ঢাকা, বৃহস্পতিবার 27 October 2016 ১২ কার্তিক ১৪২৩, ২৫ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ফুটবলে ঘুড়ে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ

নাজমুল ইসলাম জুয়েল : ফুটবলে এখন চলছে বেলা শেষের গান। দেশে ও দেশের বাইরে কোন সাফল্য নেই। বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব শেষে এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বেও ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে বাংলাদেশ। এখন আগামী তিন বছর এএফসি কিংবা ফিফার কোন ম্যাচই পাবে না। বলা যায় অনেকটা নতুন শুরু করতে হবে লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের। ঘরের মাঠে গোলশূন্য ড্র। একের পর এক সুযোগ  তৈরি করেও বল জালে পাঠানো যায়নি। আবার ভুটানের মাটিতে ৩-১ গোলে পরাজয়, বাংলাদেশের ফুটবলের যেন এটাই নিয়তিতে পরিণত হয়েছে। এখন সবকিছু নতুন করেই শুরু করতে হবে বাংলাদেশকে। সেই নতুনটা কি তা এরই মধ্যে বুঝতে শুরু করেছে। নিজেদের ঝালাই করার এর চেয়ে মন্ত্র আর কি হতে পারে। নিজেদেরকে নতুন করে প্রমাণের মঞ্চও হতে পারে এবারের নতুন শুরুটা। আর ঘুড়ে দাঁড়ানোর এই চ্যালঞ্জে জয়ী হওয়ার নতুন লড়াইয়ে নেমেছে বাংলাদেশ।
এক হারেই সব শেষ
জল্পনা কল্পনা অনেক হলেও শেষ পর্যন্ত পরাজয়ই সঙ্গী হলো বাংলাদেশের। যে ভুটানের কাছে অতীতে কখনোই হারেনি বাংলাদেশ। থিম্পুতে সেই ভুটানই কি-না বাংলাদেশের জালে দিল তিন গোল। এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের প্লে-অফ টুতে ভুটানের কাছে ৩-১ গোলে হেরে ফুটবলের সলিল সমাধিই যে হলো! ২০১৭ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ফিফা ও এএফসি’র অধীনে কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে পারবে না বাংলাদেশ। ফুটবল এখন অন্ধকারে। হারিয়ে গেছে অথৈ সাগরে। এখন ফুটবলের চেয়ারে বসা কর্তারা কী জবাব দেবেন? গত সেপ্টেম্বরে ঢাকায় প্রথম লেগে ভুটানের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্রয়েই বাংলাদেশের ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা জাগে। প্রথম লেগে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স উপহার দিলেও কাঙ্খিত গোলের দেখা পায়নি লাল-সবুজের দেশটি। তবুও থিম্পুতে ফিরতি লেগের ম্যাচ নিয়ে সবাই আশায় বুক বেঁধেছিলেন। কারণ অতীতটা যে বাংলাদেশের পক্ষেই। কখনোই এই ভুটানের কাছে হারেনি। আর অতীতে তো ভুটানকে গোলবন্যায় ভাসানোর রেকর্ডও আছে। চাংলিশিথাং স্টেডিয়ামের উচ্চতা, আর্টিফিশিয়াল টার্ফ কিংবা ঠান্ডা নিয়ে যত কথাই হয়েছিল, সব যেন কথা দিয়ে উড়িয়ে দিয়েছেন সেইন্টফিট। কিন্তু কথা আর মাঠের পারফরম্যান্স যে ভিন্ন, তা হাড়ে হাড়ে টের পেলেন মামুনুল ইসলাম-হেমন্ত ভিনসেন্ট বিশ্বাসরা। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২ হাজার ৩০০ মিটার উচ্চতায় ফুল হয়ে ফুটতে পারেননি মামুনুল ইসলামরা। বল দখলের লড়াই তো দূরের কথা, বলের জন্যই ছোটাছুটি করেছেন সবাই। রক্ষণভাগ, মধ্যমাঠ এবং আক্রমণভাগ বলে কিছুই ছিল না। ছিল শুধু ভুল পাস আর প্রতিপক্ষকে গোল উপহার। রেফারির খেলা শুরুর বাঁশি বাজতেই যেন গর্জে ওঠে ভুটান। ম্যাচের বয়স তখন মাত্র ৪ মিনিট। বিপজ্জনক খেলোয়াড় জিগমি দর্জিকে থামাতে পারেননি বাংলাদেশের কোনো খেলোয়াড়। কর্নার থেকে উড়ে আসা বল দারুণ এক হেড করে ভুটানকে এগিয়ে নেন দর্জি। সেই আনন্দের রেষ দ্বিগুণ হয় ম্যাচের ২৭ মিনিটে। এবার স্বাগতিকদের নায়ক চেনচো। যাকে নিয়ে ভীত ছিলেন বাংলাদেশের কোচ। সেই চেনচোর গোলেই ব্যবধান ২-০ করে ভুটান। বিরতির পর খেলায় ফিরে আসার চেষ্টা করে বাংলাদেশ। ৬৫ মিনিটে মামুনুল ইসলাম একটি গোল পরিশোধ করলে আশা জাগে। কারণ তখন ম্যাচটি ড্র করতে পারলেই পরবর্তী রাউন্ডে চলে যাবে তারা; কিন্তু তা হয়নি। উল্টো ৭৬ মিনিটে ব্যবধান ৩-১ করেন চেনচো। সেই ব্যবধান ৪-১ হয়নি গোলরক্ষক আশরাফুল ইসলাম রানার জন্য। ৮৩ মিনিটে চেনচোর পেনাল্টি ঠেকিয়ে দেন রানা। তাতে কী, বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের জন্য সন্ধ্যাটা হয়ে এলো হতাশার। সেই হতাশা যে থাকবে আরো তিনটি বছর।
নির্বাসনে তিন বছর
এক হারে কি হতে পারে তা বোধহয় বাংলাদেশের চেয়ে ভাল আর কেউ বলতে পারবেনা। কেন এমন হলো? ভুটানের মতো দলের কাছে লজ্জায় ডোবার পর এমন প্রশ্নটাই এখন ফুটবলাঙ্গনে। উত্তর দেওয়ার মতো যে অনেকেই আছেন। সবার ক্ষোভ বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের বর্তমান কমিটিকে নিয়ে। সভাপতি কাজি সালাউদ্দিনের দুর্বলতাকেও বড় করে দেখছেন অনেকে। আবার দেশের প্রতি খেলোয়াড়দের আন্তরিকতা নিয়েও প্রশ্ন বোদ্ধাদের মনে। এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের প্লে-অফ টুতে ভুটানের কাছে ৩-১ গোলের হারটি যে ফুটবলের ভবিষ্যৎকে অনিশ্চয়তায় ঠেলে দিয়েছে। তিন বছরের জন্য আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে নির্বাসনে বাংলাদেশ। এ তিন বছর কী হবে দেশের ফুটবলের? ভুটান ট্র্যাজেডির পর বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের বাইরে বিক্ষোভ করেছে দেশের কিছু ফুটবলপ্রেমী। অথচ ভুটানের সঙ্গে ম্যাচ জিতলে তারা বিজয়োল্লাস করতেন। মামুনুল ইসলাম-হেমন্ত ভিনসেন্ট বিশ্বাসদের ফুলের মালা গলায় পরানোর জন্য ভবনের সামনে অপেক্ষা করতেন। সেসব তরুণ এদিন এসেছেন প্রতিবাদ জানাতে। দেশের ফুটবলের চরম অধঃপতনের দিনে আর ঘরে বসে থাকতে পারেননি তারা। কোনো সংগঠনের হয়ে নয়, নিছকই ফুটবলের প্রতি ভালোবাসার টানে প্রতিবাদ জানাতে বাফুফে ভবনের সামনে অবস্থান নেন বিভিন্ন বয়সের বেশ কিছু মানুষ। প্ল্যাকার্ডে কেউ কেউ লিখেছেন, ‘মৃত ফুটবলকে শোক জানাতে আসলাম’, ‘সালাউদ্দিনকে অভিনন্দন সামনে আমরা ২০০ (র‌্যাংকিং) হবো, ‘আর কত নিচে নামলে গতি ছাড়বেন’, ‘এরপরও ফুটবলাররা মৌসুমে ৫০ লাখ পাবে’। এমন