করলেও তার অনুসারীরা হিংসার অনলে পুড়িয়ে মারছে মানুষ-মানবতা। দাঙ্গাহাঙ্গামায় লিপ্ত হচ্ছে বৌদ্ধবিক্ষুরা। যা কিনা কল্পনাকেও হার মানায়। কেবল বাড়িঘরেই আগুন নয় জীবন বিনাশের মতো কর্মটি করতেও দ্বিধা করছে না অহিংস বাণীর প্রচারকগণ। হিংসাই যেন বর্তমানে সে অঞ্চলের অবস্থা ব্যবস্থা। অমানুষ সুলভ আচরণই যেন সেই এলাকার একশ্রেণীর বৌদ্ধ ভিক্ষুসহ জনগণের আরাধ্য। তাছাড়া নাসাকাবাহিনীর অত্যাচার অবিচার রোহিঙ্গা বিশেষ করে রোহিঙ্গা মুসলিমদের অতিষ্ঠ করে তুলছে। প্রায়ই উঠে আসছে বিশ্ব মিডিয়ায় অত্যাচারে পিষ্ট রোহিঙ্গাদের ভয়ানক সব দৃশ্য। নিজ দেশ থেকে বিতাড়িত এবং পিতৃহারা এক রোহিঙ্গা শিশুর সাথে আলাপকালে অত্যাচারে জর্জরিত রোসাঙ্গ অঞ্চলটি কল্পনায় আসা যাওয়া করছিল। একসময়ের রোসাঙ্গ রাজদরবার (বর্তমান মায়ানমারের একটি অংশ) বাংলাদেশের বহু জ্ঞানীগুণীর পদভারে ছিল উল্লসিত। সেই উল্লাসকে নিধনের জন্যেই কি বর্তমানের এই অভব্য আয়োজন?
কক্সবাজারের হোটেল সী আলিফে রাত যাপনের পর গত শনিবার সকাল সাড়ে টায় টেকনাফের দিকে যাত্রা করি কেয়ারীর নিজস্ব বাহনে আমরা চারজন, সহধর্মিণী মাহমুদা খান ছোট ছেলে সোহরাব হোসাইন খান, শ্যালক মামুর খান এবং আমি। টেকনাফ যখন পৌঁছলাম তখন সকাল টা। সিন্দাবাদ জাহাজের নিজস্ব জেটি এটি। যাত্রীদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত ছিলেন জাহাজ কর্তৃপক্ষ এবং জাহাজ সিন্দাবাদ। দ্বীপ দেখার একটা আকাংখা ছিল বহুদিনের। যদিও বছর তিরিশেক আগে সোনাদিয়া এবং মহেশখালী দ্বীপে উপস্থিত হয়েছিলাম কতকসময়ের জন্য। এবার দিবস-রজনী অতিক্রম করব দ্বীপে। তাই মনের অনুভূতিটা ছিল ভিন্ন। জাহাজ ছাড়ল সাড়ে নটা নাগাদ, নারিকেল জিঞ্জিরার (সেন্টমার্টিন) উদ্দেশ্যে। জাহাজ সিন্দাবাদ নাফ নদীর পানি কেটে আগে বাড়ছে যেন কবি নজরুলের সেইহংসমিথুন পুবপাশে দেখা যাচ্ছিল মায়ানমারের সুউচ্চ পাহাড়, আবছা আবছা। সিন্দাবাদ যখন নাফ নদীর মোহনা পার হয়ে সাগরে উপস্থিত হলো তখন মায়ানমারের উপকূল আরো স্পষ্ট হয়ে উঠল। সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া, নাসাকাবাহিনীর ওয়াচ টাওয়ার, সোনালী রঙের প্যাগোডা, ছোটখাটো ঘরবাড়ি এবং বৃক্ষরাজির সবুজাভ দৃশ্য। যদিও জাহাজের ক্যাপটেন (কি যেন নাম বলেছিলেন স্মরণে আসছে না) বর্ণনা দিচ্ছিলেন আশেপাশের দৃশ্যসমূহের। ঘোষণা দিলেন আমরা নাফ নদীর মোহনা পার হয়ে সাগরে উপস্থিত হয়েছি। সাগর দেখার তৃষ্ণায় অনেকেই জাহাজের ডেকে এবং রেলিংয়ে ভিড় জমাল। সাগরের বিশালতার সাথে নিজ হৃদয়কে একাত্ম করল, ঢেউয়ের প্রচন্ড গর্জন শংকার দোলাচালে ফেললেও পর মুহূর্তেই তোলে আনে সাহসের চরে। পাখি উড়ছে, সাঁতার কাটছে ছোট ছোট সামুদ্রিক মাছ, দূরে একটি দুটি ডলফিন উঠছে লাফিয়ে। ভাসতে ভাসতে মনে হলো এক অপার প্রশান্তি যেন নেমে এসেছে অন্তরে, চোখে।
