ঢাকা, বুধবার 26 October 2016 ১১ কার্তিক ১৪২৩, ২৪ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সংবাদপত্র ও সাংবাদিকতা জগতের বলিষ্ঠ কন্ঠস্বর সাংবাদিক গিয়াস কামাল চৌধুরী স্মরণে

সাংবাদিক এস.এম. জামাল উদ্দিন : দেশপ্রেমিক সাংবাদিক, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী ও অন্যায়, অত্যাচার, নির্যাতন, নিপীড়ন, একনায়কতন্ত্র এবং স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর, জাতীয় প্রেস ক্লাবের প্রাক্তন সভাপতি, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের প্রাক্তন সভাপতি, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) প্রাক্তন বিশেষ সংবাদদাতা, বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের প্রাক্তন সদস্য, বাংলাদেশস্থ ভয়েস অব আমেরিকার প্রাক্তন ঢাকাস্থ সংবাদদাতা অকৃত্রিম ত্যাগী সিংহপুরুষ, আপাদমস্তক, বিচক্ষণ সাংবাদিক গিয়াস কামাল চৌধুরী। বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী এই কৃতিপুরুষ বিগত ২০১৩ সালের ২৬শে অক্টোবর, শনিবার ভোরে ঢাকাস্থ আনোয়ার খান মডার্ণ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্তিকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল আনুমানিক ৭৫ বছর। তিনি সহধর্মিণী, এক ছেলে, দুই কন্যাসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। জাতীয় প্রেস ক্লাবে তাঁর মরদেহ আনা হলে সেখানে শোকের ছায়া নেমে আসে। জাতীয় প্রেসক্লাব, বি,এফ,ইউ,জে ও ডি,ইউ,জে, ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটি, বাংলাদেশ সংবাদপত্র কর্মচারী ফেডারেশন, স্বাধীন সংবাদপত্র পাঠক সমিতি বাংলাদেশসহ সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠন ও পেশাজীবী সংগঠন এবং সর্বস্তরের জনগণ ফুল দিয়ে তাঁকে শ্রদ্ধা ও ভালবাসা নিবেদন করেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে মাননীয় তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু ফুল দিয়ে সাংবাদিক নেতা গিয়াস কামাল চৌধুরীর প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। অবসরের আগ পর্যন্ত গিয়াস কামাল চৌধুরী বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) এর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ছিলেন। শেষ জীবনে তিনি দৈনিক খবরপত্রের সম্পাদক ছিলেন। আজীবন সরব মানুষটির হঠাৎ নীরব যাত্রার খবরটি যখন পাই- তখন বাংলাদেশের জনমনে চলছে চরম রাজনৈতিক অস্থিরতা, অসহিঞ্চুতা এবং অনেকটাই নাজুক পরিস্থিতি। সাধারণ নাগরিকদের মাঝে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। কখন যেন দেশে কোন না কোন নিষ্ঠুর অঘটন ঘটে! গণতন্ত্র মুখ থুবড়ে পড়লে যে মানুষটি প্রত্যক্ষ রাজনীতিবিদ না হয়েও গণতন্ত্রের স্বার্থে, মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার স্বার্থে, জীবনবাজি রেখে প্রতিনিয়ত রাজনৈতিক দলগুলোকে বুদ্ধি পরামর্শ দিয়ে, জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশকে তুলে ধরেছেন, রাজনীতিকে যেকোন একনায়কসুলভ আচরণের বিরুদ্ধে সোচ্চার, প্রতিবাদী, সাহসী, সংগ্রাম এর ধারা অব্যাহত রেখেছিলেন তিনিই আমাদের প্রাণপ্রিয় ‘গার্ডিয়ান’ অভিভাবক প্রখ্যাত ও স্বনামধন্য সাংবাদিক গিয়াস কামাল চৌধুরী। চলনে-বলনে তিনি ছিলেন সদা জাগ্রত গণতান্ত্রিক আন্দোলনের