প্রতিবাদ তো ভুটানের কাছে হারের সন্ধ্যা থেকেই শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স নিয়ে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছিল। অনেকেই বাফুফে সভাপতি সালাউদ্দিনের পদত্যাগ দাবি করেছেন। মূলত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সবাই সবচেয়ে বেশি ক্ষোভ জানিয়েছেন সালাউদ্দিনের ওপর। কেউ বা বলেছেন, ভালো ফুটবলার হলেই যে ভালো প্রশাসক হওয়া যায়; তা কিন্তু নয়। তাই তো ফেডারেশনে আসা ফুটবল ভক্তদের মূল দাবি ছিল ‘ফুটবলকে বাঁচান’। কিন্তু কে বাঁচাবে ফুটবলকে। বাফুফের চেয়ারে বসার পরই কর্তারা হয়ে যান ফুটবল বিশেষজ্ঞ। সর্বশেষ নির্বাচনে এমন অনেকেই জয়ী হয়েছেন যাদের ফুটবনজ্ঞান শূন্য। আর ফেডারেশনের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা ক্লাবগুলোর কাছে অসহায়ত্ব। এর জন্য পুরো দায়ই সালাউদ্দিনের। কিংবদন্তি এ ফুটবলার বাফুফের চেয়ারে বসার পর সবাই আশায় বুক বেঁধেছিলেন। এবার অন্তত ফুটবলের উন্নয়ন হবে। তা তো হয়নি, দেখতে হয়েছে দেশের ফুটবলের সবচেয়ে বড় অধঃপতন। বারবারই প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি ফুটিয়েছেন সালাউদ্দিন। পোশাকের মতো কোচ বদল করেছেন। দুই লাখ টাকার কোচকে দিয়েছেন ১০ লাখ টাকা।
ক্ষোভের আগুন দর্শকদের মাঝে
ক্ষোভ যে কত প্রকার হতে পারে তার কিছুটা আঁচ পাওয়া গেল ভুটানের বিপক্ষে পরাজয়ের পর। ফুটবলকে ঘিরে আর কি কিছু আশা করা যায়? এই প্রশ্নটা এখন সবারই। ব্যর্থতার বৃত্তে বন্দি থাকায় ক্রীড়ামোদীরা ক্ষুব্ধ। জাতীয় দলের বেশ ক’জন সাবেক ফুটবলারের বক্তব্য ছিল দেশের ফুটবল লাইফ সাপোর্টে বেঁচে আছে। কিন্তু বাফুফের কর্মকর্তারা তা মানতে নারাজ। তাদের কথা খেলায় হারজিত থাকবেই। এনিয়ে এমন কোনো মন্তব্য করা ঠিক হবে না। যাতে খেলোয়াড়দের মনোবল ভেঙে যায়। এলেও জয়-পরাজয় নিয়েই খেলা। কিন্তু বাংলাদেশ জাতীয় দলতো শুধু হেরেই যাচ্ছে। কোনো টুর্নামেন্টে ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না। মালদ্বীপের কাছে কিছুদিন আগে বিধ্বস্ত হয়েছে। এবার শোচনীয় হার মানলো ভুটানের কাছে। অথচ নব্বই দশক পর্যন্ত শুধু জাতীয় দল নয়, বিভিন্ন টুর্নামেন্টে মোহামেডান-আবাহনীর কাছে জিততে পারত না দুই দেশ।
সত্যি বলতে কী মালদ্বীপ বা ভুটানের কাছে বাংলাদেশ হারবে এক সময় তা ভাবাই যেত না। মালদ্বীপের কাছে হারটা অবশ্য নতুন কিছু নয়। কিন্তু ভুটানের মতো দুর্বল দল বাংলাদেশকে হারায় কীভাবে? এশিয়ান কাপ প্রাক-বাছাইপর্বে ঢাকায় গোলশূন্য ড্র করে। সেক্ষেত্রে থিম্পুতে অন্তত ১-১ ড্র করতে পারলেই বাংলাদেশ বাছাইপর্বে চলে যেত। ১-৩ গোলে হারের পর এখন শুধু এশিয়ান বাছাইপর্ব নয় দীর্ঘ সময়ে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের বাইরে থাকতে হবে। ভুটানের কাছে শোচনীয় হার কোনোভাবে মানতে পারছে না ক্রীড়ামোদীরা। বাফুফের কর্মকর্তারাও এমন