সিন্দাবাদ অগ্রসর হচ্ছে ঢেউয়ের সাথে যুদ্ধ করে করে। আর আমরা উপভোগ করছি এক মনোলোভা সৌন্দর্য, আল্লাহর অনুপম সৃষ্টিরহস্য। কিছু সময়ের জন্য মায়ানমারের উপকূল এবং বিশাল পাহাড়টি খুব কাছে চলে এলো। খুটিয়ে খুটিয়ে দেখছিলাম বাইনোকুলার দিয়ে সেকালের আরাকান রাজ্য, রোসাঙ্গ শহর পরে বার্মা, বর্তমানের মায়ানমার অঞ্চলের অংশ বিশেষ। রোসাঙ্গ শহর মনে আসতেই মহাকবি আলাওলের অস্তিত্ব অনুভব করলাম হৃদয়ে। কবি হয়তো এপথেই যাত্রা করেছিলেন পিতা মজলিস কুতুবের সাথে। পথে পর্তুগিজ জলদস্যুদের আক্রমণে পিতাকে হারান। নানা ঘাত-প্রতিঘাতের পর আরাকানের রোসাঙ্গ রাজদরবারে এসে হাজির হন। রাজার ঘোড়সোয়ার বাহিনীতে চাকরি পান। কবিপ্রতিভা তাকে মহীয়ান করেছিল। পদ্মাবতী কাব্য তার মহান সৃষ্টি। বারবার সে পথটি চিহ্নিত করার চেষ্টা করছিলাম। যে পথে মহাকবি আলাওল রোসাঙ্গে প্রবেশ করেছিলেন। কবি আলাওল তার পরিচয় বর্ণনা করেছেন এভাবে- ‘মজলিস কুতুব তাহাতে অধিপতি/মুই হীন দীন তান আমাত্য সন্ততি/কার্যগতি যাইতে পন্থে বিধির গঠন/হার্মাদের নৌকা সঙ্গে হৈল দরশন/ বহু যুদ্ধ আছিল শহীদ হৈল তাত/ রণক্ষতে ভোগযোগে আইলুং এথাত/কহিতে বহুল কথা দুঃখ আপনার/ রোসাঙ্গে আসিয়া হৈলুং রাজ আসোয়ার।
রোসাঙ্গ রাজ্যের প্রাসাদের অস্তিত্ব এখনো আছে কি? না কালের গর্ভে বিলীন কে জানে। রোসাঙ্গের অধিবাসীরাই কি রোহিঙ্গা নামে পরিচিত? এসব ভাবতে ভাবতে মহাকবি আলাওলের রোসাঙ্গ অতিক্রম করলাম। পেছনে দেখা যাচ্ছে টেকনাফ, টেকনাফ পাহাড়, ধোঁয়াশা ধোঁয়াশা।
সিন্দাবাদ জাহাজ যখন সেন্টমার্টিন দ্বীপে ভিড়ল তখন ঘড়ির কাঁটা দুপুর বারটা অতিক্রম করেছে। বাংলাদেশ ভূখন্ডের শেষ প্রান্ত দ্বীপ।

টেকনাফ থেকে নয় কিলোমিটার দূরত্বে সাগরের দক্ষিণে এর অবস্থান। দ্বীপের আয়তন সর্বসাকুল্যে আট বর্গকিলোমিটারের মতো। সেন্টমার্টিন একটি প্রবাল দ্বীপ। এটি পৃথিবীর একমাত্র প্রবাল দ্বীপ বলে অনেকের ধারণা। জনসংখ্যা আট থেকে নয় হাজার হবে হয়তো। ক্ষুদ্র দ্বীপটি পর্যটকদের আকর্ষণ করে তার প্রাকৃতিক শোভা এবং প্রবাল বেষ্টিত ভূখন্ডের কারণে। তাছাড়া দ্বীপের তেমন কোন স্থাপনা বা পুরাকীর্তি নেই যেসবের আকর্ষণে মানুষ এখানে