ঢাকা, বৃহস্পতিবার 27 October 2016 ১২ কার্তিক ১৪২৩, ২৫ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

মাদকে ভাসছে স্বরূপকাঠী

এন এম দেলোয়ার হুসাইন, (নেছারাবাদ) : স্বরূপকাঠী পৌরসভা সহ উপজেলার সর্বত্র মাদক দ্রব্যের ভয়াল কড়াল গ্রাসে ভাসছে কিশোর সমাজসহ যুব সমাজের বেশীর ভাগ লোকজন।স্থানীয় সূত্র জানায় ,বর্তমানে মাদকে আসক্ত ও বিক্রেতার মাত্রা এতটাই বৃদ্ধি পেয়েছে যা বিশ্বাস করতেই কষ্ট হবে বলে কয়েক শতাধিক অভিযোগকারী জানান।
চলতি সময়ে আর্থিক ভাবে স্বচ্ছল পরিবারের ছেলে মেয়েরা সখে হোক আর বদ অভ্যাসে   হোক বর্তমানে মাদকে আসক্ত হয়ে পড়ছে দেদারছে। এছাড়াও ডিজিটাল যুগকে কাজে লাগিয়ে কিশোর সমাজের বিপদগামী কিশোর-কিশোরীরাও সখের বসে সেবন করতে গিয়ে বর্তমানে চরম নেশায় আচ্ছন্ন হচ্ছে। নাম না প্রকাশের শর্তে বিভিন্ন এলাকার লোকজন জানান,প্রকৃত ভাবে ভাল ও মার্জিত পরিবারের ছেলে মেয়েরা মাদকে আসক্ত তেমন  হয় না কিন্তু হঠকারিতা ও ঠকবাজ পরিবারের ছেলে মেয়েরা বর্তমানে মরণ নেশার জগতে হাবুডুবু খাচ্ছে। স্থানীয় পর্যায়ে জন মত জরিপে দেখা যাচ্ছে, প্রকৃত ভাবে মার্জিত ও শিক্ষিত  ঘরের ছেলে- মেয়েরা মাদকে আসক্ত না হলেও বর্তমানে একটু আর্থিক অবস্থা ভাল হলেই টাকার গরমে এহেন পরিবারের ছেলেরা মাদকে আসক্ত হয়ে পড়ে বেশীর ভাগ। স্থানীয় পত্রিকা মাসিক স্বরূপ বিণ্যাশের মাদকের উপর মাঠ জরিপ ও মিডিয়া কর্মীদের  জরিপে সুস্পস্ট ভাবে দেখা গেছে ইন্দেরহাট বন্দরসহ  সোহাগদল, হাজীর পুল, সুটিয়াকাঠী, দৈহারীরর আমতলা, উরিবুনিয়া, গনকপাড়ার বিভিন্ন পয়েন্টে মাদকের আসর বসে। অপরদিকে পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডের অলি গলিতের বসে মাদকের হাট। এলাকায়  এ জাতীয় মাদক ব্যবসায় জড়িত কারা তা এলাকার বেশীর ভাগ লোকজন জানলেও কিন্তু প্রশাসন তেমন জানেনা। অন্যদিকে  মিডিয়ার লোকজন জানলেও সামাজিক ভাবে না দেখার ভ্যান করে বা অন্য  কিছুর ধান্দার কারণে না দেখার অভিনয় করে।
অপর দিকে প্রশাসনই একমাত্র ভরশা যা মাদক বন্ধে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারে কিন্তু মাঝে মাঝে টুকটাক অভিযান হয় নাম মাত্র। একমাত্র প্রশাসনই কাজ করতে পারে মাদক নিয়ন্ত্রণে কিন্তু কিছু অসৎ কর্মকর্তার কারণে মাদক রোধ করা সম্ভব হয়ে উঠেনা। অবশ্য গত সপ্তাহে সবুজ ও কৃষ্ণ দাশকে মাদক বিক্রির দায়ে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় প্রশাসনের কিছু সাহসী অফিসারের কল্যানে। স্থানীয় আর এক সূত্র জানান, বর্তমানে রাজনীতির ঢাল ব্যবহার করে এক ধরনের ভদ্রবেশী ও নামধারী লোকজন প্রকাশ্যে বা আবডালে বীরদর্পে রমরমা ভাবে মাদক ব্যবসা করে যাচ্ছে সুকৌশলে। নাম না প্রাকশের শর্তে ইন্দেহাটের বহু