কাণ্ডারী। দেশপ্রেমিক রাজনীতিকদের জন্যে, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবীদের জন্য অতুলনীয় অগ্রপথিক। বাম-ডান সকল পন্থিদের জন্য সাংবাদিক গিয়াস কামাল চৌধুরী ছিলেন অনুকরণীয় ও অনুপ্রেরণার উৎস। রাজপথের আন্দোলনে বহু দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সামাজিক, সাংস্কৃতিক, পেশাজীবী নেতৃবৃন্দকে সাংবাদিক গিয়াস কামাল চৌধুরী সাহেব এগিয়ে চলার অনুপ্রেরণা যুগিয়েছেন। এককথায় সকলেই এটা স্বীকার করবেন এতে কোন সন্দেহ নেই। সত্যকে প্রকাশ করাই ছিল তাঁর একমাত্র সাধনা। তাঁকে আমরা সর্বদা শ্রদ্ধা করি, সম্মান করি। দেশ ও জাতির ক্রান্তিকালে গণতন্ত্রমনা জনগণকে সুন্দর-সহজ-সরল পথের সন্ধান দিতে পারতেন প্রথিতযশা সাংবাদিক গিয়াস কামাল চৌধুরী। তাঁর মৃত্যু সত্যিই আমাদেরকে ভাবিয়ে তুলেছে। সাংবাদিক গিয়াস কামাল চৌধুরী সাহেবের স্মৃতিচারণ করতে হলে আমাকে অতি সংক্ষেপে দু’তিনটি ঘটনার কথা তুলে ধরা আবশ্যক মনে করছি। ১৯৮৭-৮৮ সালের দিকে তৎকালীন স্বৈরাচারী সরকার সংবাদপত্রের কণ্ঠরোধ করার লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন সংবাদপত্র নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল। শেখ ফজলুল করিম সেলিম সম্পাদিত দৈনিক বাংলার বাণী, তৎকালীন দৈনিক ইত্তেফাক গ্রুপের প্রকাশনা সাজু হোসেন কর্তৃক প্রকাশিত সাপ্তাহিক রোববার, এ.এম.এম. বাহাউদ্দিন সম্পাদিত দৈনিক ইনকিলাব, অলি আহাদ সম্পাদিত সাপ্তাহিক ইত্তেহাদ, শফিক রেহমান সম্পাদিত যায়যায়দিন, মঈনুদ্দিন কাদেরী শওকত সম্পাদিত সাপ্তাহিক ইজ্তিহাদ, মিনার মাহমুদ সম্পাদিত সাপ্তাহিক বিচিন্তা, আহমদ মীর্জা খবীর সম্পাদিত সাপ্তাহিক জয়যাত্রা, মিজানুর রহমান মিজান সম্পাদিত সাপ্তাহিক খবরসহ বহু সংবাদপত্র নিষিদ্ধ করে দেয়া হয়েছিল। জনগণের স্বাভাবিক কথা বলার সুযোগটুকু যখন হরণ করা হচ্ছিল ঠিক তখনই ১৯৮৮ সালের ২১ অক্টোবর শুক্রবার ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে রাজপথে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংবাদপত্র দৈনিক ইনকিলাব, বাংলার বাণী, ইত্তেহাদ, রোববার, যায়যায়দিন, জয়যাত্রা, বিচিন্তা, খবর ও চট্টগ্রামের ইজতিহাদ সহ সকল পত্রিকার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি প্রখ্যাত সাংবাদিক গিয়াস কামাল চৌধুরী।       
রাজপথের এ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেছিলাম আমি সাংবাদিক এস.এম.জামাল উদ্দিন। স্বাধীন সংবাদপত্র পাঠক সমিতি আয়োজিত এ সমাবেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও বহু সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন। এখানে উল্লেখ্য যে, ‘‘সমাবেশস্থলে যখনি আমি গিয়াস ভাইকে প্রেস ক্লাবের ভেতর থেকে আনতে যাই, তখন তিনি দৈনিক ইত্তেফাকের উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন (বর্তমানে মরহুম) সাহেবের সঙ্গে একান্ত আলাপে মশগুল ছিলেন। আমার আগমন টের পেয়ে গিয়াস কামাল ভাই বললেন, কি জামাল উদ্দিন, মিলন ভাইকে দাওয়াত করেননি? হাবিবুর রহমান মিলন ভাই ছিলেন তখন অবিভক্ত বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতা। হাবিবুর রহমান মিলন ভাই সাথে সাথে গিয়াস কামাল ভাই সহ উঠে দাঁড়ালেন এবং তাৎক্ষণিক ভাবে বললেন, জামাল উদ্দিন সাহেব যেখানে গিয়াস ভাই আছেন, সেখানেই আমরা আছি। চলেন গিয়াস ভাই আপনাকে রাস্তায় চলমান সমাবেশে পৌঁছে দিই। আমি এস.