ভ্রমণে আগ্রহী হবে। এরপরও পর্যটকদের পদভারে মুখরিত থাকে বিশেষ করে পর্যটন মওসুমে। সেন্টমার্টিন পর্যটকদের জন্য সুবিধা সুব্যবস্থা আছে পাশাপাশি অসুবিধারও অন্ত নাই। হঠাৎ কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে তার সু কেন ন্যূনতম চিকিৎসাও এখানে অপ্রতুল। নামেমাত্র একটি সরকারি হাসপাতাল থাকলেও সেটি একপ্রকার না থাকারই মতো। স্থানীয় বাসিন্দারা তেমনটাই জানালেন। একজন সরকারি ডাক্তার থাকলেও কালে ভদ্রে তার দেখা মিলে। অন্যান্য কর্মচারীদের অবস্থাও তথৈবচ। মাঝারি কোন অসুখ-বিসুখেও কক্সবাজারের উপরই ভরসা করে থাকে এলাকাবাসী। বলতে গেলে সরকারি তেমন কোন অফিস-আদালত এখানে নেই। রাস্তা-ঘাট মোটামুটি পরিচ্ছন্ন নিরিবিলি। এই নীরবতা পর্যটকদের বিমুগ্ধ করে। ভ্রমণে যুক্ত করে নতুন মাত্রা। তাছাড়া স্থানীয় অধিবাসীদের আন্তরিক এবং শালীন ব্যবহার নজর কাড়ার মতো।
সেন্টমার্টিনে ভ্রমণবিলাসীদের আসা-যাওয়ার কারণে আর্থিক লেনদেন বছর জুড়ে না হলেও মওসুমগুলোতে বেশ প্রবলই থাকে। কেবল হোটেল ব্যবসায়ই নয়, অন্যান্য ব্যবসায়ও গতি যুক্ত হয়। মিয়ানমার অতি নিকটে থাকায় সেখান থেকেও জিনিসপত্র আমদানি-রফতানি হয়তো হয়। বাজারে মিয়ানমারের প্রচুর মালপত্র নজরে আসে। এসব বিবেচনায় এখানে ব্যাংক ব্যবস্থা চালু করা জরুরি। তাতে পর্যটকরা যেমন সুবিধা পাবে, স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং বাসিন্দারা হবেন উপকৃত। পর্যটক স্পট হিসেবে দ্বীপটিকে চিহ্নিত করতে চাইলে এদিকটির প্রতি দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন। তাছাড়া শিক্ষা-দীক্ষার ব্যাপারেও কথা থেকে যায়। ব্যবস্থাও এখানে সুবিন্যস্ত নয়। দ্বীপের উন্নয়নের অর্থ পর্যটনের উন্নয়ন, শিল্পের উন্নয়ন। কারণ বর্তমান বিশ্বে পর্যটন একটি প্রধান শিল্প হিসেবে দাঁড়িয়ে গেছে।


পরদিন অর্থাৎ গত রোববার গিয়েছিলাম ছেঁড়া দ্বীপে। সেন্টমার্টিনেরই একটি বিচ্ছিন্ন অংশ। এটি বাংলাদেশ ভূখন্ডের শেষাংশ। জনমানবহীন অঞ্চল, প্রবালে আকীর্ণ চারদিক আর কেয়া বনের সারি। কখনো দেখিনি কেয়া ফল, সেদিন দেখলাম। অনেকটা ছোট কাঁঠাল সদৃশ। আসলে ফল মনুষ্য ভক্ষণ উপযোগী কিনা কে জানে। সাতটি পরিবার গিয়েছিলাম ছেঁড়া দ্বীপে ইঞ্জিনচালিত বোটে করে। আবার ফিরে এলাম আস্তানায়। কারণ আজই ফিরতে হবে, শেষ জাহাজ ছাড়বে বিকেল তিনটায়। আমরা উঠেছিলামপ্রাসাদ প্যারাডাইজনামের একটি রিসোর্টে। সাগরের প্রান্ত ঘেঁষে এর অবস্থান। নানা কিসিমের বৃক্ষে আচ্ছাদিত মনোরম