ব্যক্তি জানান,আমাদের এ বন্দরে কে বা কারা সরাসরি মাদকে আসক্ত বা বিক্রেতা হিসাবে মাঠে রয়েছে শতভাগ লোকজন জানলেও হয়তো প্রশাসন তেমনভাবে  অবগত নয়। স্থানীয় ভাবে নাম সর্বস্ব বেশ কয়েকজন সাংবাদিক মাদকের উপর সাহস করে লিখলেও মাঝে মাঝে মাদক সেবন ও ব্যবসায়ীরা হুমকি দুমকিও পেতে হয়। অন্যদিকে উপজেলা মাদক মুক্ত সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ডাঃ ডি হুসাইন  জানান,মাদক ব্যবসা বন্ধ করতে হলে প্রথমে নিজেকে মাদক মুক্ত করতে হবে আর অন্তরের  লোভকে চিরতরে বর্জন করতে হবে। অনুরূপ ভাবে এলাকার সকল সচেতন লোক সহ প্রশাসনকে নীতিগত ভাবে এগিয়ে আসতে  হবে মাদক নিয়ন্ত্রণে। এ ব্যাপারে উপজেলার এক  সাবেক কাউন্সিলর জানান,মাদক নিয়ন্তণে দ্রুত বিচারব্যবস্থা না থাকায় বার বার আইনের ফাঁক ফোকড় দিয়ে পেশাধারী মাদক ব্যবসায়ীরা তিন মাস বা ছয় মাস জেলে থাকার পর আবার  প্রকাশ্যে বীরের মত ঘোরাফেরা করে মাদক ব্যবসা করে। স্থানীয় ভাবে জনমত জরিপে দেখা গেছে,মাদকের কারণে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে সর্বত্র ছিনতাই ও চুরি বেড়েই চলছে যত্রতত্র ভাবে। লজ্জার ব্যাপারে এ চুরিতে আবার সমাজের রাঘব বোয়ালের ছেলেরাও জড়িত থাকার বহু প্রমাণ পাওয়া গেছে। স্থানীয় আর এক সূত্র জানায় বর্তমানে স্বরূপকাঠীর মধ্যে  গাজা ফজলুর মত শতে শতে প্রতিটি এলাকায় ফজলুর তৈরী হয়েছে। বর্তমানে গাজা ও ইয়াবার বাজার বেশ রমরমা রয়েছে কেননা এ গুলো সহজে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সহজ ভাবে সরবারহ করা যায় প্রশাসনকে ফাঁকি দিয়ে। এছাড়াও এ সময়ে ইয়াবার চাহিদাই শীর্ষেই  রয়েছে আর স্কুল-কলেজ এর উঠতি বয়সের  অতি উৎসাহী  ছেলেরা এ মরণ নেশায় ঢুকে পড়ছে। এছাড়াও সেক্স টনিক হিসাবেও ইয়াবার ব্যবহার বাড়ছে। 
বর্তমানে একটা বড় চক্র বিনিয়োগ খাটিয়ে রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হচ্ছে। এছাড়াও  নামধারী কিছু লোক  লেখালেখি না করতে পারলেও কিছু নাম স্বর্বস্য  অক্ষাত পত্রিকার স্টাফদের  যোগ সাজসে কার্ড নিয়ে মাদক ব্যবসা করার লাইসেন্সও পাচ্ছে  মাদক নামধারী  কর্মীরা। এ ব্যাপারে প্রশাসনের সাথে আলাপ কালে প্রশাসন মিডিয়াকে জানান,আসলে আমরা আমাদের সাদ্য মতো কাজ করে যাচ্ছি মাদক নিয়ন্তণে । তবে নেছারাবাদে আগামী দু-এক বছরের মধ্যে সর্বত্র মাদক মুক্ত সম্ভব হবে যদি প্রতিটি এলাকার অভিভাবকরা শতভাগ সচেতন হয়। পাশাপাশি স্থানীয় সাংবাদিকগণও অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে আর সর্বপরি আইনের ধারা ক্ষেত্র বিশেষে পরিবর্তন হলেই শতভাগ মাদক নিয়ন্ত্রণ সম্ভব স্বরূপকাঠী সহ সমগ্র ইউনিয়নের মধ্যে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