এম.জামাল উদ্দিন, সাংবাদিক গিয়াস কামাল চৌধুরী ও সাংবাদিক হাবিবুর রহমান মিলন ভাইসহ একত্রে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অনুষ্ঠানে সমবেত হই। হাবিবুর রহমান মিলন ভাই এবং গিয়াস কামাল চৌধুরী সাহেবের মধ্যেকার মধুর হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্কের কথা, আন্তরিকতার কথা ভবিষ্যৎ পাঠকমহলের নিকট তুলে ধরা আমার একান্ত পেশাগত দায়িত্ব বলে আমি মনে প্রাণে বিশ্বাস করি। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সাংবাদিকদেরকে দল-মত-নির্বিশেষে সামাজিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে ভ্রাতৃত্বসুলভ আচরনটুকু বজায় রাখার জন্য বিনীতভাবে অনুরোধ জানাই। সবসময় মনে রাখতে হবে, দেশপ্রেমে উজ্জীবিত পেশাগতভাবে আমি একজন মেহনতী সাংবাদিক। মহত্ববোধ, মমত্ববোধ, মানবতাবোধ প্রতিষ্ঠা করাই বর্তমান সময়ে অত্যন্ত প্রয়োজন দেশ ও জনগণের স্বার্থে। সাংবাদিক গিয়াস কামাল চৌধুরী সাহেব আমাদেরকে সে শিক্ষাই দিয়েছেন - যে শিক্ষা মানুষ পরস্পরকে ভালোবাসতে শিখবে। দল-মতের উর্ধ্বে উঠে কাছে টেনে নিবে। ১৯৮৮ সালের ১৯শে নভেম্বর শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে স্বাধীন সংবাদপত্র পাঠক সমিতি আয়োজিত ‘‘সংবাদপত্র ও পাঠক সমাজ” শীর্ষক সেমিনারে প্রধান আলোচক জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি, বিশিষ্ট সাংবাদিক গিয়াস কামাল চৌধুরী বলেছেন; ‘‘সংবাদপত্র ফুলের বাগান নয়- কাঁটার বাগান। সংবাদপত্রের স্বাধীনতার জন্য পাকিস্তান আমল থেকে যে আন্দোলন চলছে তা আজো অব্যাহত আছে, লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত চলবে। তিনি আরো বলেছেন, সংবাদপত্রের স্বাধীনতার পূর্বশর্ত হচ্ছে নিরংকুশ গণতন্ত্র”। গিয়াস কামাল চৌধুরী সংবাদপত্র জগতে মওলানা আকরাম খান, তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া, জহুর হোসেন চৌধুরী, মজিবর রহমান খা’র মত ব্যক্তিত্বদের অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। জাতীয় প্রেস ক্লাবের উক্ত সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী জামাল উদ্দিন আহমদ। বক্তব্য রাখেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত ইত্তেহাদ সম্পাদক ভাষা সৈনিক অলি আহাদ, রাজনীতিক শফিউল আলম প্রধান, নিষিদ্ধ ঘোষিত ইজতিহাদ সম্পাদক মঈনুদ্দীন কাদেরী শওকত, ছাত্রনেতা সাইফুদ্দিন মনি, ছাত্রনেতা এম. নাছিরুল হক, স্বাসপাস আহ্বায়ক সাংবাদিক এস.এম.জামাল উদ্দিন, পার্বত্য অঞ্চল সংবাদপত্র পরিষদের সভাপতি ও দৈনিক গিরিদর্পণ সম্পাদক এ.কে.এম. মকছুদ আহমদ সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ। দৈনিক ইত্তেফাক ও নিউ নেশান সম্পাদকমন্ডলীর সাবেক সভাপতি এবং বাংলাদেশ সংবাদপত্র পরিষদের সাবেক সভাপতি ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন সেমিনারের সাফল্য কামনা করে একটি শুভেচ্ছা বাণী পাঠান। দৈনিক খবরপত্রের সম্পাদক থাকাকালীন ২০০৬ সালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে স্বাধীন সংবাদপত্র পাঠক সমিতির পক্ষ থেকে সাংবাদিক গিয়াস কামাল চৌধুরীকে শ্রেষ্ঠ সাংবাদিক সম্মাননা স্বর্ণপদক প্রদান করা হয়। বাংলাদেশ প্রেস ইন্স্টিটিউটের সাবেক চেয়ারম্যান সাংবাদিক সাদেক খান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন। স্বাধীন সংবাদপত্র পাঠক সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি সাংবাদিক এস.