একটি পরিবেশ। সাগরের ঢেউ এসে হুমড়ি খেয়ে পড়ছে প্রাসাদ প্যারাডাইজের সীমানায়। পরিবেশ চমৎকার হলেও বেদনার কথাও আছে একটি। সে বেদনা হলো ভাঙ্গন। সাগরের ঢেউ ভেঙ্গে নিয়ে যাচ্ছে প্রাসাদের মাটি। এমনি চলতে থাকলে বিপদের সম্ভাবনা থেকেই যাচ্ছে। এর কোন প্রতিবিধান নেই কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে। প্রাসাদ প্যারাডাইজ ইনচার্জ মোহাম্মদ নাসির জানালেন ব্যক্তি উদ্যোগে কিছু করতে গেলেও নানা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হয়। সরকারও এদিকে নজর দিচ্ছে না। সহসা এলাকাটি কোন বাঁধের আওতায় না আনলে বিপদ অত্যাসন্ন। প্রাসাদ প্যারাডাইজের পাশে আরো একটি হোটেলের অবস্থান। দুটি প্রতিষ্ঠানই এখন আতংকের প্রহর গুনছে। দ্বীপের পূর্ব-উত্তর কোণায় অবস্থানরত দুটি হোটেলসহ অন্যান্য স্থাপনাগুলো রক্ষাকল্পে প্রশাসনিক জটিলতা দ্রুত উৎরানো দরকার বলে মনে করেন দ্বীপের বাসিন্দারা।


মাছ শিকারই দ্বীপবাসীদের প্রধান পেশা। কৃষি বলতে তেমন উল্লেখ্য কিছু নেই। মরিচ নাকি প্রধান ফসল। কিছু পরিমাণ ধান চাষ হয় দ্বীপে। ইদানীং তরমুজ চাষ হচ্ছে প্রচুর। অর্থকরী ফসল বলতে এই যা। দ্বীপের প্রবীণদের ধারণা, এখানে একসময় দাপিয়ে বেড়াতো জিনরা। তারাই ছিল এই দ্বীপের স্থায়ী বাসিন্দা। এখনো নাকি এদের আলামত অনুভব করেন অনেকে। প্রত্যক্ষ করেন কেউ কেউ বিশেষ বিশেষ সময়ে। জনমানবহীন ছেঁড়া দ্বীপে হাঁটতে হাঁটতে তেমনটাই অনুভূত হচ্ছিল আমার কাছেও।
অবশেষে ফিরতে হয়, এটি জীবনেরই নিয়ম। আমাদেরও সেন্টমার্টিন ত্যাগ করতে হলো। আবার সিন্দাবাদ জাহাজ, সাগরের ঢেউ দূরে একদিকে টেকনাফ অন্যপ্রান্তে আরাকান রাজ্য অর্থাৎ মিয়ানমার। সাগরের ঢেউ গুনতে গুনতে মনে হচ্ছিল এটি সেন্টমার্টিন কেন, নারিকেল জিঞ্জিরা নামকরণ করতে অসুবিধাটা কোথায়। পৃথিবীতে মূলে ফেরার একটা প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বহু শহর নগরের নাম পাল্টে ফেলা হয়েছে ইতোমধ্যে। সেন্টমার্টিন নামটি ইংরেজদের দেয়া। স্থানীয়ভাবে এটিকে নারিকেল জিঞ্জিরাই বলে। দোকানের সাইনবোর্ডগুলোতেও নারিকেল জিঞ্জিরাই উৎকলিত আছে। তাই আজ থেকে আর সেন্টমার্টিন নয়, নারিকেল জিঞ্জিরাই হোক এর ললাট লিখন। বিষয়ে সরকারি উদ্যোগ প্রত্যাশা করতে পারে দ্বীপের বাসিন্দাসহ দেশের সমগ্র জনতা।
সিন্দাবাদ জাহাজ যতটাই উত্তরে আগে বাড়ছে ততটাই ছোট হয়ে আসছে বাংলাদেশের দক্ষিণের শেষ প্রান্ত নারিকেল জিঞ্জিরা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