ব্যর্থতায় হতবাক। বর্তমান নির্বাহী কমিটির সদস্য বাফুফের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ বলেন, ‘নানা কাজে অনেক দিন ধরে আমার বাফুফে যাওয়া হয়নি। সুতরাং প্রস্তুতিটা কেমন ছিল তা আমার জানা নেই। তারপরও ভুটানের কাছে হার সত্যিই হতাশার। এখানে কোনো অজুহাত দাঁড় করান যাবে না। যাক হতাশা ঝেড়ে আমাদের নতুন করে ভাবতে হবে। ফুটবলের মতো জনপ্রিয় খেলা ধ্বংস হয়ে যাক এটা কারও কাম্য নয়।’ বাফুফে সহ-সভাপতি সাবেক নন্দিত ফুটবলার বাদল বলেন, এমন ব্যর্থতায় কি বলব ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না। হতাশায় শক্তি হারিয়ে ফেলেছি। আমরা যখন খেলতাম ম্যাচের শুরুতেই ভুটান অনুরোধ রাখত যেন কম গোল দিই। সেই ভুটানের কাছে হার তা কী মানা যায়? জাতীয় দলের সাবেক খ্যাতনামা ফুটবলার কায়সার হামিদ বলেন, ‘ভুটানে হারের পর কি আর বলব। আমি বলব ব্যর্থতার দায়ভার স্বীকার করে বাফুফে কর্মকর্তাদের পদত্যাগ করা উচিত। ভুটানের কাছে হারের পর তাদের দিয়ে ফুটবলে উন্নয়ন ঘটবে এমন কেউই বিশ্বাস করবে না।’
মানসম্পন্ন ফুটবলারের অভাবেই এমন বিপর্যয়
তারকা ফুটবলারের অভাব যেন দিনে দিনে প্রকট হচ্ছে বাংলাদেশের ফুটবলে। সেই অভাবেই মৃত অবস্থায় রয়েছে ফুটবল। প্রতিবাদী দর্শকদের একজন বলেন, ‘বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসে এর চেয়ে বাজে দিন আসেনি। বাফুফে কর্তাদের দাবি, মাঠে খেলা আছে। কিন্তু ভুটানের কাছেও হারলে এমন খেলা থাকার দরকার নেই। একাডেমি বন্ধ হয়ে আছে। তৃণমূলে খেলা নেই। এভাবে চলতে থাকলে পরবর্তী প্রজন্ম জানতেও পারবে না বাংলাদেশের ফুটবলে স্বর্ণযুগ ছিল।’ তাদের অভিযোগ, দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা নেই ফুটবলারদের। মাঠে পা বাঁচিয়ে খেলেন।’ বাফুফে ভবন যেন ছিল শোকবাড়ি; ভুটান বিপর্যয়ে বাফুফে কর্তারা কেউ ফোনকল রিসিভ করেননি, সরকারি বন্ধ থাকায় ফেডারেশনে আসেননি। ফলে দেখেননি ৮ থেকে ১০ তরুণ প্রাণের মধ্যে গোটা জাতির হতাশার ছাপ। চরম হতাশ বাফুফে সভাপতি; কারও সঙ্গে কথা বলেননি। জাতীয় দলের পেছনে বছরে ২৫ থেকে ২৬ কোটি টাকা খরচ করলেও ভুটান বিপর্যয়ের দায় এড়াতে পারবে না বাফুফে। জেলা লিগ অনিয়মিত; হলেও খেলে বহিরাগতরা, আফ্রিকানরাও খেলেন। হয় না মনিটরিং, নেই সঠিক দিক-নির্দেশনা। বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্টগুলো বন্ধ দীর্ঘদিন। অনূর্ধ্ব-১৪ বিমান কাপ টুর্নামেন্ট সর্বশেষ হয়েছে ২০০৬, অনূর্ধ্ব-১৫ জেএফএ কাপ ২০১২, অনূর্ধ্ব-১২ ডানোন-ন্যাশন্স কাপ ২০১১, জাতীয় স্কুল ফুটবল ২০১৩, অনূর্ধ্ব-১৮ সোহ্রাওয়ার্দী কাপ আরও আগে। পেশাদার লিগের ক্লাবের বয়সভিত্তিক দলের লিগ আয়োজন অন্যতম শর্ত হলেও দলগুলোর চাপে হচ্ছে না। সম্ভাবনার আলো থাকলেও এক বছর না যেতেই বন্ধ একাডেমি। গেল এপ্রিলে ফেডারেশনের নির্বাচনে সালাহউদ্দিনের ইশতেহারে ছিল, তৃণমূলের ফুটবলে জোর দেয়া, ৬ মাস পর