এম.জামাল উদ্দিন এতে সভাপতিত্ব করেন। ঐ সময় অন্যান্যের মধ্যে জাতীয় প্রেস ক্লাবের বর্তমান প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা, স্বাধীন সংবাদপত্র পাঠক সমিতির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক ও সমিতির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাংবাদিক মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন। সাংবাদিক গিয়াস কামাল চৌধুরীর সঙ্গে ব্যক্তিগত বহু ‘‘স্মৃতিকথা’’ আজ বার বার মনে পড়ছে। ২০০৬ সালের মার্চ মাসে চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম সফর কালে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল প্রাক্তন চেয়ারম্যান বিচারপতি আবু সাঈদ আহমেদ ও সাংবাদিক গিয়াস কামাল চৌধুরীর সফর সঙ্গী হিসেবে পার্বত্য চট্টগ্রামে চাকমা রাজা ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায় এর বাসায় সকালে দাওয়াত খেয়ে অপরাহ্নে রাঙ্গামাটি সার্কিট হাউজে এক সভায় প্রেস কাউন্সিলের প্রাক্তন চেয়ারম্যান বিচারপতি আবু সাঈদ আহমেদ, প্রেস কাউন্সিল সদস্য সাংবাদিক গিয়াস কামাল চৌধুরী, প্রেস কাউন্সিল সদস্য সাংবাদিক মইনুদ্দীন কাদেরী শওকত, দৈনিক গিরিদর্পণ সম্পাদক এ.কে.এম. মকছুদ আহমেদ, চাকমা রাজা ব্যারিষ্টার দেবাশীষ রায়, রাঙ্গামাটির জেলা প্রশাসক জুলহাস উদ্দিন আহমেদ সহ রাঙ্গামাটির বিভিন্ন রাজনীতিক, পেশাজীবী নেতৃবৃন্দদের সঙ্গে মত বিনিময় সভায় বক্তব্য রাখার সুযোগ আমার হয়। সাংবাদিক গিয়াস কামাল চৌধুরী ১৯৩৯ সালের ২১ জুলাই ফেনীতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.এ.ডিগ্রি লাভ করেন। দীর্ঘকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য ছিলেন। ‘ঢাকা টাইমস্’ পত্রিকায় যোগদানের মাধ্যমে সাংবাদিকতা জীবন শুরু করেন। তিনি স্বাধীনতা যুদ্ধ সহ প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন, সাংবাদিকতা পেশার উৎকর্ষ সাধন এবং পেশার আন্দোলনে তার ভূমিকা ছিল অনন্য। দীর্ঘদিন ভয়েস অব আমেরিকার (ভোয়া) ঢাকা সংবাদদাতা হিসেবে তিনি ছিলেন অতি পরিচিত। সাংবাদিকতায় অনন্য ভূমিকার জন্য তিনি রাষ্ট্রীয় একুশে পদকে ভূষিত হন। ১৯৬৪ সালে ইত্তেফাক গ্রুপ থেকে প্রকাশিত ঢাকা টাইমস্ পত্রিকায় সাংবাদিকতার মাধ্যমে তাঁর কর্ম জীবন শুরু হয়। ২০১৩ সালের ২৬ অক্টোবর শনিবার তিনি ইন্তেকাল করেন। ঐ দিন রাতে তাঁর জন্মস্থান ফেনীতেই চৌধুরী বাড়ির দিঘির পাড়ে পারিবারিক কবরস্থানে জানাযা শেষে তাকে দাফন করা হয়। পরিশেষে-তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী পালনের এদিনে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনের বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর সাংবাদিক গিয়াস কামাল চৌধুরীর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা নিবেদন করছি। মহান আল্লাহ তাঁকে জান্নাতবাসী করুন। আমিন।
লেখক : কেন্দ্রীয় সভাপতি, স্বাধীন সংবাদপত্র পাঠক সমিতি,বাংলাদেশ, সাংবাদিক গিয়াস কামাল চৌধুরী স্মৃতি পরিষদ। বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কলামিস্ট।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