ঢাকা, বুধবার 26 October 2016 ১১ কার্তিক ১৪২৩, ২৪ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সৈয়দপুরে গুল ব্যবহারীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে

সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা : উত্তর জনপদের নীলফামারীর সৈয়দপুরে গুল ব্যবহারকারীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। বাঙালি ও বিহারীর মিশ্র শহরে গুল আসক্ত হয়ে পড়েছে নারী-পুরুষসহ শিশু-কিশোররাও। ফলে এসব মানুষের স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে। উপজেলার প্রায় ২ লাখের বেশি মানুষ গুল নামক এক তামাকজাত পণ্যে আসক্ত হয়ে পড়েছে।
গুল সেবনের পর ক্ষতিকর প্রভাবের কথা জেনেও অন্যের দেখাদেখি নারী এবং শিশুরাও গুলে আসক্ত হয়ে পড়েছে। স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর ধোঁয়াবিহীন তামাক পণ্য গুল নামক বিষ সেবন করে অজান্তেই মৃত্যুর দিকে ধাবিত হচ্ছে এসব মানুষ।
চিকিৎসকরা বলছেন, বিড়ি ও সিগারেটের চেয়ে গুল স্বাস্থ্যের জন্য অনেক বেশি ক্ষতিকর। কারণ বিড়ি ও সিগারেটের ধোঁয়ার মাধ্যমে নিকোটিনসহ অন্যান্য ক্ষতিকর পদার্থ শরীরে প্রবেশ করে থাকে। আর গুল সেবনের কারণে এসব ক্ষতিকর পদার্থ সরাসরি রক্তে গিয়ে মিশে যায়। এতে নার্ভের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ে। যারা নিয়মিত গুল ব্যবহার করে তারা ক্যান্সারসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
সূত্র মতে, ২০০৫ সালের (সংশোধিত-২০০৯) ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রন্ত্রণ আইনের ১০ ধারায় সকল প্রকার তামাকজাত পণ্যে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কতাবাণী মুদ্রণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ইতোমধ্যে দেশের অধিকাংশ সিগারেট কোম্পানি সিগারেটের প্যাকেটের দু’পাশে অর্ধেক জায়গা জুড়ে বীভৎস ছবি দিলেও বিড়ি এবং গুলের কৌটার লেবেলে এখনও বীভৎস ছবি সংবলিত সতর্ক বাণী দেয়া হয়নি।
সিগারেটের প্যাকেটে বীভৎস ক্যান্সারের ছবি দেয়ার পর ধীরে ধীরে মানুষ সচেতন হয়ে উঠছে। আর গুলসহ ধোঁয়াবিহীন অন্যান্য তামাকজাত পণ্যে এখনও এই ছবি সংযোজন না করায় মানুষজন এর কুফল না ভেবে যথেচ্ছভাবে এগুলো সেবন করে আসছে।
নীলফামারীর বাণিজ্যিক শহর সৈয়দপুরে রয়েছে অনেক গুল তৈরির কারখানা। তারা বিভিন্ন বিড়ি কোম্পানির কাছ থেকে তামাকের ডাটা কিনে তার সাথে নি¤œমানের তামাক মিশিয়ে তা গুঁড়া করে গুল তৈরি করছে। গুল তৈরি করে তারা বিভিন্ন নামে তা বাজারে ছাড়ছে। উত্তরাঞ্চলের মধ্যে সৈয়দপুরের তৈরি গুলের চাহিদাও বেশি। ফলে পুরো উত্তাঞ্চলের বাজারে ছেয়ে গেছে এখানকার তৈরি গুল।
এ ব্যাপারে সৈয়দপুর ১শ’ শয্যা হাসপাতালের সাবেক আবাসিক চিকিৎসক ও বর্তমানে নীলফামারী সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সিরাজুল ইসলাম বলেন, তামাকের মধ্যে যত ক্ষতিকর পদার্থ এর সব আছে গুলের মধ্যে।
বিড়ি ও সিগারেটের ধোঁয়ার মাধ্যমে নিকোটিনসহ অন্যান্য ক্ষতিকর পদার্থ শরীরে প্রবেশ করায় এর ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে বেশ কিছুদিন সময় লাগে।
গুল সরাসরি মুখে সেবন করায় সকল প্রকার ক্ষতিকর পদার্থ শরীরের ভেতরে গিয়ে রক্তের সঙ্গে মিশে যায়। যা খুব দ্রুত নার্ভের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে।
গুল সেবনের কারণে মুখে ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। অনেকে আছেন যারা সারাক্ষণ মুখে গুল রেখে দেন। যে স্থানে নিয়মিত গুল লাগানো থাকে ধীরে ধীরে সেই স্থানটিতে ক্ষতের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে এই ক্ষত স্থানটি ক্যান্সারে রূপ নেয় বলে তিনি জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