ঢাকা, বুধবার 26 October 2016 ১১ কার্তিক ১৪২৩, ২৪ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

পৃথিবীর বায়ুমন্ডল উষ্ণ হওয়ার কারণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্র

২৫ অক্টোবর, বিবিসি : সাধারণ ফ্রিজ এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রে এইচ এফ সি বা হাইড্রোফ্লোরোকার্বন নামে যে রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করা হয় তা পর্যায়ক্রমে সম্পূর্ণ বন্ধ করার জন্য একটি বৈশ্বিক চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে।
প্রায় ২শ’টি দেশ এই ‘ঐতিহাসিক’ চুক্তিতে সম্মতি দিয়েছে। রোয়ান্ডার রাজধানী কিগালিতে গত সপ্তাহে এই চুক্তিটি সই হয়েছে
বিজ্ঞানীরা বলেছেন, এইচএফসি একটি গ্রিনহাউজ গ্যাস হিসেবে কার্বন ডাইঅক্সাইডের চাইতে কয়েক হাজার গুণ বেশি শক্তিশালী এবং এটার উচ্ছেদ বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধি কমাতে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে।
ওজন স্তরকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করার জন্যে এই এইচএফসির ব্যবহার শুরু হয়েছিলো। কিন্তু এর খারাপ দিকটি হলো বায়ুমন্ডলের তাপমাত্রা বৃদ্ধির জন্যে কার্বন ডাই অক্সাইডের তুলনায় এই হাইড্রোফ্লোরো কার্বনই অনেক বেশি দায়ী।
এন্টার্কটিকার ওপরে ওজন স্তরে বড়ো রকমের গর্ত তৈরি হয়ে যাচ্ছে এই আশঙ্কায় ১৯৮৭ সালে মন্ট্রিয়াল চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিলো। ওই চুক্তির অন্যতম প্রধান একটি লক্ষ্য ছিলো ওজন স্তর ধ্বংস হয়ে যাওয়ার জন্যে দায়ী সব ধরনের ক্লোরোফ্লোরো কার্বন বা সিএফসিকে নির্মূল করা।
ক্ষতিকর এই সিএফসিকে প্রতিস্থাপন করা হয় কারখানায় উৎপাদিত হাইড্রোফ্লোরো কার্বনের সাহায্যে।
এই কেমিকেল একই কাজ করে কিন্তু পৃথিবীকে রক্ষাকারী ওজন স্তরের কোনো ক্ষতি করে না।
এর ব্যবহার শুরু করার পর ইতিবাচক ফলও দেখা দিতে শুরু করলো। বিজ্ঞানীরা বললেন, গর্ত হয়ে যাওয়া ওজন স্তর কোথাও কোথাও বুজে আসতে শুরু করেছে।
কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে এই হাইড্রোফ্লোরো কার্বনের বড় ধরনের একটি সাইড এফেক্ট আছে। এই এইচএফসি বায়ুমন্ডলের তাপমাত্রা কার্বনডাই অক্সাইডের তুলনায় কয়েক হাজার গুণ বেশি পরিমাণে ধরে রাখতে পারে।
ওজন স্তরকে অক্ষত রাখতে এই হাইড্রোফ্লোরোকার্বন সহায়তা করলেও এই রাসায়নিক উপাদান বায়ুমন্ডলের তাপমাত্রা বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছে।
পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে এয়ার কন্ডিশনারের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। আবার এয়ার কন্ডিশনারের ব্যবহার বাড়াতে বাড়ছে হাইড্রোফ্লোরোকার্বনের ব্যবহারও। এটা একটা চক্রের মতো। এক হিসেবে দেখা গেছে, প্রতিবছর এই এইচএফসির চাহিদা ১০ থেকে ১৫ শতাংশ হারে বাড়ছে।
কিগালিতে স্বাক্ষরিত এই চুক্তি অনুযায়ী পৃথিবীর সবচেয়ে সম্পদশালী দেশগুলো আগামী তিন বছরের মধ্যে এইচএফসির ব্যবহার পর্যায়ক্রমে বন্ধ করা শুরু করবে।
তবে অপেক্ষাকৃত কম উন্নত দেশগুলোকে ১৬ বছর পর্যন্ত সময় দেয়া হবে। বিজ্ঞানীদের মতে, এর ব্যবহার সম্পূর্ণ বন্ধ করা সম্ভব হলে ২০৫০ সাল নাগাদ বায়ুমন্ডল থেকে ৭০০০ কোটি টন কার্বন ডাই অক্সাইডের সমপরিমাণ গ্রীনহাউজ গ্যাস অপসারণ করা যাবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