ভ্রুক্ষেপহীন! বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ও শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপ করতে না চাইলেও নতুন করে ভাবতে হচ্ছে বাফুফেকে। জাতীয় দলের সাবেক কোচ লাভলুও জানালেন, তৃণমূলের খেলোয়াড়ে জোর দিতে হবে। নতুন খেলোয়াড় তুলে আনতে হবে। শিক্ষিত- মেধাবী কোচদের মূল্যায়ন করতে হবে, তাদের উন্নত কোর্স করানোর সুযোগ দিতে হবে। সবার আগে জরুরি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা; সেটা কখনই দেখা যায়নি। আর ভিশন শুরু করতে হবে সাফ দিয়ে। ১ বছরে সাতবার কোচ বদল! বিদেশি গোলরক্ষক কোচ, ট্রেনার, ফিজিও সবই এনেছেন। ২ থেকে ৩ হাজার ডলারের কোচ পেয়েছেন ১৪ থেকে ১৫ হাজার ডলারে। বিদেশি কোচিং স্টাফকে মোটা টাকা দিলেও কোনো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা দেখা যায়নি; সেটা দেখা যাচ্ছে কাজি সালাহউদ্দিন যুগের নবম বছরে! অস্ট্রেলিয়ান টেকনিক্যাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক ডিরেক্টর পল স্মলিকে দিয়ে ডিসেম্বর নাগাদ রোডম্যাপ তৈরির চেষ্টা চলছে, এরপর পথচলা। নতুন যুগ শুরুর আগে থাকবে গত দেড় বছরে ২৫টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে তিনটি করে জয় ও ড্রয়ের স্মৃতি। দায়ী খেলোয়াড়রাও।
সলিডারিটি কাপ খেলতেই হচ্ছে বাংলাদেশকে
ভয়ঙ্কর দুঃসময় বাংলাদেশের ফুটবলে, ১০ অক্টোবর নির্ধারণ হবে ভবিষ্যৎ। থিম্পুতে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে দ্বিতীয় প্লে-অফে ভুটানকে হারাতে না পারলে অন্তত ১-১ গোলে ড্র করবে হবে, নয়তো ঘোর অন্ধকারে চলে যাবে বাংলাদেশ; খেলতে হবে সান্ত¡নার সলিডারিটি কাপ। কিন্তু তলানির দলগুলোর টুর্নামেন্টের ঘোর বিরোধী বাফুফে সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিন। জানান, ‘ব্যক্তিগতভাবে আমি এ টুর্নামেন্টে খেলার বিপক্ষে। জাতীয় দল কমিটিকে জানাব; ভুটানের বিপক্ষে হেরে গেলে লিগ বন্ধ করে এ টুর্নামেন্টের খেলায় অংশ নেয়ার যৌক্তিকতা দেখি না।’ প্রশ্ন ছোড়েন, ভুটানের বিপক্ষে হারব কেন? আমাদের ফুটবল ও ফুটবলারের মান কি ওদের চেয়ে খারাপ?’ জাতীয় দল কমিটির চেয়ারম্যান কাজী নাবিল আহমেদ, সহ-সভাপতি বাদল রায়, দলনেতা শওকত আলী খান জাহাঙ্গীরকে নিয়ে আলোচনায় বসেছিলেন বাফুফে সভাপতি। জানান, ‘জাতীয় দলকে সবদিক থেকে সাধ্য মতো সহযোগিতা দিতে চাই, দেশের স্বার্থে খেলোয়াড়রা মাঠে তাদের সেরা নৈপুণ্য উপহার দেবে।’ গ্রুপিংও চূড়ান্ত করেছে এএফসি। ‘ক’ গ্রুপে নেপাল, পাকিস্তান ও ব্রুনাই আছে; ভুটানকে হারাতে না পারলে বাংলাদেশ খেলবে এই গ্রুপে। চাইনিজ তাইপে-তিমুর লেসতের মধ্যকার হেরে যাওয়া দলও খেলবে। ‘খ’ গ্রুপে চূড়ান্ত শ্রীলঙ্কা, ম্যাকাও, মঙ্গোলিয়া; মালদ্বীপ-লাওস ম্যাচের বিজিতরা যোগ হবে। তাই বাংলাদেশকে ইচ্ছা না থাকা সত্তেবও খেলতে হবে সলিডারিটি কাপ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