ঢাকা, বুধবার 26 October 2016 ১১ কার্তিক ১৪২৩, ২৪ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

পাকিস্তানে পুলিশ প্রশিক্ষণ কলেজে হামলায় নিহত ৬০ ॥ আইএসের দায় স্বীকার

২৫ অক্টোবর, বিবিসি/ডন/ জিও : পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের কোয়েটা শহরে একটি পুলিশ প্রশিক্ষণ কলেজে সন্ত্রাসী হামলায় অন্তত ৬০ জন ক্যাডেট ও প্রহরী নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে ১১৬ জন এবং ২০০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
গত সোমবার দিবাগত রাতে হামলাকারীরা কলেজটির হোস্টেলে ঢুকে পড়ে এবং সেখানকার বহু বাসিন্দাকে পণবন্দী করে।
পরে সেনাবাহিনী কলেজটিতে অভিযান চালিয়ে কয়েকজন হামলাকারীকে গুলী করে হত্যা করে। ধারণা করা হচ্ছে বাকীরা আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটায়।
বেলুচিস্তানের প্রাদেশিক রাজধানী কোয়েটা। এখানে বিচ্ছিন্নতাবাদী ও কথিত ইসলামিক স্টেট উভয় দলই অতীতেও এ রকম আরো হামলা চালিয়েছে। ইতিমধ্যেই এই হামলার দায় স্বীকার করেছে আইএস।
গত আগাস্ট মাসেও কোয়েটার প্রধান হাসপাতালে এক হামলায় ৭০ জন মানুষ মারা যায়।
এর আগে পাকিস্তানের পুলিশ প্রধান মেজর জেনারেল এফসি শের আফগান ঐ হামলার জন্য লস্কর-ই-জাঙ্কভি আল আলমি জড়িত থাকতে পারে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিলেন। তবে আইএস বার্তা সংস্থা আমাক এজেন্সিতে এই হামলার দায় স্বীকার করেছে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীটি।
এদিকে প্রদেশের পুলিশ প্রশিক্ষণ কলেজে হামলায় নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র জন কিরবি এক বিবৃতিতে এ নিন্দা জানান।
জন কিরবি বলেন, আমরা শহিদ পরিবারের সঙ্গে সমবেদনা প্রকাশ করছি সেই সঙ্গে হামলাকারীদের প্রতি তীব্র নিন্দা প্রকাশ করছি।
তিনি বলেন, কঠিন সময়েও আমরা পাকিস্তানের জনগণ ও সরকারের পাশে আছি। সন্ত্রসাবাদের ভয় দূর করার জন্য আমরা পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে মিলে কাজ করবো।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ গত সোমবার রাতে বেলচিস্তানের পুলিশ প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে আত্মঘাতী হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি সংশ্লিষ্টদের নিয়োগ দেয়া পুলিশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এই নিন্দা জানিয়েছেন।
নওয়াজ শরিফ স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন অপরাধীদের চিহ্নিত করতে। দুর্ঘটনার সর্বশেষ অবস্থা জানাতে তিনি স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন।
গত সোমবার গভীর রাতে বেলুচিস্তানের কোয়েটার নারিয়াব রোডের পুলিশ প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে ৫/৬ জন সন্ত্রাসী এলোপাথারি গুলীবর্ষণ করতে থাকে। বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। বিকট বিস্ফোরণ শব্দ শোনে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা প্রশিক্ষণ ক্যাম্পের চারদিকে সন্ত্রাসীদের ঘিরে ফেলে।
বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী সানাউল্লাহ জেহরিও কুয়েটায় হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। শীঘ্রই অপরাধীদের ধরা হবে বলেও জানান তিনি।
হামলার প্রত্যক্ষদর্শী একজন ক্যাডেট সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি তিনজন ব্যক্তিকে কালাশনিকভ বহন করতে দেখি তারা ছদ্মবেশ ধারণ করে চেহারা লুকিয়ে এসেছিল। তারা গুলী করতে করতে ছাত্রাবাসে প্রবেশ করে। কিন্তু আমি দেয়াল টপকে পালিয়ে আসতে সক্ষম হই।
গত সোমবার স্থানীয় সময় রাত সাড়ে নয়টার দিকে এই হামলা চালানো হয়। নিহতদের বেশিরভাগই ক্যাডেট শিক্ষার্থী। হামলার সময় সেখানে অন্তত ৭০০ ক্যাডেট উপস্থিত ছিলেন। উদ্ধারকর্মীদের বরাত দিয়ে হামলায় হতাহতের সংখ্যা নিশ্চিত করেছে পাকিস্তানের ইংরেজি দৈনিক ডন। তিন আত্মঘাতী সন্ত্রাসী বোমাবাহী পোশাক পরে প্রশিক্ষণ কলেজের মূল গেট দিয়ে ঢোকে। এ সময় গেটে দাঁড়ানো প্রশিক্ষণ কলেজের পাহারাদারদের গুলী করে হত্যা করা হয়। কলেজের ভিতরে ঢুকে এরা সেখানে জোরে বোমা বিস্ফোরণ ঘটায়। পরে প্রশিক্ষণ শিবিরে থাকা লোকজনদের জিম্মি করে। হামলার খবর জানতে পেয়ে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ও সেখানকার পুলিশ যৌথ অভিযানে নামে। আত্মঘাতী বন্দুকধারীদের সঙ্গে তাদের চার ঘণ্টাব্যাপী গুলী বিনিময় চলে। পরে দুই সন্ত্রাসী আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ ঘটায়। তৃতীয় সন্ত্রাসী নিরাপত্তাবাহিনীর গুলীতে নিহত হয়। সেনা-পুলিশ এই যৌথ অভিযানের সমাপ্তি ঘোষণা করেছে। সেনাদের কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সেখানকার স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
এর আগে ২০০৬ ও ২০০৮ সালেও সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয় ট্রেইনিং কলেজটি। সেসময় কলেজ মাঠে রকেট নিক্ষেপ করে সন্ত্রাসীরা। ৮ বছরের মাথায় আবারও আক্রান্ত হলো বেলুচিস্তানের সবচেয়ে বড় ট্রেনিং কলেজটি।
এসব হামলাকারীরা প্রতিবেশী আফগানিস্তান থেকে এসেছিল বলে দাবি পাকিস্তান কর্তৃপক্ষের। অভিযানের সময় এরা নাকি আফগানিস্তানে যোগাযোগ করছিল বলে দাবি পাকিস্তানের।
প্রাদেশিক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সরফরাজ বুগতি বলেছেন, ‘হামলার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে ফ্রন্টিয়ার কর্পসসহ নিরাপত্তা বাহিনী ছুটে গিয়ে অভিযান চালিয়েছে। অভিযানে তিন সন্ত্রাসীও নিহত হয়েছে। যদিও দু’জন আত্মঘাতী বিস্ফোরণেই প্রাণ হারিয়েছে, তৃতীয় জন নিহত হয় নিরাপত্তা বাহিনীর গুলীতে।’
তিনি আরও জানান, ‘হামলার সময় ওই কলেজে নবনিযুক্ত ৭০০ পুলিশ সদস্য ছিলেন, তাদের নিয়োগে পরবর্তী প্রশিক্ষণ চলছিল। তবে তারা এখন নিরাপদে আছেন।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